প্রথম আলোর অফিস গুঁড়িয়ে দিতে হবে, তারা জঙ্গি তকমার ন্যারেটিভ তৈরি করে : ড. আব্বাসী
তাহরিকে খতমে নুবুওয়াত বাংলাদেশ-এর আমির ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেছেন, যেভাবে ১৬ বছরের দালাল ভেসে গেছে, সেভাবে আরেকটা বিপ্লবের মাধ্যমে যারা মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় তারাও ভেসে যাবে বলে।
তিনি বলেন, পশ্চিমাদের পা চাটা গোলাম প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ জঙ্গি নাটকের পক্ষে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা করেছে। মুজিবের ৩২ নম্বর যদি ভাঙা যায়, তাহলে প্রথম আলো অফিসকে মাটির সাথে গুড়িয়ে দিতে হবে। এরাই বাংলাদেশের আলেমদের জঙ্গি তকমা দেওয়ার ন্যারেটিভ তৈরি করে।
আজ শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শাপলা চত্ত্বর পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে আমরা চেয়েছিলাম একটি সুন্দর বাংলাদেশ। যেখানে থাকবে না বেইনসাফ, হানাহানি, সন্ত্রাস, খুনখারাবি।
হাজারো আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে অভ্যুত্থান পরবর্তী এই বাংলাদেশের সরকার। অথচ আজ এই বাংলাদেশে সবচেয়ে পরাধীন হচ্ছে ইসলামপন্থীরা। তাদের জঙ্গিবাদি তকমা দিয়ে পরাজিত ফ্যাসিবাদি সরকারের ভাষা এখন শোনা যাচ্ছে বর্তমান সরকারের কিছু দায়িত্বশীলদের মধ্যে।
তিনি আরো বলেন, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অথচ আমরা এটা চাইনি। পৃথিবীর ১৬টি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন কাজ করে। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি যুদ্ধবিধ্বস্ত নাকি স্বাধীন? তাহলে এখানে কেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন? তাহলে বোঝা যাচ্ছে, মার্কিন দালালরা বাংলাদেশকে যুদ্ধের দিকে ঢেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে হলেও ৫৫ হাজার বর্গ মাইলের বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জায়গায় মার্কিন আগ্রাসনকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সাইফুদ্দীন কুতুব, ফখরুদ্দীন বাইবার্স, শাহ জালাল ইয়ামানির উত্তরসূরীরা দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সশস্ত্র বিপ্লবের ডাক দিতে বাধ্য হবে।
জাতিসংঘ মানে ইউনাইটেড ন্যাশংস নাথিং বাট অ্যা ক্রিস্টিয়ান ক্লাব। জাতিসংঘ কখনো মুসলমানের জন্য কাজ করে না। অমুসলিমদের অধিকার রক্ষাই তাদের কাজ। গাজাতে বছরের পর বছর মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। সেখানে মানবাধিকার কমিশন কেন নাই? কাশ্মীরে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে, সেখানে মানবাধিকার কমিশন কেন নাই? চায়নার উইঘুরে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। সেখানে মানবাধিকার কমিশন কেন নাই?
আল্লাহ ও তাঁর শেষ নবী (সা.)-এর সম্মান ও মর্যাদার বিরুদ্ধে যারা বক্তব্য দেবে তাদের শাস্তির দাবি করলেই তাদের পক্ষে মানবাধিকার কমিশন ঢাল হয়ে দাঁড়াবে। খিলাফত প্রতিষ্ঠার কথা যারা বলবে, জিহাদের কথা যারা বলবে জঙ্গি তকমা দিয়ে তাদের জেলখানায় বন্দি করতে চায়। আর সুযোগ দেওয়া হবে না। একজন আলেমকে জঙ্গি তকমা দিয়ে জেলখানায় ঢুকালে জেলখানার ইটগুলো একটা একটা খুলে নেওয়া হবে। যারা শরিয়াহ রাষ্ট্র চায়, যারা জিহাদে বিশ্বাসী তাদেরকেই পশ্চিমারা জঙ্গি বলে। আর যারা বুলেট নয়, ব্যালটের পূজারি, ওইসব পীর আর মৌলভিদের পশ্চিমারা মডারেট মুসলিম বলে। তারা মডারেট মুসলিম নয়; মুনাফেক মুসলিম।
ড. আব্বাসী বলেন, জঙ্গি শব্দের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টুইন টাওয়ার হামলার পর থেকে পশ্চিমারা প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে জিহাদের বিরোধিতা করতে জঙ্গি শব্দ আমদানি করেছে। আর পশ্চিমাদের পা চাটা গোলাম প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ জঙ্গি নাটকের পক্ষে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা করেছে। সেজন্য আমি বলব, মুজিবের ৩২ নম্বর যদ্ধি ভাঙা যায়, প্রথম আলো অফিসকে মাটির সাথে গুড়িয়ে দিতে হবে। এরাই বাংলাদেশের আলেমদের জঙ্গি তকমা দেওয়ার ন্যারেটিভ তৈরি করে।
তিনি আরো বলেন, জঙ্গি মানে যোদ্ধা। জঙ্গিবিমান মানে যুদ্ধের বিমান। মুক্তিযোদ্ধারাও জঙ্গি। যেহেতু তারাও যোদ্ধা। এই শব্দের অপপ্রয়োগ শুরু হয়েছে যারা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, জিহাদের পক্ষে যারা তাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য। তা মেনে নেওয়া হবে না।
সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, এই মহাসমাবেশ থেকে ড. ইউনূসকে বলছি, শুনে রাখুন, আপনার হালুয়া-রুটির ভাগ যারা খায় তারা আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। অনতিবিলম্বে উলামায়ে কেরামকে জঙ্গি তকমা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। যেসমস্ত নির্যাতিত আলেম কারাগারে আছে তাদের মুক্তি দিতে হবে। জাতিসংঘের বিতর্কিত কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। নতুবা আমরা ‘মার্চ টু যমুনা’ দিতে বাধ্য হব।

আপনার মতামত লিখুন