খুঁজুন
, ,

প্যারাস্যুটে ইরানে নামবে ২ হাজার মার্কিন সেনা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
প্যারাস্যুটে ইরানে নামবে ২ হাজার মার্কিন সেনা
শেয়ার করুন

ইরানের বিরুদ্ধে স্থল আক্রমণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে বহু মার্কিন প্যারাট্রুপার যুদ্ধে অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থল অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২,০০০ সেনা প্যারাসুটে করে ইরানে নামতে পারে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি আরও ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রণালয় তথা প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন।

 

ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। সেখানে স্থলসেনা পাঠানো হলে তা উত্তেজনা আরও বাড়াবে। আক্রমণকারী বাহিনীর অগ্রভাগ হিসাবে কাজ করতে পারে ৮২তম এয়ারবর্নের সৈন্যরা। শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে তারা বিশেষজ্ঞ। এই বাহিনী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের যে কোনো স্থানে মোতায়েন হতে পারে। তারা প্যারাসুটে নেমে বিমানঘাঁটি, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দখল করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই সামরিক ইউনিটটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় খ্যাতি অর্জন করে। এরপর থেকে প্রায় সব বড় সংঘাতেই তাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে এই বাহিনী কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে-সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

 

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় সব ধরনের সামরিক বিকল্প হাতে রাখেন।’ এই বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত আসে এমন সময়ে, যখন প্রায় ৫,০০০ মার্কিন মেরিন নিয়ে গঠিত দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস আক্রমণ দলও ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ৮২তম এয়ারবর্নকে কী কী মিশনে ব্যবহার করা হতে পারে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

হরমুজ প্রণালিতে আক্রমণ: ইরান ও তাদের মিত্ররা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সেখানে মাইন পেতে রেখেছে। পাশাপাশি কিছু জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে। এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণে ইরানের প্রধান শক্তি কেশম দ্বীপ। এটি প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের ওপর নজর রাখে। একসময় পর্যটকদের আকর্ষণ ছিল এই দ্বীপটি, এখন তা পরিণত হয়েছে সামরিক ঘাঁটিতে। দ্বীপটির লবণগুহা ও ম্যানগ্রোভ বনের নিচে রয়েছে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটি’, যেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। এই টানেল নেটওয়ার্ক এত গভীরে যে প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে তা ধ্বংস করা কঠিন। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এটি ১,৬০০ ফুট পর্যন্ত গভীরে হতে পারে। ইরান এখান থেকে প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম। পাশাপাশি দ্বীপের ছোট-ছোট বন্দর থেকে দ্রুতগতির নৌযান ও ড্রোন হামলাও চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র ৮২তম এয়ারবর্নকে ব্যবহার করতে পারে এই হুমকি মোকাবিলায় এবং প্রণালি থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ সরাতে।

 

ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্নেল ফিল ইনগ্রাম বলেন, ‘সামরিকভাবে এটি তুলনামূলক সহজ মনে হলেও বাস্তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণহানির সম্ভাবনা অনেক।’ তিনি বলেন, প্রথমে ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা দুর্বল করতে হবে। এরপর প্যারাট্র–পাররা নেমে গুরুত্বপূর্ণূ ঘাঁটি দখল বা টানেল নেটওয়ার্কে অভিযান চালাতে পারে। একই সময়ে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ও এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান অতিরিক্ত সহায়তা দিতে পারে। ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট প্রায় ২,২০০ মেরিন ও সাঁজোয়া যান নিয়ে সমুদ্রপথে হামলা চালাতে পারে।

 

 

খারগ দ্বীপ দখল : আরেকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য খারগ দ্বীপ, যা কেশম থেকে প্রায় ৩০০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। এটি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র, যেখানে দেশের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি দ্বীপটি দখলের কথা বিবেচনা করছেন, যা ইরানের ওপর বড় অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। ৮২তম এয়ারবর্ন প্রথম ধাপে প্যারাসুটে নেমে দ্বীপটির বিমানঘাঁটি দখল করতে পারে এবং পরবর্তী বাহিনীর জন্য অবস্থান তৈরি করতে পারে। তবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো-মেরিন বাহিনীকে হরমুজ অতিক্রম করে সেখানে পৌঁছাতে হবে, যা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকবে।

 

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ সাভিল বলেন, ‘এই সংকীর্ণ পথে জাহাজগুলো সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে।’

 

ইউরেনিয়াম দখল: সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম সম্ভাবনাময় পরিকল্পনা হলো ইরানের অভ্যন্তরে ঢুকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল করা। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করেছে। এর আগে নাতাঞ্জ ও ফোরদোতে প্রধান ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। তবে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে ইরান নতুন স্থাপনা তৈরি করছে। ৮২তম এয়ারবর্নকে এসব স্থানে পাঠিয়ে ইউরেনিয়াম দখল করার চেষ্টা করা হতে পারে, যার ওজন প্রায় ১,০০০ পাউন্ড বলে ধারণা করা হয়।

 

ফিল ইনগ্রাম বলেন, ‘এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং তেমন লাভজনক নয়। যদি জানা যায় ইউরেনিয়াম মাটির নিচে আছে, তবে বোমা মেরে সেটিকে সেখানেই আটকে রাখা যায়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘স্থলবাহিনী পাঠিয়ে তা উদ্ধার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমেরিকা হয়তো পারবে, কিন্তু সেখানে শক্ত প্রতিরক্ষা থাকবে এবং ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা থাকবে।’

 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা

ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাবা

অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে পথে মায়ের মৃত্যু, ছেলেও না ফেরার দেশে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে পথে মায়ের মৃত্যু, ছেলেও না ফেরার দেশে
শেয়ার করুন

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে মাছবাহী পিকআপ-বালির ট্রলি ও মোটসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক মা ও তার শিশু সন্তান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত নারীর স্বামী ও শিশুটির বাবা। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৭টার দিকে রাজগঞ্জ এলাকার দোদাড়িয়া মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার রাজগঞ্জের মানিকগঞ্জ গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী খাতুন (৩৩) ও তাদের শিশুপুত্র আব্দুর রহমান (৪)।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওমর ফারুক তার অসুস্থ ছেলে আব্দুর রহমানকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে যশোরে ডাক্তারের নিকট গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৌসুমী খাতুন। ফেরার পথে মণিরামপুরের রাজগঞ্জের দোদাড়িয়া মোড়ে পৌঁছালে যশোরগামী একটি দ্রুতগামী মাছবাহী পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়েন। পরে অপর একটি বালিবাহী ট্রলি তাদের চাপা দেয়।

 

স্থানীয়রা তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই মা মৌসুমী ও শিশু আব্দুর রহমান পথে মারা যায়। বাবা ওমর ফারুক যশোর আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

ইউসিবি ব্যাংকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও, থানায় জিডি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ইউসিবি ব্যাংকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও, থানায় জিডি
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাসস্টেশন এলাকার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) শাখায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের ব্যাংক হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের অজান্তে হিসাব থেকে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে ঈদগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

 

জানা গেছে, গতকাল সকালে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলতে চেক দিয়ে এক কর্মচারীকে ব্যাংকে পাঠান ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। সেখানে গিয়ে ওই কর্মচারী জানতে পারেন, হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। পরে বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানানো হলে তিনি নিজেই ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নেন। এ সময় তাঁর হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা স্থানান্তর হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এ ঘটনায় ঈদগাঁও থানায় জিডি করেছেন ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। জিডি নম্বর ৯৭৪ এবং ট্র্যাকিং নম্বর DEL665।

 

তবে কীভাবে, কখন এবং কার মাধ্যমে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে অর্থ স্থানান্তরের প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে।

 

এ বিষয়ে ইউসিবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসায় নিজের কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পর ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন শাহজালাল রুমি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগে তিনি বাসা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভবনটির কেয়ারটেকার। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানা যায়নি।

ভবনটির কেয়ারটেকার জানান, টঙ্গীর মাদ্রাসায় ওই ঘটনার পর থেকেই রুমি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায়ও ছিলেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন রুমি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখা যায়। কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ভয়ের কারণে রুমির পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না।

 

হাবিবুর রহমান আরও জানান, যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন।

রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী।

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

 

পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

 

তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

 

মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়

 

ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।