খুঁজুন
, ,

বদলি ঠেকিয়ে সৈকতের রাজা বনে যাওয়া আপেল মাহমুদের কান্ড

পর্যটক সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য

শাহেদ ফেরদৌস হিরু
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
পর্যটক সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য
শেয়ার করুন

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার জন্য কক্সবাজারে গড়ে তোলা হয়েছিল ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক অবকাঠামো। কিন্তু সেই অবকাঠামোই এখন পরিণত হয়েছে অবৈধ ভাড়া, মাসোহারা ও চাঁদাবাজির উৎসে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কটেজ জোনের পতিতালয় ও অবৈধ স্পা থেকে মাসোহারা আদায়সহ সরকারি অবকাঠামো বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দিয়ে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এসব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এডিশনাল ডিআইজি পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোঃ আপেল মাহমুদ এমন অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার, অভিযোগ কেন্দ্র, পুলিশ বক্স এমনকি সরকারি জেট স্কিও অবৈধভাবে ভাড়া দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো প্রতিকার হয়নি।

জানা গেছে, লাবণী পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থাপিত একটি ওয়াচ টাওয়ার রেস্টুরেন্টে রূপান্তর করে ঈদগাহ উপজেলার বোরহান ও তায়েফ নামের দুই ভাইয়ের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। অগ্রিম হিসেবে নেওয়া হয় ৮ লাখ টাকা। রেস্টুরেন্টটির নাম দেওয়া হয় অর্ণব ক্যান্টিন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সেটিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ ক্যান্টিন নামে চালানো শুরু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও পর্যটকদের সেবার জন্য সুগন্ধা পয়েন্টে চালু করা হয় শহীদ কনস্টেবল পারভেজ নামে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র। তবে অভিযোগ রয়েছে, পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই অভিযোগ কেন্দ্রটি আজিজ নামের এক ব্যক্তির কাছে লকার হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়।

একইভাবে কলাতলীতে পর্যটকদের সুবিধার্থে স্থাপিত ট্যুরিস্ট পুলিশ হেল্প ডেক্স বক্স দোকান ও লকার হিসেবে ভাড়া দিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

লাবণী বীচ থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো বীচ এলাকায় একটি রড কোম্পানির বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। অভিযোগ আছে, এসব বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিপরীত পাশে কটেজ জোনে থাকা সাতটি পতিতালয় থেকে এক দালালের মাধ্যমে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা করে মাসোহারা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কটেজ জোনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। অভিযোগ রয়েছে, এসব পতিতালয়ে মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এছাড়াও কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে থাকা ৫০টিরও বেশি অবৈধ স্পা থেকে অভিযানের ভয় দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিতে কয়েক লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্পা সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাঝে মাঝে অভিযানের নামে চাপ সৃষ্টি করে অতিরিক্ত অর্থও আদায় করা হয়।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ব্যবহারের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে দেওয়া চারটি জেট স্কিও ভাড়া দিয়ে অকেজো করে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া কোটি টাকার বীচ বাইক নষ্ট অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ কার্যালয়ের পার্কিংয়ে। আবার এসব জেট স্কি ও বীচ বাইকের ইঞ্জিন বিকল দেখিয়ে বাইরে ইঞ্জিন বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। যার ফলে সরকারি সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুগন্ধা পয়েন্টে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তারা দোকান বসাতে পারছেন না। তাদের দাবি, জয়নাল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা দিলে তবেই দোকান চালানোর সুযোগ মেলে। জয়নালের ইশারা পেলেই নির্দিষ্ট দোকান উচ্ছেদ করা হয় এবং তা বাস্তবায়ন করা হয় ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে। মাসিক টাকার বিনিময়ে আপেল মাহমুদ যুবদল নেতা জয়নালের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করার অভিযোগও তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে আপেল মাহমুদকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে এক উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে সেই বদলি স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বান্দরবান বদলি করা হলেও তদবিরের মাধ্যমে সেখান থেকে আবার কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

দেশের প্রধান পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারের সুনাম দেশ-বিদেশে। কিন্তু ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবী এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত কবে হবে, আর ট্যুরিস্ট পুলিশের নামে গড়ে ওঠা এই অবৈধ সাম্রাজ্যের দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে?

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোঃ আপেল মাহমুদ স্পষ্টভাবে বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ যদি পতিতালয়, স্পা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় করে, সে দায় ট্যুরিস্ট পুলিশ গ্রহণ করবে না। বরং কেউ যদি ট্যুরিস্ট পুলিশের নামে টাকা চাইতে আসে, তাহলে তাকে আটকে রেখে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, জুলফিকার স্টীল নামের যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রতিষ্ঠানকে তিনি চেনেন না এবং তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ-এর কোনো ধরনের চুক্তিও নেই। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব বিলবোর্ড অপসারণের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ বক্স ও তথ্যকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যটকদের সুবিধার্থেই এসব স্থানে দুইজন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি।

ওয়াচ টাওয়ার ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, বোরহান নিজ উদ্যোগে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করে ওয়াচ টাওয়ারটি সাজিয়ে-গুছিয়ে ব্যবহার উপযোগী করে তুলছেন। এই অর্থ ট্যুরিস্ট পুলিশ ফেরত দেবে। ওয়াচ টাওয়ারটি ভাড়া দেওয়া হয়নি বরং ট্যুরিস্ট পুলিশের ক্যান্টিন পরিচালনার উদ্দেশ্যেই বোরহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা তিনি নিজে মোঃ আপেল মাহমুদ যদি কারো কাছ থেকে কোনো ধরনের অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবেন, তা তিনি বিনা দ্বিধায় মেনে নেবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।