খুঁজুন
বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

গত সাত মাসে নির্যাতনের শিকার হয়ে স্বামীর হাতে প্রা’ণ হারালেন ১১৩ জন নারী

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
গত সাত মাসে নির্যাতনের শিকার হয়ে স্বামীর হাতে প্রা’ণ হারালেন ১১৩ জন নারী
শেয়ার করুন

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নারী মৃত্যুর হার দিন দিন বেড়েই চলছে। নির্যাতনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে নারীরা বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন পথ। কেউ কেউ নির্যাতনের শিকার হয়ে সংসার ছাড়ছেন আবার কেউ বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। আবার কেউ নিজের ভবিষ্যৎ ও সন্তানদের কথা ভেবে দিনের পর দিন নির্যাতন সহ্য করে আসছে। কিন্তু অনেকের আবার নিজের স্বামীর কাছেই বলি হতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি হত্যার ঘটনা ঘটেছে স্বামীর হাতে। স্বামীর পরিবারের সদস্যদের হাতেও হত্যার শিকার হচ্ছেন। এমনকি নিজ পরিবারের সদস্যদের হাত থেকেও রক্ষা পাচ্ছেন না নারীরা।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতীয় নারী সুরক্ষা হেল্পলাইন ‘১০৯’-এর তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার নারীরা সহায়তা চেয়ে কল করেছে অনেকবার। এবং তাদের কাছে কল এসেছে মোট ৪৮ হাজার ৭৪৫টি।

জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর তথ্য অনুসারে, গত জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নারী নির্যাতনের ঘটনায় কল এসেছে ১৭ হাজার ৩৪১টি। এর মধ্যে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগের কল এসেছে অসংখ্যবার। শুধু স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে কল এসেছে ৯ হাজার ৩৯৪টি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অসংখ্য পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ৭ মাসে এই ঘটনা ঘটেছে ৩৬৩ টি। এর মধ্যে ২০৮ জন নারী ও শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। আর আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ১১৪ জন।

তারা বলছে, সবচেয়ে বেশি হত্যার ঘটনা ঘটেছে স্বামীর হাতে, ১৩৩ জন নারী এ হত্যার শিকার। ৪২ জন নারী স্বামীর পরিবারের সদস্যদের হাতে। আর ৩৩ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছেন নিজ পরিবারের সদস্যদের হাতে।

‘চুলায় রান্নার প্রস্তুতি চলছিল’

দুই বোনের মধ্যে বড় ছিলেন সৈয়দা ফাহমিদা তাহসিন (২৬)। ভিখারুননিসা নুন স্কুলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলেন। পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত ছিলেন তিনি। ভালবেসে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর আর পড়াশুনা করা হয় নি তাঁর। ১২ বছরের সংসারে চার সন্তান রয়েছে। কিন্তু স্বামীর হাতেই বলি হতে হলো তাঁকে।

তাঁর পরিবার জানায়, সিফাত প্রায়ই তাঁকে মারধর করতেন। সন্তানদের কথা ভেবে সব মেনে সংসার করছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা ফাহমিদার বড় সন্তানের (১১) কাছ থেকে জানতে পারে। ফাহমিদার ফুপা মোঃ শামসুদ্দোহা খান বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফাহমিদা রান্না করছিলেন। এ সময় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ফাহমিদাকে মারধর শুরু করেন সিফাত। একপর্যায়ে তাঁকে ঘরের কক্ষে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন সিফাত। দিবাগত রাত প্রায় দুইটার দিকে ফাহমিদার পরিবারকে ফোন করেন সিফাত। তিনি বলেন, ‘কেয়া (ফাহমিদার ডাকনাম) অসুস্থ, আপনারা দ্রুত বাসায় আসেন।’ প্রথমে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বলা হয়। হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, ফাহমিদা আর বেঁচে নেই। সিফাতের দাবি ফাহমিদা আত্মহত্যা করেছেন। লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান সিফাত। সন্তানদের বোনের বাসায় রেখে নিজেদের বাসা তালা দিয়ে যান।

পরিবারের সদস্যরা পুলিশ নিয়ে তালা ভেঙ্গে তাঁদের বাসায় ঢোকেন। বাসায় রান্নাঘরে রান্নার আয়োজন করে রাখা। চুলায় হাঁড়ি বসানো। হাঁড়িতে মাংস-মসলাপাতি দেওয়া। পরিবারের সদস্যরা বলেন, রান্নার আয়োজন চলা অবস্থায় সন্তানদের রেখে ফাহমিদা আত্মহত্যা করেছেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। থানায় মামলা কুরতে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। তবে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তাঁরা সন্দিহান। তাঁদের জানামতে, এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, মামলাটি নিয়ে তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। প্রধান আসামিকে (সিফাত) গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে থানায় মামলা করতে ভুক্তভোগী পরিবারের বেগ পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

