খুঁজুন
, ,

নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার

শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত জামায়াত নেতার ভাইকে রক্ষায় বিএনপির নেতার হুমকি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত জামায়াত নেতার ভাইকে রক্ষায় বিএনপির নেতার হুমকি
শেয়ার করুন

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ১৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে সালিশে এক লাখ টাকার মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর স্বজনদের। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সেন্টমার্টিনে শিশু ধর্ষণে অভিযুুুুক্ত জামায়াত নেতার ভাইকে রক্ষায় বিএনপির নেতা ও প্রভাবশালীদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার এলাকা ছাড়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে সংঘটিত ঘটনাটির বিষয়ে শনিবার দুপুরে শিশুটির মা সমকালকে জানান, তাদের ১৪ বছর বয়সী শিশুকে জিম্মি করে ধর্ষণ করে প্রতিবেশি আলী হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল-মামুন (৩৫)।

ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, ‘মুরগি আনতে গিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে আব্দুল্লাহ। ঘটনার পর বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করায় মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে সে কাঁদতে কাঁদতে তার সঙ্গে হওয়া ঘটনার বর্ণনা দেয়।

 

বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, ‘অভিযুক্ত আবদুল্লাহ এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। ঘটনার পর থেকে প্রভাবশালীসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরুল আলম এক লাখ টাকা নিয়ে আমাদের চুপ থাকতে বলেন। আমরা এক লাখ টাকায় মেয়ের জীবন বিক্রি করতে রাজি নয় জানলে অব্যাহতভাবে নানা হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকির কারণে বর্তমানে দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র আত্মগোপনে রয়েছি।’

সমকালকে তিনি বলেন, ‘আমার টাকার দরকার নেই। কোনো ক্ষতিপূরণ চাই না, আমি মেয়ের বিচার চাই। আমরা দরিদ্র মানুষ। স্বামী জেলে। এই প্রভাবশালীদের ভয়ে থানায় যাওয়ার সাহস হচ্ছে না। মেয়েও অসুস্থ, গোপনে চিকিৎসা করাচ্ছি, কিন্তু আমি কারও থেকে কোনো টাকা নেয়নি।’

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, গত মঙ্গলবার ঘটনার দিন সমুদ্রে জোয়ারের ভাঙন দেখতে বাড়ি থেকে বের হয় শিশুটির মা। বিকেলে মুরগি খুঁজতে বের হয় তার মেয়ে। তখন ওই গ্রামের আবদুল্লাহ আল মামুন কৌশলে মেয়েকেটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করায় তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে তার সঙ্গে হওয়া ঘটনার বর্ণনা দেয় পরিবারকে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় নুর আলম, মো. নজরুল, মো. হাসিম, মো. শামসুসহ কয়েকজন মাতব্বর গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেয়। তখন বৈঠকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া সিদ্ধান্ত নেয়।

জানতে চাইলে সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ‘ধর্ষণের বিষয় নিয়ে একটি পরিবার এসেছিল। পরে তারা থানায় যাওয়ার কথা বলে ফাঁড়ি ত্যাগ করেন। কিন্তু দ্বীপে শিশু ধর্ষণের বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

দ্বীপের একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, আলী হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির এবং বর্তমান জেলা সদস্য আবদুর রহিম জিদাহীর ভাই। তাদের আরেক ভাই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহমান। দ্বীপে তারা প্রভাবশালী। ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাদের সঙ্গে মরিয়া হয়ে উঠেছেন দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলমও।

এ বিষয়ে সেন্টমর্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি সত্য না। আমি তাদের আইনী সহায়তা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। ভিকটিমের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও মিথ্যা। রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।’

ঘটনার প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আবদুল্লাহর সঙ্গে আলাপ করার জন্য কল করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তার ভাই জামায়াত নেতা আবদুর রহিম জিহাদী বলেন, ‘আমরা ১৭-১৮ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার। মূলত তারা (ভুক্তভোগীরা) আওয়ামী লীগের লোকজন। এছাড়া আমাদের সঙ্গে একটি জমির বিরোধ রয়েছে। সেটিকে কেন্দ্র করে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।’

টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ধর্ষণের কোনো ঘটনা কেউ মৌখিক বা লিখিতভাবে অবহিত করেনি। লিখিত পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘একটি ধর্ষণের খবর স্থানীয়দের মাধ্যমে শুনেছি। আবদুল্লাহ নামের এক যুবক এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের বিষয়টি দ্বীপের সবাই জেনে গেছে। এখন পরিবারটি কোথায় তা কেউ নিশ্চিত হতে পারছে না।’

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক ইনজামামুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার দাবি করে সেন্ট মার্টিনের এক শিশু হাসপাতালে এসেছে। তাকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি।’

সূত্র: সমকাল

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’