খুঁজুন
রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ, ১৪৩৩

জুলাই বিপ্লবের আদর্শকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে এনসিপি ফ্যাসিস্ট রূপ নিতে পারে-ড. মির্যা গালিব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
জুলাই বিপ্লবের আদর্শকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে এনসিপি ফ্যাসিস্ট রূপ নিতে পারে-ড. মির্যা গালিব
শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট রূপ ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. মির্যা গালিব।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারডিসিপ্লিনারি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনসোর্টিয়াম (আইআরডিসি) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লব ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে ফ্যাসিবাদী ধারায় প্রবেশ করেছে, তেমনি ভবিষ্যতে জুলাই বিপ্লবের আদর্শকেও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে এনসিপি ফ্যাসিস্ট রূপ নিতে পারে।

ড. গালিব আরও বলেন, ছাত্ররাজনীতি যদি শুধুই মাসল পাওয়ার বা পেশিশক্তি নির্ভর হয়ে পড়ে, তবে তা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আদর্শবিহীন রাজনীতি ছাত্রসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ বাইরের কোনো শক্তি নয়।

সেমিনারে ‘জুলাই বিপ্লব’কে জাতীয় রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় গুরুত্বে আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের সামনে এগোতে হবে এর ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে। কিছু রাজনৈতিক দল এখনো এই ঘোষণাপত্রের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেনি, যা দুঃখজনক।

ড. গালিব বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার জরুরি বলেও মন্তব্য করে বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে নিজস্ব নেতৃত্ব নির্বাচন অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে করতে হবে। মনোনয়ন ভিত্তিক নয়, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কমিটি গঠন করতে হবে।মার্কা দেখে নয়, যোগ্যতা দেখে ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নির্ধারণে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলো রাজনৈতিক অনিবার্যতা। ৫২ ও ৭১ এর আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আমরা ২৪শে জুলাইয়ের আরেকটি গণঅভ্যুত্থান দেখলাম। ২৪ এর নির্বাচনে বাঙালির ভোট দেওয়ার অধিকারকে হরণ করা হয়েছিল তাই এর চূড়ান্ত পরিণতি হলো ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান।এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল যুবক, ছাত্র-ছাত্রী এবং নারীরা। এই আন্দোলনের হাত ধরে ফ্যাসিবাদ থেকে এ দেশ মুক্ত হয়েছে।আমরা গণতান্ত্রিক সমাজের উত্তরণ ঘটাতে চাই।এ আন্দোলনের সবারই মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদকে পতন করা। আগামীর বাংলাদেশে আমরা প্রচলিত ধারার রাজনীতির সংস্করণ চাই।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ২০০৮ সালের নির্বাচন আমরা মতে স্বচ্ছ ছিল না। বিভিন্ন সময়ে আমাদের সুযোগ এসেছে যা আমরা হারিয়েছি। তার থেকে শিক্ষা নিয়ে জুলাইয়ের সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইআরডিসির সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হেসাইন এবং সঞ্চালনা করেন আইআরডিসির সাধারণ সম্পাদক ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ।

‘চাঁদা লাগলে চাঁদা নে, নতুন করে কমিটি দে’, পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের স্লোগান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ
‘চাঁদা লাগলে চাঁদা নে, নতুন করে কমিটি দে’, পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের স্লোগান
শেয়ার করুন

রাঙ্গামাটিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা । এ সময় তারা টাকার বিনিময়ে কমিটিতে পদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন, ‘চাঁদা লাগলে চাঁদা নে, নতুন করে কমিটি দে’। শনিবার (২ মে) রাতে ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর নেতাকর্মীদের একাংশ ক্ষোভ জানানো শুরু করেন।

 

রবিবার (৩ মে) শহরের পৌরসভা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাঠালতলী বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। সড়কে টায়ার জ্বালিয়েও প্রতিবাদ জানান নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, কমিটিতে বিবাহিত, অছাত্র ও শহরের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