পুকুরে মিলল স্ত্রীর লাশ

সিলেটের গোলাপগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় স্বামী। গত ১৮ জুন এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর স্বামী আনু মিয়া (৩৫) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। নিহত নারীর গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

স্ত্রী-সন্তানসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী, সন্তান ও স্ত্রীর বড় বোনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত এপ্রিলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হন স্বামী ইয়াছিন আলী।

পুলিশ বলে, উচ্ছৃঙ্খলতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তাঁর সৎমায়ের করা মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। ইয়াছিন মাদকাসক্ত ও বখাটে ছিলেন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গত ৮ এপ্রিল ইয়াছিন তাঁর স্ত্রীর বোনের বাড়িতে যান। পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে তিনি তাঁর স্ত্রী লামিয়া (২৩) ও স্ত্রীর বড় বোন সপ্না (৩৫) কে গলা কেটে ও শিশুসন্তান রাফসান (৪) কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তিনি লাশগুলো বস্তাবন্দী করে মাটিচাপা দেন।

‘সহিংস সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’

ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে এ ঘটনা বেড়ে চলার পেছনে অন্যতম কারণ পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক সচেতনতা, অর্থনৈতিক চাপ, দাম্পত্য কলহ, মাদকাসক্তি, যৌতুকপ্রথাসহ কঠোর আইনের অভাব ও প্রশাসনের দুর্বলতা। তাই এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। শুধু সামাজিক সচেতনতা বাড়ালেই হবে না পাশাপাশি পরিবারগুলোকেও সচেতন হতে হবে এবং প্রশাসনকে শক্ত হতে হবে, কঠোর নীতিমালা তৈরি করতে হবে ও নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে কি না তা খেয়াল রাখতে হবে। তাহলেই নারীর প্রতি সহিংসতা ও মৃত্যুহার কমানো সম্ভব হবে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এ জয় আমাদের ইতিহাসের সেরা অর্জন: জামায়াত আমির

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের বিপক্ষে এ জয় আমাদের ইতিহাসের সেরা অর্জন: জামায়াত আমির
শেয়ার করুন

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশ করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

আজ বুধবার (২০ মে) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক বিজয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচ ও ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি, আমার দল এবং দেশবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি।’

সিলেটে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৭৮ রানে পরাজিত করে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জয়ের এই নজির বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মিরপুরের পর সিলেটেও আমাদের ক্রিকেট দল যে অসাধারণ ও দুর্ভেদ্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে, তা সমগ্র জাতিকে এক অনন্য গৌরব এনে দিয়েছে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট ম্যাচ জয়ের এই রেকর্ড টাইগারদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সামর্থ্যেরই প্রমাণ বহন করে।’

পঞ্চম দিনের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘খেলার ৫ম দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বাংলাদেশের সাহসী ও মেধাবী ক্রিকেটাররা অসাধারণ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও দলগত ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিপক্ষের কঠিন প্রতিরোধ ভেঙে আমাদের ক্রিকেটাররা যে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ৭৮ রানের এই গৌরবময় বিজয় এবং অনবদ্য কৃতিত্ব দেশবাসীকে আনন্দিত ও গর্বিত করেছে।’

ক্রিকেটের এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে বলে মনে করেন তিনি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, খেলাধুলার এ ধরনের সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে। ভবিষ্যতেও দলটি এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিবৃতির শেষে বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

রামুতে প্রবাসীর সাড়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মূল হোতা শাহেদসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
রামুতে প্রবাসীর সাড়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মূল হোতা শাহেদসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রামুতে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাহেদ আহমদ (২৭) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে অভিনব কায়দায় এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন উল্টো খুন-খারাবির হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া এলাকায়।

​গত ৭ মে (২০২৬) রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর শাহেদ আহমদকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ৩ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মিনুয়ারা বেগম (২৬)।

​অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তেচ্ছিপুল খন্দকারপাড়ার বাসিন্দা মিনুয়ারা বেগমের স্বামী ইব্রাহীম খলিল দীর্ঘ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন। অভিযুক্ত শাহেদ আহমদ (২৭) ও তার মা মুর্শিদা বেগম (৫০) এবং ভাই আমিন সরওয়ার (২২) প্রবাসীর নিকটাত্মীয়। আত্মীয়তার সুবাদে এবং বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে, গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৪ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরব থেকে সর্বমোট ১০,৫০,০০০/- (দশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা শাহেদের মা মুর্শিদা বেগমের পরামর্শে মূল অভিযুক্ত শাহেদ আহমদের নিকট পাঠান প্রবাসী ইব্রাহীম খলিল।

