খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩

১০ হাজার কোটি টাকার কাজ ঠেকেছে ২৮ হাজার কোটিতে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:০১ অপরাহ্ণ
১০ হাজার কোটি টাকার কাজ ঠেকেছে ২৮ হাজার কোটিতে
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করতে ২০১৩-১৫ সালে সমীক্ষা চালায় সুইডিশ কনসালট্যান্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ কাজের জন্য প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে জাপানের কোম্পানি মারুবেনিকে দিয়ে চালানো হয় আরেক দফা সমীক্ষা। ২০১৯ সালে প্রতষ্ঠানটি সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

 

এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ আরেকটি সমীক্ষা চালিয়ে ২০২১ সালে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেটিও যেন লাল ফিতায় বন্দি। বর্তমানে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে আরেকটি সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। যদিও একটি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্যাকেজে ইতোমধ্যে ৪৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

 

 

চার লেন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সড়ক ও জনপথের (সওজ) প্রকৌশলীরা বলছেন, ১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কটির অবশিষ্ট ১১২ কিলোমিটার দ্রুত সময়ের মধ্যে কেবল চার লেনে উন্নীত করা হলে ব্যয় হতে পারে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রকল্পের কাজ যত বিলম্বিত হবে, ব্যয়ের পরিমাণও বাড়বে। আর বাস্তবায়নাধীন সড়ক সম্প্রসারণ ব্যয় হিসেবে ধরা হলে মহাসড়ককে দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করতে ব্যয় গিয়ে দাঁড়াবে ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়।

 

সওজ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মধ্যে নগরীর বহদ্দারহাট মোড় থেকে শিকলবাহা ‘ওয়াই জংশন’ পর্যন্ত আট কিলোমিটার এবং কক্সবাজার শহর থেকে লিংক রোডের বাঁকখালী নদী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক ইতোমধ্যে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন তিন বাইপাস ও এক ওভারপাস নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ক্রস বর্ডার প্রকল্পের আওতায় চারটি সেতুর সঙ্গে যুক্ত আরও পাঁচ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ৪৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেন করার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার আগে ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-১’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় এ কাজ করা হচ্ছে।

 

সর্বশেষ বুয়েট পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে চালানো সমীক্ষা প্রতিবেদনে মহাসড়কটি উন্নয়নে দুটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। একটি হচ্ছে, বিদ্যমান সড়ক রেখে সার্ভিস রুটসহ ছয় লেনে উন্নীত করা। আরেকটি প্রস্তাবনায় ভায়াডাক্ট সড়ক (ফ্লাইওভার ধরনের সড়ক) নির্মাণ করা। সড়কের দুই পাশে বিপুল সংখ্যক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো ভাঙতে হবে। কিন্তু ভায়াডাক্ট সড়ক হলে এগুলো ভাঙতে হবে না। এ ধরনের সড়ক দিয়ে নির্বিঘ্নে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালানো যাবে। এতে বর্তমানের চেয়ে অনেক কম সময়ে কক্সবাজারে চলাচল করা যাবে। এ জন্য ভায়াডাক্ট সড়ক করার পক্ষে বেশি জোর দিয়েছিল বুয়েটের সমীক্ষা। সেটিও বাতিল করে নতুন করে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সমীক্ষা টিমে কাজ করা সড়ক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক সমকালের কাছে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ভায়াডাক্ট সড়ক করা হলে কম ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনা ভাঙতে হবে। তা ছাড়া মহাসড়কটির দুই পাশে বড় একটি অংশে রয়েছে পাহাড়। বৃষ্টিপাত হলেই সড়কে বালু জমে যায়। আবার যানবাহন চলাচলের কারণে হাতিসহ প্রাণী চলাচল ব্যাহত হয়। ভায়াডাক্ট সড়ক হলে এসব সমস্যায় পড়তে হতো না। বিদ্যমান সড়কটিও কাজে ব্যবহার করা যেত।

 

দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত রয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। টেকনাফে রয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির একমাত্র স্থলবন্দর। ফলে দেশের পূর্বমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুই লেনের সড়কটি এতটাই দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে পড়েছে, এটি এখন ‘মরণফাঁদ’। সড়কটি এমনিতেই সরু; কিছুদূর পরপর রয়েছে বিপজ্জনক বাঁক। দেশের প্রধান লবণ উৎপাদন এলাকা কক্সবাজার। সেখান থেকে আসা লবণবোঝাই ট্রাকের লবণ পানিতে পিচ্ছিল হয়ে ওঠে সড়ক। তাতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ গাড়ি চলাচল করে এই সড়কে। এসব কারণে প্রায় সময়ই সড়কটিতে দুর্ঘটনা লেগেই থাকে।

 

সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ গত ১৩ মার্চ একটি জরিপের ফল প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, এই মহাসড়কে দিনে গড়ে ২৬ হাজার ৬৮৪টি যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশই তিন চাকার গাড়ি।

 

সওজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাসচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নামেই শুধু মহাসড়ক। বাস্তবে এটি খুবই কম প্রস্থের। ১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কটির ৪০ কিলোমিটারের প্রশস্ততা মাত্র ১৮ ফুট। অবশিষ্ট অংশে ৩৪ ফুট প্রস্থ। ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসকে সাইড দিতে আরেকটি বাসকে বেগ পেতে হয়। অনেক সময় মূল সড়কের বাইরে চলে যায় বাস।

 

সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কটির চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণাংশ থেকে চকরিয়ার খুটাখালী পর্যন্ত ১১৫ কিলোমিটার সড়কে ৫০টির বেশি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এ ছাড়া ১৫টির বেশি স্থানে সড়কের ওপর রয়েছে হাটবাজার।

 

সওজের চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ সমকালকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেন করার ক্ষেত্রে কত টাকা ব্যয় হবে, নির্ভর করবে চলমান সমীক্ষার ওপর। ধারণা করা যায়, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের বাইরে সড়কের অবশিষ্ট অংশ যদি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো চার লেন করা হয়, তাহলে কমবেশি ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া ইতোমধ্যে যে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ব্যয়ের সেই অঙ্কটা যোগ করা হলে পুরো সড়কটিকে চার লেন করতে মোট ব্যয় গিয়ে ঠেকবে সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকায়। আবার যদি সড়কের ওপর থাকা হাটবাজার রক্ষায় আন্ডারপাস করা হয় কিংবা পুরো সড়ককে এক্সপ্রেসওয়ে করা হয়, সে ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে।’

সমকামিতার দায়ে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল, কারাদণ্ড

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
সমকামিতার দায়ে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল, কারাদণ্ড
শেয়ার করুন

রাজধানীর সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে সমকামিতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগে চার শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে। এক বহিরাগতসহ পাঁচজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়। ইতিমধ্যে সেই মেয়াদও শেষ হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন কলেজ শাখা ছাত্রদলের পদধারী নেতা।

 

 

শাস্তিপ্রাপ্ত চার শিক্ষার্থী হলেন বিএএএমএস (আয়ুর্বেদিক) ৩৩ ব্যাচের আহসানুল ইসলাম চৌধুরী, ৩৪ ব্যাচের মহিবুর রহমান নয়ন ও রাব্বি হোসেন ওরফে আরিয়ান শাহ রাব্বি এবং বিইউএমএস (ইউনানী) ৩৫ ব্যাচের শাহরিয়ার পলক। এদের মধ্যে আরিয়ান শাহ রাব্বি ও মহিবুর রহমান নয়ন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

 

গত ২২ এপ্রিল রাতে কলেজের মসজিদের গলি থেকে শাহরিয়ার পলককে এক বহিরাগতের সঙ্গে উলঙ্গ অবস্থায় আটক করা হয়। জেরায় তিনি ক্যাম্পাসের আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন, যাদের মধ্যে আরিয়ান রাব্বি, নয়ন ও আহসানও ছিলেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কাফরুল থানায় হস্তান্তর করে।

 

