খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

বদলি ঠেকিয়ে সৈকতের রাজা বনে যাওয়া আপেল মাহমুদের কান্ড

পর্যটক সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য

শাহেদ ফেরদৌস হিরু
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
পর্যটক সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য
শেয়ার করুন

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার জন্য কক্সবাজারে গড়ে তোলা হয়েছিল ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক অবকাঠামো। কিন্তু সেই অবকাঠামোই এখন পরিণত হয়েছে অবৈধ ভাড়া, মাসোহারা ও চাঁদাবাজির উৎসে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কটেজ জোনের পতিতালয় ও অবৈধ স্পা থেকে মাসোহারা আদায়সহ সরকারি অবকাঠামো বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দিয়ে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এসব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এডিশনাল ডিআইজি পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোঃ আপেল মাহমুদ এমন অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার, অভিযোগ কেন্দ্র, পুলিশ বক্স এমনকি সরকারি জেট স্কিও অবৈধভাবে ভাড়া দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো প্রতিকার হয়নি।

জানা গেছে, লাবণী পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থাপিত একটি ওয়াচ টাওয়ার রেস্টুরেন্টে রূপান্তর করে ঈদগাহ উপজেলার বোরহান ও তায়েফ নামের দুই ভাইয়ের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। অগ্রিম হিসেবে নেওয়া হয় ৮ লাখ টাকা। রেস্টুরেন্টটির নাম দেওয়া হয় অর্ণব ক্যান্টিন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সেটিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ ক্যান্টিন নামে চালানো শুরু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও পর্যটকদের সেবার জন্য সুগন্ধা পয়েন্টে চালু করা হয় শহীদ কনস্টেবল পারভেজ নামে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র। তবে অভিযোগ রয়েছে, পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই অভিযোগ কেন্দ্রটি আজিজ নামের এক ব্যক্তির কাছে লকার হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়।

একইভাবে কলাতলীতে পর্যটকদের সুবিধার্থে স্থাপিত ট্যুরিস্ট পুলিশ হেল্প ডেক্স বক্স দোকান ও লকার হিসেবে ভাড়া দিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

লাবণী বীচ থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো বীচ এলাকায় একটি রড কোম্পানির বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। অভিযোগ আছে, এসব বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিপরীত পাশে কটেজ জোনে থাকা সাতটি পতিতালয় থেকে এক দালালের মাধ্যমে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা করে মাসোহারা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কটেজ জোনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। অভিযোগ রয়েছে, এসব পতিতালয়ে মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এছাড়াও কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে থাকা ৫০টিরও বেশি অবৈধ স্পা থেকে অভিযানের ভয় দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিতে কয়েক লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্পা সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাঝে মাঝে অভিযানের নামে চাপ সৃষ্টি করে অতিরিক্ত অর্থও আদায় করা হয়।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ব্যবহারের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে দেওয়া চারটি জেট স্কিও ভাড়া দিয়ে অকেজো করে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া কোটি টাকার বীচ বাইক নষ্ট অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ কার্যালয়ের পার্কিংয়ে। আবার এসব জেট স্কি ও বীচ বাইকের ইঞ্জিন বিকল দেখিয়ে বাইরে ইঞ্জিন বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। যার ফলে সরকারি সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুগন্ধা পয়েন্টে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তারা দোকান বসাতে পারছেন না। তাদের দাবি, জয়নাল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা দিলে তবেই দোকান চালানোর সুযোগ মেলে। জয়নালের ইশারা পেলেই নির্দিষ্ট দোকান উচ্ছেদ করা হয় এবং তা বাস্তবায়ন করা হয় ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে। মাসিক টাকার বিনিময়ে আপেল মাহমুদ যুবদল নেতা জয়নালের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করার অভিযোগও তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে আপেল মাহমুদকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে এক উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে সেই বদলি স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বান্দরবান বদলি করা হলেও তদবিরের মাধ্যমে সেখান থেকে আবার কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

দেশের প্রধান পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারের সুনাম দেশ-বিদেশে। কিন্তু ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবী এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত কবে হবে, আর ট্যুরিস্ট পুলিশের নামে গড়ে ওঠা এই অবৈধ সাম্রাজ্যের দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে?