​পরবর্তীতে ওই টাকা স্ত্রী হিসেবে মিনুয়ারা বেগমকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও শাহেদ ও তার পরিবার “আজ দেব, কাল দেব” বলে নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে এবং অদ্যাবধি কোনো টাকা ফেরত দেয়নি।

​ভুক্তভোগী মিনুয়ারা বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ৭ মে তিনি তার দেবর রাশেদসহ লম্বরীপাাড়ায় শাহেদদের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহেদ ও তার সহযোগীরা টাকা দিতে সরাসরি অস্বীকার করে। উল্টো টাকা চাইলে মারধর ও খুন-খারাবি করার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে এবং তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়।

​মিনুয়ারা বেগম জানান, শাহেদের হাত থেকে স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে টাকা উদ্ধারের বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তিনি নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। ঘটনার পক্ষে বহু সাক্ষী রয়েছে বলেও তিনি জানান।

​এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহেদ আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিনুয়ারা বেগম আমার আপন বড় মামী। আমার মামা সৌদি আরব থেকে মূলত জমি কেনার উদ্দেশ্যে আমার কাছে ১০ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মামা যখন সেখানে আইনি জটিলতায় জেলে পড়েন, তখন তার নির্দেশেই আমি মামীকে ১ লক্ষ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন আমার সৎ মামা রাশেদুল ইসলাম মামীকে জিম্মি করে আমার কাছে থাকা বাকি টাকাগুলো আত্মসাৎ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমার আপন মামার পাঠানো টাকা হাতিয়ে নিতেই সৎ মামা রাশেদুল ইসলাম মামীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় এই মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছেন।

​ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে এবং মূল অপরাধী শাহেদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রামু থানা পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান
শেয়ার করুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য একটি বিশাল আর্থিক পুরস্কার বা বাউন্টি ঘোষণা করার বিষয়ে আলোচনা করছে ইরান।

 

 

দেশটির সংসদ বা মজলিসে এই লক্ষ্যে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ’ শিরোনামে একটি নতুন বিল পাসের প্রস্তুতি চলছে, যার আওতায় মার্কিন ও ইসরায়েলি শীর্ষ নেতাদের হত্যাকারীকে ৫ কোটি ইউরো বা প্রায় ৫৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার আইনি বৈধতা দেওয়া হবে।

 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ওয়ার এবং যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর চালানো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই বিলটি আনা হচ্ছে।

 

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এই বিলটির প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরান ওয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন যে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা রাখার অপরাধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে পাল্টা পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা উচিত।

 

 

একই কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ানও ঘোষণা করেছেন যে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাতে পারবে’ এমন ব্যক্তির জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নির্ধারণের এই বিলটির ওপর খুব শীঘ্রই ইরানি পার্লামেন্টে চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

 

সংসদে এই সরকারি বিল আনার কয়েক দিন আগেই ইরানের জান্তা বা সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী মিডিয়া আউটলেট ‘মাসাফ’ দাবি করেছিল যে তারা ইতিমধ্যেই ‘কিল ট্রাম্প’ বা ট্রাম্পকে হত্যা করার একটি বিশেষ অভিযানের জন্য ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক তহবিল সুরক্ষিত করেছে।

 

এ ছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাধীন সাইবার যুদ্ধ পরিচালনাকারী হ্যাকিং গ্রুপ ‘হান্দালা’ একটি পৃথক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে মার্কিন বিচার বিভাগ তাদের সদস্যদের সন্ধান দেওয়ার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণার পাল্টা জবাব হিসেবে তারা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘নিপীড়ন ও দুর্নীতির প্রধান কারিগর’ আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। হ্যাকিং গ্রুপটি স্পষ্ট করেছে যে এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে যে কেউ ‘বাস্তব পদক্ষেপ’ নিতে পারবে, তাকেই এই অর্থ প্রদান করা হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই প্রস্তাবিত বাউন্টি আইনটি দেশটির পূর্ববর্তী যেকোনো মৌখিক হুমকি বা ধর্মীয় ফতোয়া ও প্রচারণামূলক প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে চূড়ান্তভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। গত বছর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বক্তৃতায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে তেহরান যদি তাকে হত্যার কোনো চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়।

 

এই বাউন্টি বা পুরস্কারের খবরটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের একটি সংশোধিত ও আপডেট করা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবটিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে এটি তেহরানের পূর্ববর্তী অবস্থানের চেয়ে ভালো কোনো অগ্রগতি নয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, দুই পক্ষের আলোচনা বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর অবস্থানে রয়েছে এবং এখন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ চাপ ইরানের ওপরই বর্তায়।

 

সূত্র: এনডিটিভি