সরকারি বিদ্যুৎ বিক্রি করে আবহাওয়া অফিস কর্মচারীর রিসোর্ট ব্যবসা
সেন্টমার্টিন দ্বীপের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ভয়াবহ অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ওয়ারলেস সুপারভাইজার আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নিজ বাড়ি নড়াইল হলেও, ২০১৭ সালের ১০ই আগষ্ট চাকরিতে যোগদানের পর পরই তার পদায়ন হয় দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে।
সেই থেকেই নানান বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত আমিরুল। ওয়ারলেস সুপারভাইজার হলেও দ্বীপের মানুষের কাছে পরিচয় দেন বিসিএস ক্যাডার হিসেবে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহের সোলার লাইন পার্শ্ববর্তী কোনাপাড়া এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে মুজিবের কাছে ভাড়া দিয়েছেন তিনি। যা সম্পূর্ণভাবে নিয়ম বহির্ভূত ও অবৈধ।
একই সঙ্গে গত অর্ধযুগেরও বেশী সময় ধরে সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমিরুল ইসলাম সেন্টমার্টিনে গড়ে তুলেছেন একাধিক রিসোর্ট। এর মধ্যে ‘নীল পানি রিসোর্ট’-এর প্রায় ৭০ শতাংশ মালিকানা তার দখলে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি চাকরির আড়ালে এমন বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলাকে স্থানীয়রা ‘খোলাখুলি দুর্নীতি’ হিসেবে দেখছেন।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। সরকারি আবহাওয়া অফিসের ভবন ও আশপাশের জায়গাকে হাঁস-মুরগির খামারে পরিণত করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যদিও এসব কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়ে আমিরুল দাবি করেন, তিনি নাকি সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়ন করছেন।
তবে সরকারি বিদ্যুৎ লাইন ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও রিসোর্ট ব্যবসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন আমিরুল ইসলাম। তার ভাষ্য, সেন্টমার্টিনে যারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, তারা সবাই কমবেশি রিসোর্ট ব্যবসা করেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রহমান খাঁন সকালের কক্সবাজারকে বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি অফিসের বিদ্যুতের লাইন বাহিরে ভাড়া দেওয়ার কোন নিয়ম বলেও জানান তিনি।।
সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত লাভে ব্যবহারের এমন অভিযোগে সেন্টমার্টিনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষে আদৌ কি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি সবই থেকে যাবে ফাইলবন্দী এমনটাই প্রশ্ন সচেতন মহলের।

আপনার মতামত লিখুন