 

বিক্ষোভে নতুন কমিটির সহসভাপতি নূর তালুকদার মুন্না, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শাকুর জাভেদ, যুগ্ম সম্পাদক মোখতার আহমেদ ও পারভেজ হোসেন সুমন, প্রচার সম্পাদক আব্দুল আহাদকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। নূর তালুকদার মুন্না বলেন, যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তিনি শহরের নেতাকর্মীদেরই চেনেন না। তাকে মেনে নেওয়া হবে না।

 

 

পারভেজ হোসেন সুমন বলেন, ‘টাকা ও আইফোনের বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। অবিলম্বে কমিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। ছাত্রদলকে শক্তিশালী করতে হলে নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে কমিটি করতে হবে।’

 

 

 

অভিযোগের বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সভাপতি অলি আহাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছাত্রদল বড় সংগঠন। সবারই ত্যাগ আছে, কিন্তু সবাইকে একসঙ্গে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। যারা পদ পাননি, তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্বাভাবিক।’ সবাইকে সংগঠনের শৃঙ্খলা মেনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার আহবান জানান তিনি।

 

 

শনিবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের স্বাক্ষরে ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে মো. অলি আহাদকে সভাপতি, নাঈমুল ইসলাম রনিকে সাধারণ সম্পাদক এবং গালিব হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

ফেসবুকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ পোস্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ পোস্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
শেয়ার করুন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখে পোস্ট দেওয়ায় এক ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

শনিবার (২ মে) পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জ্বল ও সদস্য সচিব শাহিন আলম জনি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পাকুন্দিয়া উপজেলা শাখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার ১০ নম্বর সুখিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোনায়েম খাঁনকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

 

এতে আরও বলা হয়, উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন এবং সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জ্বল বলেন, ফেসবুকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখে পোস্ট দেওয়া, সাংগঠনিক কাজে না পাওয়াসহ সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

‘পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই’ আওয়ামী লীগেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সাকিব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
‘পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই’  আওয়ামী লীগেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সাকিব
শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তবুও আওয়ামী লীগেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সাকিব। দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

 

 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগের প্রতিই নিবেদিত কি না- এমন প্রশ্নে সাকিবের সাফ উত্তর, “সেটাই তো হওয়ার কথা (আওয়ামী লীগে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ), তাই না? আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই, ইচ্ছা নেই এবং কোনো কালেও ছিল না। আমি এই জিনিস কখনও করিনি। ঠিক আছে? আমি যদি একটা ছোট দলেও কোনো দিন নাম লিখিয়েছি তো ওই দলের প্রতি সবসময় অনুগত ছিলাম। পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।”

 

 

বর্তমানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও তা আজীবন থাকবে না বলেই জানান সাকিব। তিনি বলেন, “এখন নিষিদ্ধ, তাই বলে আজীবন নিষিদ্ধ থাকবে নাকি? আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে! এটা তো মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। দেশের একটা বড় অংশকে তো দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। হ্যাঁ, জোর করে কিছুদিন সম্ভব আটকে রাখা বা যতদিন সম্ভব দমিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু এটাতে আসলে দেশের কোনো উন্নতি বা রাজনীতির ভালো আছে বলে আমার মনে হয় না।”

 

 

একটা সময় আওয়ামী লীগও বিরোধী দলকে দমন করার চেষ্টা করেছে। এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, “এই ভুলটা যদি আমরা করে থাকি, ১০-১৫-২০ বছর আগের রাজনীতির সেই সময়ে দলের ভাবনা তো আমি জানি না, কিন্তু আমরা যদি এরকম ভুল করে থাকি, সেই ভুলেরও তো তাহলে এখন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে! পরে যদি আবার অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসে বা আমরা আসি এবং পুনরাবৃত্তি করি, তাহলে এই খেলা তো চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এগুলো শেষ করতে হবে।”