একই দিন ২৩ এপ্রিল জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ছাত্রাবাস থেকে তাদের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোস্টেল সুপার ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মকছেদ আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমকামিতায় আসক্ত সন্দেহে তাদের থানায় সোপর্দ এবং আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, জেরায় অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে উদ্বেগজনক তথ্য বের হয়ে আসে। তারতা দাবি, এই চারজন প্রায় ৪০টি সমকামী গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া হোস্টেলের অন্য শিক্ষার্থীদের সমকামিতায় প্রলুব্ধ করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আরিয়ান রাব্বির ডেস্ক থেকে যৌনচর্চায় ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের অর্ধনগ্ন ছবি তুলে সমকামী গ্রুপে শেয়ার করার প্রমাণও মিলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

একই শিক্ষক আরও জানান, আটক একজন শিক্ষার্থী এইডসে আক্রান্ত এবং অনুরূপ কর্মকাণ্ডের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়ে এই ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ২৮ ও ৩৩তম ব্যাচের আরও অন্তত তিনজনের নাম উঠে এসেছে।

 

কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছিল এবং সেই মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে তাদের সিট বাতিল করা হলেও ছাত্রত্ব বহাল থাকবে বলে তিনি জানান।

ঢাকার সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
ঢাকার সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া
শেয়ার করুন

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া আগামী জুন থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাদের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত ও সংখ্যা হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি জানিয়েছে, আকাশপথের বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জেট ফুয়েলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এই পরিবর্তনের ফলে ঢাকা ছাড়াও শিকাগো, সাংহাই, সিঙ্গাপুর ও মালের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর আকাশপথে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সরাসরি প্রভাবিত হবেন। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল করে যাত্রীদের বিভ্রান্তিতে ফেলার চেয়ে আগেভাগেই এই যৌক্তিক সমন্বয় বা রেশনালাইজেশন করা হয়েছে যাতে শিডিউলের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

 

সংস্থাটির নতুন সূচি অনুযায়ী, এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে মুম্বাই-ঢাকা রুটের সরাসরি ফ্লাইট সাময়িকভাবে পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি থেকে ঢাকা, কাঠমান্ডু, কলম্বো, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা সাপ্তাহিকভবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

 

 

উত্তর আমেরিকার ক্ষেত্রে দিল্লি-শিকাগো সার্ভিসটি আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং দিল্লি থেকে টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারগামী ফ্লাইটের সংখ্যাও হ্রাস করা হয়েছে। তবে ইতিবাচক খবর হলো, মুম্বাই থেকে নেওয়ার্ক রুটে এখন থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট চলাচল করবে। ইউরোপের ক্ষেত্রে প্যারিস, রোম, জুরিখ, ভিয়েনা ও কোপেনহেগেনের মতো শহরগুলোতেও এয়ার ইন্ডিয়ার নিয়মিত ফ্লাইটের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় কম হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

এয়ার ইন্ডিয়া স্পষ্ট করেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংস্থাটি আশ্বস্ত করেছে, এই সমন্বয়ের পরেও তারা প্রতি মাসে পাঁচটি মহাদেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ১ হাজার ২০০-র বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।

 

এর মধ্যে উত্তর আমেরিকায় সপ্তাহে ৩৩টি, ইউরোপে ৪৭টি এবং যুক্তরাজ্যে ৫৭টি ফ্লাইট সচল থাকবে। এ ছাড়া দূরপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর (সার্ক) জন্য সপ্তাহে ১৫৮টি ফ্লাইট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মূলত ব্যয়বহুল দীর্ঘ রুটের ফ্লাইটগুলোর সক্ষমতা যাচাই করতেই এই সাময়িক কাটছাঁট করা হয়েছে।

 

যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তন হয়েছে, তাদের সরাসরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা চাইলে বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং, ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন অথবা টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সংস্থাটি যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা কেবল এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলের তথ্যের ওপর ভরসা রাখেন।

 

এ ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট রুটের আপডেট জানতে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নেটওয়ার্ককে আরও সুসংগঠিত করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি

হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
শেয়ার করুন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছররা গুলিতে খাদেমুল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গভীর রাত ২টার দিকে সীমান্তের বনচৌকি বিওপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত খাদেমুল উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার ৯০৫/৬ এস-এর প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাকারবারি কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় আঘাত লাগে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।