টেকনাফে সিএনজি চালক অপহরণের ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে মুক্তিপণে ছাড়
টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং শামলাপুর পাহাড়ি সড়ক থেকে সিএনজি চালক পাবেল চাকমাকে (২২) অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অপহরণের প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এই হোয়াইক্যং শামলাপুর সড়কে মোট ২৮ জন অপহৃত হয়েছেন।
ভিকটিম এর পরিবার জানান, পাবেল চাকমা প্রতিদিনের মতো সকালে শামলাপুর সিএনজি স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রী নিতে রওনা দেন। হোয়াইক্যং–শামলাপুর সড়কের মাঝপথে পৌঁছালে একদল সশস্ত্র পাহাড়ি অপহরণকারী সড়কে গাছের পেরাক দিয়ে তার সিএনজিটি থামিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় গহীন পাহাড়ের দিকে। পরে অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে মোবাইল যোগাযোগে পথমে ১০ লক্ষ মুক্তিপণ দাবি করে এর পর ৭ লক্ষ টাকা। ভিকটিমের পরিবার অবশেষে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে পাবেল চাকমাকে উদ্ধার করে।
পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় আদিবাসীদের কাজ থেকে টাকা সংগ্রহ করে বিকেলের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিলে অপহরণকারীরা পাবেলকে ছেড়ে দেয়।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। হোয়াইক্যং–শামলাপুর সড়ক দিয়ে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় এক সিএনজি চালক বলেন,আমরা প্রতিদিন এই রাস্তায় যাতায়াত করি। কিন্তু প্রতিনিয়ত পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহরণের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন ও গহীন পাহাড়ে যৌথবাহিনীর অভিযান বর্তমান সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঘটনার ব্যাপারে আমরা অবগত হয়েছি।সিএনজি চালক’কে উদ্ধারে হোয়াইক্যং শামলাপুর সড়কের গহীন পাহাড়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের চাপের মুখে পড়ে পাহাড়ি ডাকাতরা সিএনজি চালক’কে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি তদন্ত করে অপহরণকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন