খুঁজুন
, ,

কক্সবাজারে স্থায়ী সংরক্ষণাগার স্থাপনের উদ্যোগ

লবণ আমদানির অজুহাত আর নয়’ প্রান্তিক চাষির স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে শিল্প মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
লবণ আমদানির অজুহাত আর নয়’ প্রান্তিক চাষির স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে শিল্প মন্ত্রণালয়
শেয়ার করুন

দেশের লবণ শিল্প নতুন এক অধ্যায়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে চলা এ খাতে এবার সরকারের নজর পড়েছে বাস্তব সমস্যার মূল কেন্দ্রে—প্রান্তিক লবণচাষি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায়।

শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কক্সবাজারে একটি আধুনিক ও স্থায়ী লবণ সংরক্ষণাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত লবণ সারা বছর সংরক্ষণ করা যাবে, যা প্রান্তিক চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে এবং দেশের লবণ স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে আরও সুসংহত করবে।

বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ লবণ উৎপাদিত হয় কক্সবাজারে—বিশেষ করে চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ ও সদর উপজেলার উপকূলজুড়ে বিস্তৃত লবণক্ষেতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই লবণচাষিরা বছরের অর্ধেক সময় রোদে পুড়ে, কাদায় মিশে পরিশ্রম করলেও মৌসুম শেষে ন্যায্যমূল্য পান না। সংরক্ষণাগারের অভাবে বাধ্য হয়ে লবণ বিক্রি করতে হয় কম দামে।

চাষিদের অভিযোগ, মিল মালিক ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে বছরের পরিশ্রম অনেক সময় লোকসানে শেষ হয়।

চকরিয়ার একজন প্রবীণ লবণচাষি নুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন,“লবণ তুলি আমরা, কিন্তু দাম ঠিক করে শহরের অফিসে বসে যারা, তারা। একবার সংরক্ষণাগার হলে আমরা অন্তত নিজের লবণ নিজের দামে বিক্রি করতে পারব।”

একই কথা বলেছেন, মহেশখারীর লবণ চাষি আনোয়ার হোসেন।তিনি বলেন চাষিরা লবণ চাষ করলেও লাভের মুখ দেখছে না। মধ্যখানে মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ও দালাল মাফিয়া চক্র ব্যবসায় লাভবান হচ্ছে। এ ছাড়াও পর্যাপ্ত লবণ মজুদ থাকার পর লবণ আমদানি করে দেশের লবণ শিল্প ধবংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।

কোনো অজুহাতে লবণ আমদানি নয়:

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এ টি এম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিসিকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক পর্যালোচনা সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন,“বাংলাদেশ লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোনো অজুহাতে খাবার লবণ আমদানি করতে দেওয়া হবে না। সরকারের কঠোর অবস্থান আছে এ বিষয়ে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। উপস্থিত ছিলেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নিজামউদ্দিন আহমেদ, সরকারি কর্মকর্তা, মিল মালিক ও প্রান্তিক চাষি সমিতির নেতারা।সভায় বর্তমান মজুত, উৎপাদন ব্যয়, ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, বাজার ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন সংকট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

সংরক্ষণাগার হলে বদলে যাবে পুরো চিত্র:

কক্সবাজারের লবণ শিল্পের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো — সংরক্ষণ অবকাঠামোর অভাব। লবণ মৌসুম শেষ হওয়ার পর বৃষ্টিতে, বাতাসে, কিংবা জায়গা সংকটে প্রচুর লবণ নষ্ট হয়ে যায়।

শিল্প সচিব সভায় জানান,“যদি উপযুক্ত জমি পাওয়া যায়, কক্সবাজারেই একটি আধুনিক লবণ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত লবণ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যাবে, দাম ওঠানামা কমবে, এবং চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষণাগার হলে লবণ উৎপাদনশীলতা বাড়বে অন্তত ২০ শতাংশ, এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য কমবে।

সভায় আলোচনায় উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন জেলায় লবণ পরিবহনের সময় মহাসড়কে লবণপানি পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সচিব বলেন,
“এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমরা পরিবহন ব্যবস্থায় প্যাকেজিং ও ঢাকনা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করব, যাতে সড়কে লবণপানি না পড়ে দুর্ঘটনা না ঘটে।”

সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে লবণনীতি চূড়ান্তের পথে:

বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,
“লবণ শুধু কৃষিপণ্য নয়, এটি একটি শিল্প উপাদান। তাই এর জন্য আলাদা ‘জাতীয় লবণনীতি’ প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন—সব পর্যায়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকে।”জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন,“কক্সবাজারের অর্থনীতি লবণের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। চাষিদের টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন এ শিল্পে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনতে সচেষ্ট।”

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়। এর ৯০ শতাংশই কক্সবাজারে। কিন্তু বাজারে চাহিদা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় প্রায়ই দেখা দেয় কৃত্রিম সংকট বা মূল্যহ্রাসের ধাক্কা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সংরক্ষণাগার স্থাপন, মিল আধুনিকায়ন, ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন হলে এই শিল্প শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, বরং রপ্তানিযোগ্য খাতে পরিণত হতে পারে।তবে তারা সতর্ক করেছেন— সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন যেন মাঠপর্যায়ের চাষিদের বাস্তব উপকারে আসে, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে না পড়ে।

চাষিদের প্রত্যাশা : ঘোষণার পর এবার বাস্তবায়নের দাবি:

সভা শেষে প্রান্তিক লবণচাষি রশিদা বেগম বলেন,
“আমরা অনেক সভা, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি। কিন্তু মাঠে পরিবর্তন আসেনি। এইবার যদি সংরক্ষণাগার হয়, তাহলে হয়তো আমাদের সন্তানরাও এই পেশায় থাকতে চাইবে।”চাষিদের এমন প্রত্যাশার মাঝেই কক্সবাজারের লবণক্ষেত যেন নতুন আশার আলোয় ভেসে উঠছে।
সরকারের ঘোষিত উদ্যোগ যদি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের লবণ শিল্প নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে—যেখানে চাষির ঘামের দাম ফিরবে, আর ‘লবণ আমদানির অজুহাত’ হয়ে উঠবে অতীত ইতিহাস।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।