খুঁজুন
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র, ১৪৩২

প্যারাস্যুটে ইরানে নামবে ২ হাজার মার্কিন সেনা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
প্যারাস্যুটে ইরানে নামবে ২ হাজার মার্কিন সেনা
শেয়ার করুন

ইরানের বিরুদ্ধে স্থল আক্রমণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে বহু মার্কিন প্যারাট্রুপার যুদ্ধে অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থল অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২,০০০ সেনা প্যারাসুটে করে ইরানে নামতে পারে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি আরও ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রণালয় তথা প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন।

 

ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। সেখানে স্থলসেনা পাঠানো হলে তা উত্তেজনা আরও বাড়াবে। আক্রমণকারী বাহিনীর অগ্রভাগ হিসাবে কাজ করতে পারে ৮২তম এয়ারবর্নের সৈন্যরা। শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে তারা বিশেষজ্ঞ। এই বাহিনী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের যে কোনো স্থানে মোতায়েন হতে পারে। তারা প্যারাসুটে নেমে বিমানঘাঁটি, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দখল করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই সামরিক ইউনিটটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় খ্যাতি অর্জন করে। এরপর থেকে প্রায় সব বড় সংঘাতেই তাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে এই বাহিনী কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে-সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

 

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় সব ধরনের সামরিক বিকল্প হাতে রাখেন।’ এই বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত আসে এমন সময়ে, যখন প্রায় ৫,০০০ মার্কিন মেরিন নিয়ে গঠিত দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস আক্রমণ দলও ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ৮২তম এয়ারবর্নকে কী কী মিশনে ব্যবহার করা হতে পারে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

হরমুজ প্রণালিতে আক্রমণ: ইরান ও তাদের মিত্ররা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সেখানে মাইন পেতে রেখেছে। পাশাপাশি কিছু জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে। এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণে ইরানের প্রধান শক্তি কেশম দ্বীপ। এটি প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের ওপর নজর রাখে। একসময় পর্যটকদের আকর্ষণ ছিল এই দ্বীপটি, এখন তা পরিণত হয়েছে সামরিক ঘাঁটিতে। দ্বীপটির লবণগুহা ও ম্যানগ্রোভ বনের নিচে রয়েছে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটি’, যেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। এই টানেল নেটওয়ার্ক এত গভীরে যে প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে তা ধ্বংস করা কঠিন। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এটি ১,৬০০ ফুট পর্যন্ত গভীরে হতে পারে। ইরান এখান থেকে প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম। পাশাপাশি দ্বীপের ছোট-ছোট বন্দর থেকে দ্রুতগতির নৌযান ও ড্রোন হামলাও চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র ৮২তম এয়ারবর্নকে ব্যবহার করতে পারে এই হুমকি মোকাবিলায় এবং প্রণালি থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ সরাতে।

 

ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্নেল ফিল ইনগ্রাম বলেন, ‘সামরিকভাবে এটি তুলনামূলক সহজ মনে হলেও বাস্তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণহানির সম্ভাবনা অনেক।’ তিনি বলেন, প্রথমে ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে দ্বীপটির প্রতিরক্ষা দুর্বল করতে হবে। এরপর প্যারাট্র–পাররা নেমে গুরুত্বপূর্ণূ ঘাঁটি দখল বা টানেল নেটওয়ার্কে অভিযান চালাতে পারে। একই সময়ে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ও এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান অতিরিক্ত সহায়তা দিতে পারে। ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট প্রায় ২,২০০ মেরিন ও সাঁজোয়া যান নিয়ে সমুদ্রপথে হামলা চালাতে পারে।

 

 

খারগ দ্বীপ দখল : আরেকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য খারগ দ্বীপ, যা কেশম থেকে প্রায় ৩০০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। এটি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র, যেখানে দেশের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি দ্বীপটি দখলের কথা বিবেচনা করছেন, যা ইরানের ওপর বড় অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। ৮২তম এয়ারবর্ন প্রথম ধাপে প্যারাসুটে নেমে দ্বীপটির বিমানঘাঁটি দখল করতে পারে এবং পরবর্তী বাহিনীর জন্য অবস্থান তৈরি করতে পারে। তবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো-মেরিন বাহিনীকে হরমুজ অতিক্রম করে সেখানে পৌঁছাতে হবে, যা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকবে।

 

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ সাভিল বলেন, ‘এই সংকীর্ণ পথে জাহাজগুলো সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে।’

 

ইউরেনিয়াম দখল: সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম সম্ভাবনাময় পরিকল্পনা হলো ইরানের অভ্যন্তরে ঢুকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল করা। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করেছে। এর আগে নাতাঞ্জ ও ফোরদোতে প্রধান ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। তবে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে ইরান নতুন স্থাপনা তৈরি করছে। ৮২তম এয়ারবর্নকে এসব স্থানে পাঠিয়ে ইউরেনিয়াম দখল করার চেষ্টা করা হতে পারে, যার ওজন প্রায় ১,০০০ পাউন্ড বলে ধারণা করা হয়।

 

ফিল ইনগ্রাম বলেন, ‘এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং তেমন লাভজনক নয়। যদি জানা যায় ইউরেনিয়াম মাটির নিচে আছে, তবে বোমা মেরে সেটিকে সেখানেই আটকে রাখা যায়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘স্থলবাহিনী পাঠিয়ে তা উদ্ধার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমেরিকা হয়তো পারবে, কিন্তু সেখানে শক্ত প্রতিরক্ষা থাকবে এবং ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা থাকবে।’

 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা

মিথ্যা মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ একরামুল হুদার গ্রেফতার দাবি ছাত্রদল নেতা মিজানের

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
মিথ্যা মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ একরামুল হুদার গ্রেফতার দাবি ছাত্রদল নেতা মিজানের
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট একরামুল হুদাকে ঘিরে ওঠা গুরুতর অভিযোগ। ক্ষমতার পালাবদলের এই সময়ে তাঁর অতীত ভূমিকা, বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলার নেপথ্যে সংশ্লিষ্টতা এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিএনপি ও সমমনা নেতাকর্মীরা। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি পদপ্রার্থী মিজানুল আলম।

একরামুল হুদাকে নিয়ে দেওয়া ছাত্রদল নেতা মিজানের বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

এ্যাডভোকেট একরামুল হুদা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি। দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন কক্সবাজার কোর্ট বিল্ডিং চত্বরসহ পুরো জেলায়।

এই একরামুল হুদা ফ্যাসিস্ট আমলে বিকাশ এমপি, সোনালী ব্যাংক ও হলমার্ক কেলেঙ্কারির মূল হোতা সাইমুম সরওয়ার কমলের ডান হাত হিসেবে অবৈধ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের মূল মাস্টারমাইন্ড তথা ক্যাশিয়ার ছিলেন।

বিগত ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন এবং চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় জাতীয়তাবাদী ও সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে সব মিথ্যা, অবান্তর, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হতো, তা বিকাশ এমপি কমল ও আওয়ামী পরিবারের নির্দেশে তাঁর কক্সবাজার কোর্ট বিল্ডিংয়ের চেম্বার থেকে পরিচালিত হতো। তাছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রজনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ও গুলিবর্ষণে তিনি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করেছেন।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ যখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার বন্ধ করে দেয়, তখন কক্সবাজার শহরে প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করে যে ঐতিহাসিক লাঠিমিছিল আমি শান্তিপূর্ণভাবে করেছিলাম, তার জেরে আমাকে ১ নম্বর আসামি করে ২২/২৩ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় যে মামলা করা হয়, সেখানে আমার নিজের কর্মীই ছিল ১৭/১৮ জন। এর ফলে আমি দীর্ঘ ৫/৬ মাস ঘরছাড়া তথা পলাতক ছিলাম। সেই মামলাও তাঁর চেম্বার থেকেই পরিচালিত হয়েছিল, তৎকালীন বিকাশ এমপি কমলের নির্দেশে।

আমি ছাড়াও বিএনপি পরিবারের অসংখ্য নেতাকর্মী একরামুল হুদার চেম্বারের কাগজ-কলমের রোষানলে পড়ে অনেকে জেল খেটেছেন, আবার অনেকে দীর্ঘদিন পলাতক জীবন যাপন করেছেন।

বিএনপি প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক দল নয়। আমরা সবসময় অহিংস আন্দোলন ও সংগ্রামে বিশ্বাসী। তবে যারা অতিরঞ্জিত করেছে এবং চরম অন্যায় করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া যাবে না। তাদের ছেড়ে দেওয়া হলে অতি শিগগিরই ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ঘটবে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা এই ফ্যাসিস্টের মাস্টারমাইন্ড, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দোসর অ্যাডভোকেট একরামুল হুদাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য বিএনপির হাইকমান্ডসহ প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

ফরিদপুরে ‘তেল নাই’ লেখা পাম্পে মিলল ২৮ হাজার লিটার তেল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘তেল নাই’ লেখা পাম্পে মিলল ২৮ হাজার লিটার তেল
শেয়ার করুন

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে কানাইপুর ইউনিয়নের কানাইপুর বাজার ও বাজারের পাশে অবস্থিত দুটি পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে একটি পাম্পকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তেল থাকা সত্ত্বেও পাম্প বন্ধ রাখায় সতর্ক করে আরেকটি পাম্পে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত রেখে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।

 

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত হোসেন ফিলিং স্টেশন ও রয়েল ফিলিং স্টেশনে এই অভিযান চালানো হয়।

 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

 

অভিযান চলাকালে কানাইপুর বাজারের দুলাল কুন্ডুর দোকান, গুদাম ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পেট্রোল বা অকটেন মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে দোকানে অনুমোদিত পরিমাণে ডিজেল পাওয়া গেছে।

 

পরবর্তীতে কানাইপুর বাজারের হোসেন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ সেখানে ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন ও ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেলসহ মোট ২৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছে। এত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল না। পাম্পের সামনে লেখা ছিল ‘তেল নাই, পাম্প বন্ধ’।

 

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় পাম্পটির ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পাম্পটি খুলে দিয়ে বাস, ট্রাক, কৃষিযান, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

 

অন্যদিকে কানাইপুর বাজারের পাশের রয়েল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শুধু ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। মজুত যাচাই করে দেখা যায়, পাম্পটিতে ৩ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন এবং ১৯ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো জরিমানা করা হয়নি।

 

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ওই দুইটি পাম্পেই স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মজুতদারিদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আবুধাবিতে ৫ ভারতীয় আহত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আবুধাবিতে ৫ ভারতীয় আহত
শেয়ার করুন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার পর এর খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ৫ জন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) আবুধাবির খলিফা ইকোনমিক জোনস কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, আবুধাবির খলিফা ইকোনমিক জোনস (কেজেডএডি)-এর আশপাশে এ ঘটনা ঘটে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ ওই এলাকায় আছড়ে পড়ে।

 

এতে আক্রান্ত ভারতীয় ৫ নাগরিকের আঘাতের মাত্রা ‘মাঝারি থেকে সামান্য বলে জানানো হয়েছে। তবে আহতদের বর্তমান অবস্থা বা ঘটনাস্থলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে বা এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে শুধুমাত্র সরকারি ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জনগণকে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ করতে এবং কোনো ধরনের গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথভাবে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এ হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ১৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব পাল্টা হামলায় বিভিন্ন স্থানে হতাহত ও ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি