মিথ্যা মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ একরামুল হুদার গ্রেফতার দাবি ছাত্রদল নেতা মিজানের
কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট একরামুল হুদাকে ঘিরে ওঠা গুরুতর অভিযোগ। ক্ষমতার পালাবদলের এই সময়ে তাঁর অতীত ভূমিকা, বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলার নেপথ্যে সংশ্লিষ্টতা এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিএনপি ও সমমনা নেতাকর্মীরা। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি পদপ্রার্থী মিজানুল আলম।
একরামুল হুদাকে নিয়ে দেওয়া ছাত্রদল নেতা মিজানের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো:
এ্যাডভোকেট একরামুল হুদা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি। দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন কক্সবাজার কোর্ট বিল্ডিং চত্বরসহ পুরো জেলায়।
এই একরামুল হুদা ফ্যাসিস্ট আমলে বিকাশ এমপি, সোনালী ব্যাংক ও হলমার্ক কেলেঙ্কারির মূল হোতা সাইমুম সরওয়ার কমলের ডান হাত হিসেবে অবৈধ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের মূল মাস্টারমাইন্ড তথা ক্যাশিয়ার ছিলেন।
বিগত ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন এবং চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় জাতীয়তাবাদী ও সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে সব মিথ্যা, অবান্তর, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হতো, তা বিকাশ এমপি কমল ও আওয়ামী পরিবারের নির্দেশে তাঁর কক্সবাজার কোর্ট বিল্ডিংয়ের চেম্বার থেকে পরিচালিত হতো। তাছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রজনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ও গুলিবর্ষণে তিনি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করেছেন।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ যখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার বন্ধ করে দেয়, তখন কক্সবাজার শহরে প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করে যে ঐতিহাসিক লাঠিমিছিল আমি শান্তিপূর্ণভাবে করেছিলাম, তার জেরে আমাকে ১ নম্বর আসামি করে ২২/২৩ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় যে মামলা করা হয়, সেখানে আমার নিজের কর্মীই ছিল ১৭/১৮ জন। এর ফলে আমি দীর্ঘ ৫/৬ মাস ঘরছাড়া তথা পলাতক ছিলাম। সেই মামলাও তাঁর চেম্বার থেকেই পরিচালিত হয়েছিল, তৎকালীন বিকাশ এমপি কমলের নির্দেশে।
আমি ছাড়াও বিএনপি পরিবারের অসংখ্য নেতাকর্মী একরামুল হুদার চেম্বারের কাগজ-কলমের রোষানলে পড়ে অনেকে জেল খেটেছেন, আবার অনেকে দীর্ঘদিন পলাতক জীবন যাপন করেছেন।
বিএনপি প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক দল নয়। আমরা সবসময় অহিংস আন্দোলন ও সংগ্রামে বিশ্বাসী। তবে যারা অতিরঞ্জিত করেছে এবং চরম অন্যায় করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া যাবে না। তাদের ছেড়ে দেওয়া হলে অতি শিগগিরই ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ঘটবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা এই ফ্যাসিস্টের মাস্টারমাইন্ড, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দোসর অ্যাডভোকেট একরামুল হুদাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য বিএনপির হাইকমান্ডসহ প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন