খুঁজুন
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

কক্সবাজারে ৬০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে নাশকতা, ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
কক্সবাজারে ৬০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে নাশকতা, ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পোকখালী ইউনিয়নে অবস্থিত ৬০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের একাধিক টাওয়ারে সম্পদ চুরি, অবকাঠামো ধ্বংস ও নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ইউ-এস ডিকে গ্রীন এনার্জি (বিডি) লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল, পিএমখালী, চৌফলদণ্ডী ও পোকখালী এলাকায় ২২টি উইন্ড টাওয়ারের মাধ্যমে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রটি কক্সবাজার ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গত তিন বছর ধরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।
অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি রাতের আঁধারে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা পোকখালী ইউনিয়নে অবস্থিত বায়ু বিদ্যুৎ টাওয়ার নং-০১, ০২, ০৩, ০৪ ও ০৫ এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ রাস্তার মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে টারবাইন প্ল্যাটফর্মের মাটি চুরি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রাংশ ও সাপ্লাই লাইনের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতি সাধন করছে।
এর ফলে প্রকল্পটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রোডাকশন ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মি. ইসন স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এ অবস্থায় জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তির নাশকতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এতে শুধু কোম্পানির ক্ষতিই নয়, জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ইলেক্ট্রিক্যাল ক্যাবল, রাস্তা, প্ল্যাটফর্ম ও একটি এস্কেভেটরের ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য যে , এ প্রকল্পটি একটি ইউনিক বাংলাদেশের প্রথম নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ হিসেবে সকলের কাছে এই সুচারু ও নির্বিঘ্ন উৎপাদন বৃদ্ধিতে কক্সবাজার বাসীর প্রতি যত্নশীল হওয়ার প্রতি গুরত্বআরোপ করেন করেন বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনাকারী দায়িত্বশীল সূত্র এবং দ্রুত এ ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জোর তাগিদ দিয়েছেন ‌।

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘে কক্সবাজারের ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘে কক্সবাজারের ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে কক্সবাজারের ১৭৩ জন আইনজীবী সম্মিলিতভাবে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়-এ আবেদন জানিয়েছেন।

 

জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল “গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদ ও সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ এবং মৌলিক অধিকার পরিপন্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে কক্সবাজার জেলা সম্মিলিত আইনজীবীদের বিবৃতি” শিরোনামে ১৭৩ জন আইনজীবীর স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২২ এপ্রিল ঢাকায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের প্রধানের কাছে একই দাবিতে স্বাক্ষরিত আবেদন জমা দেওয়া হয়।

 

বিবৃতিতে আইনজীবীরা বলেন, জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া “সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬” অসাংবিধানিক এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আঘাত হেনেছে। তাদের দাবি, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ ও ন্যাচারাল জাস্টিসের নীতির পরিপন্থী।

 

আইনজীবীরা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ International Covenant on Civil and Political Rights-এর স্বাক্ষরকারী দেশ। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এই অঙ্গীকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

 

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

আবেদনে আইনজীবীরা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত; প্রশাসনিক বা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা সমীচীন নয়।

 

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত আওয়ামীপন্থী নেতারা ও স্বাক্ষরকারী সদস্যরা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, “দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে কোন দল রাজনীতি করবে। আমরা অবিলম্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”

লিমন-বৃষ্টি হত্যার নেপথ্যে কী কারণ, জানালেন এফবিআই এজেন্ট

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
লিমন-বৃষ্টি হত্যার নেপথ্যে কী কারণ, জানালেন এফবিআই এজেন্ট
শেয়ার করুন

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ শুক্রবার সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুতে পাওয়া গেছে। তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনও মেলেনি।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে লেক ফরেস্ট এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ ডাকা হয়। সেখানে আবুগারবিয়েহ বাড়ি ছেড়ে বের হতে অস্বীকার করলে সোয়াট দল ডাকা হয়। পরে সে শান্তিপূর্ণভাবে বের হয়ে আসে এবং গ্রেপ্তার হয়।

জেলের রেকর্ড বলছে, আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে আগেও মামলা ছিল। ২০২৩ সালে চুরি ও মারধর এবং ঘরোয়া সহিংসতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল সে। ২০২৫ সালেও একই রকম সহিংসতার মামলা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