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোঃ আপেল মাহমুদ স্পষ্টভাবে বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ যদি পতিতালয়, স্পা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় করে, সে দায় ট্যুরিস্ট পুলিশ গ্রহণ করবে না। বরং কেউ যদি ট্যুরিস্ট পুলিশের নামে টাকা চাইতে আসে, তাহলে তাকে আটকে রেখে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, জুলফিকার স্টীল নামের যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রতিষ্ঠানকে তিনি চেনেন না এবং তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ-এর কোনো ধরনের চুক্তিও নেই। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব বিলবোর্ড অপসারণের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ বক্স ও তথ্যকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যটকদের সুবিধার্থেই এসব স্থানে দুইজন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি।

ওয়াচ টাওয়ার ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, বোরহান নিজ উদ্যোগে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করে ওয়াচ টাওয়ারটি সাজিয়ে-গুছিয়ে ব্যবহার উপযোগী করে তুলছেন। এই অর্থ ট্যুরিস্ট পুলিশ ফেরত দেবে। ওয়াচ টাওয়ারটি ভাড়া দেওয়া হয়নি বরং ট্যুরিস্ট পুলিশের ক্যান্টিন পরিচালনার উদ্দেশ্যেই বোরহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা তিনি নিজে মোঃ আপেল মাহমুদ যদি কারো কাছ থেকে কোনো ধরনের অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবেন, তা তিনি বিনা দ্বিধায় মেনে নেবেন।

শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামছেন জেলেরা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামছেন জেলেরা
শেয়ার করুন

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে দেশের নদ-নদীতে আবারও ইলিশ ধরা শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর জেলে পাড়াগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ ও নদীতে নামার শেষ প্রস্তুতি চলছে।

 

এর আগে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলাসহ ছয় জেলার পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ ও সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। এই সময়ে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের অভিযান প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ইলিশ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলে পাড়াগুলোতে নৌকা মেরামত, জাল সেলাই এবং ইঞ্জিন প্রস্তুতের কাজ শেষ করে নদীতে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলেরা। তবে অনেকে ঋণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন।

 

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালাতে এবং নৌকা-জাল মেরামতে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন নদীতে মাছ না পেলে তারা আর্থিক সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।

 

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, দুই মাসে অভয়াশ্রম এলাকায় কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বহু জেলেকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে জাটকা রক্ষা ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য বিজিএফ চালসহ খাদ্য সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।

প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর 

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর 
শেয়ার করুন

প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর

‎প্রবাসী  আব্দুল্লাহর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল নিয়ে দেশে এসে নিখোঁজ রয়েছেন রহমতুল্লাহ নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী, অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ তার পরিচিত প্রবাসী রহমতুল্লাহর মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের জন্য কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র পাঠান। এসবের মধ্যে ছিল একটি আইফোন, একটি সোনার চেইন, দুটি দামী ঘড়ি, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, অন্যান্য দামী আসবাবপত্র এবং প্রায় ১৫ হাজার সৌদি রিয়াল।

‎জানা গেছে, রহমতুল্লাহর স্ত্রী প্রবাসে গিয়ে প্রায় তিন মাস অবস্থান করার পর দেশে ফেরার সময় এসব মালামাল তার হাতে তুলে দেন আব্দুল্লাহ, যাতে তিনি সেগুলো আব্দুল্লাহর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। কিন্তু দেশে আসার পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি।

‎অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ জানান, একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রহমতুল্লাহ ফোন বন্ধ করে দেন এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে রহমতুল্লাহর স্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে আব্দুল্লাহ,

‎এ ঘটনায় রহমতুল্লাহর দেশের বাড়ির ঠিকানা বা অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হলে তা ভুল বলে জানা যায়। বর্তমানে রহমতুল্লাহ সৌদি আরবে অবস্থান করলেও তিনি কোনোভাবেই আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না।

‎এদিকে, রহমতুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ।

ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট
শেয়ার করুন

দেশের বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে মোট ভোটারের ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন ৬৬ শতাংশ ভোটারই।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন কালবেলাকে জানান, প্রথম দিনে ভোট দেন দুই হাজার ৭৫৯ জন। আর দ্বিতীয় দিনে ভোট দেন চার হাজার ৩১০ জন আইনজীবী।

 

তিনি আর বলেন, সবমিলে দুই দিনে সাত হাজার ৬৯ জন আইনজীবী নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটার ২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবী।

 

অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন হয়েছে খুবই উৎসবমুখরভাবে। ভোটাররা যেন ভালোভাবে ভোট দিতে পারে তার জন্য বুথ বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

ফলাফলের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আগামীকাল জুমার নামাজের পর ভোট গণনা শুরু হবে। ভোটার স্লিপগুলো ঠিকভাবে সিরিয়াল করে গণনা শুরু হবে। সেক্ষেত্রে শুক্রবার রাত অথবা শনিবার সকালে ফলাফল ঘোষণা হতে পারে।

 

এদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনে গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হয় ভোটগ্রহণ হয়। দুই দিনেই বৃষ্টির মাঝেই আইনজীবীরা ভোট দিতে আসেন।

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে ভোটগ্রহণ হয়। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

উভয় প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ছাড়াও স্বতন্ত্র আটজন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

তবে নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সমর্থিত সাদা প্যানেল। প্যানেল না থাকলেও আওয়ামী সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চাইলে মনোনয়ন নিতে বাঁধার সম্মুখীন হন বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন কয়েকজন আইনজীবী।

 

নির্বাচনে বিএনপি জোট নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপর দিকে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১১ জোটের সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক লড়ছেন।

 

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা।

 

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। এতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এরপর থেকেই তারা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।