লিমন ছিলেন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিভাগের ডক্টরাল শিক্ষার্থী। বৃষ্টি পড়তেন রাসায়নিক প্রকৌশলে। দুজনকে ১৬ এপ্রিল শেষবার দেখা গিয়েছিল। পরদিন একজন পারিবারিক বন্ধু পুলিশে খবর দেন।

বৃষ্টির খোঁজে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের মেরিন ও ডাইভ দল হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর কাছের জলে তল্লাশি চালিয়েছে।

এফবিআইয়ের সাবেক বিশেষ এজেন্ট ও ইউএসএফ সেন্টার ফর জাস্টিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির সহপরিচালক ড. ব্রায়ানা ফক্স বলেছেন, প্রমাণগুলো ট্যাম্পা বে অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দেখে মনে হচ্ছে অভিযুক্ত পরিকল্পিতভাবে নয়, হঠাৎ রাগের মাথায় কাজটি করেছে।

তিনি আরও বলেছেন, ‘যেসব ঘটনায় পরিচিতজনরা একে অপরকে আক্রমণ করে এবং বয়স কাছাকাছি থাকে, সেখানে সাধারণত অর্থ, ঈর্ষা বা কোনো ঝগড়াই হত্যার কারণ হয়। এটি হয়তো ক্ষণিকের রাগের বিস্ফোরণ থেকে হয়েছে এবং কারণটি হয়তো খুবই ছোট কিছু।’

শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেছেন, ‘এটি একটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক ঘটনা যা আমাদের সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। জামিল লিমনের মরদেহ পাওয়া হৃদয়বিদারক। তবে আমাদের গোয়েন্দারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দায়ীদের পুরোপুরি জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’

সূত্র- ফক্স১৩

বজ্রপাতে একদিনেই প্রাণ গেলো ১৪ জনের

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
বজ্রপাতে একদিনেই প্রাণ গেলো ১৪ জনের
শেয়ার করুন

দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, সিরাজগঞ্জে দুজন, জামালপুরে দুজন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুজন, বগুড়ায় একজন, নাটোরে একজন ও পঞ্চগড়ে একজন মারা গেছেন। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হন।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়িতে পৃথক বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজনের মধ্যে সুন্দরগঞ্জে একই স্থানে তিনজনের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। বজ্রপাতে একটি ঘোড়া ও একটি গরুও মারা গেছে।

বিকেলে বজ্রপাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যু হয়। ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেন

সুন্দরগঞ্জে নিহতরা হলেন দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), আল মোজাহিদ চৌধুরী ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১২) এবং নবীন হোসেনের ছেলে মিজানুর (২০)।

ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা চরে ঘোড়ারগাড়ি চালাতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘোড়াসহ মানিক হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে।

অন্যদিকে জেলার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের মৃত কছির উদ্দিনের ছেলে।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) মারা যান। তিনি মৃত গফুর আলীর ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শফি জানান, বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশের মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

একই দিন বিকেল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান এলাকায় কাটা ধান জড়ো করার সময় বজ্রপাতে হাসান শেখ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি আব্দুল হালিম শেখের ছেলে।

জামালপুর

জামালপুরের সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে গৃহবধূসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে সদর উপজেলার লক্ষীরচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর এলাকায় নদীপাড়ের চরে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে হাসমত আলী হাসু (৫৫) গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার একটি গরুও মারা যায়।

অন্যদিকে মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর এলাকার কড়ইচুড়া গ্রামে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা আক্তার (২২) গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শেফালী বেগম নামে আরও একজন আহত হয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়া

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মুচিখালী গ্রামে জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি নিজের ছাগল আনতে মাঠে যান। কিছুক্ষণ পর বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা ও এর আশপাশে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছিল। বেলা পৌনে ২টার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি মারা যান।

অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ায় দুপুরে জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এসময় হঠাৎ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

নাটোর

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঠ্যাঙ্গা পাকুরিয়া গ্রামে চলনবিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আশ্রয় নেওয়ার পরপরই বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামের এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। সকালে ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের একটি চা-বাগানে পাতা সংগ্রহের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সারওয়ারদ্দী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের আবু সামাদের ছেলে। ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের মো. দুলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।