খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিএনপি কি আরেকটা আওয়ামী লীগ হওয়ার চেষ্টা করছে : সংসদে হান্নান মাসউদ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
বিএনপি কি আরেকটা আওয়ামী লীগ হওয়ার চেষ্টা করছে : সংসদে হান্নান মাসউদ
শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলের তীব্র সমালোচনা করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই বিলের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রশাসনের ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি কি ‘আরেকটা আওয়ামী লীগ’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কি না।

 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর এর ওপর আপত্তি জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

হান্নান মাসুদ বলেন, ‘এই বিলের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হচ্ছে। এটি বিএনপির ৩১ দফার ইশতেহারেও ছিল না। ৩১ দফার ২০ নং দফায় স্পষ্ট বলা ছিল মৃত্যু বা আদালতের দণ্ড ছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অপসারণ করা হবে না। আজ কি বিএনপি সেই কথা ভুলে গেছে? নাকি মেজরিটি পাওয়ারের মধ্য দিয়ে তারা আসলে আরেকটা আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে?’

 

বিলের ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ এবং ‘জনস্বার্থে অপসারণ’ সংক্রান্ত বিধানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতি বলতে কী বোঝানো হচ্ছে? শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ভোট চোরদের সরাতে যে অধ্যাদেশ হয়েছিল, সেটিকে এখন আইনে রূপান্তর করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গলার কাঁটা বানানো হচ্ছে। বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে যেকোনো মেয়র বা কাউন্সিলরকে সরিয়ে দিয়ে দলীয় লাঠিয়াল বা মন্ত্রী-এমপির সন্তানদের প্রশাসক হিসেবে বসানোর পায়তারা চলছে।’

 

নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা যখনই গণতন্ত্রের কথা বলি, তখনই বলা হয় আমরাই তো গণতন্ত্র এনেছি। কিন্তু এখন ফেসবুকে ঢুকলেই দেখা যায় ধানের শীষে কীভাবে ছাপ্পা মারা হচ্ছে। কেন্দ্রের ভেতর এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে, স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ভোট দেওয়া হচ্ছে। মাগুরা নির্বাচনের মতো এখন বগুড়া ও শেরপুর নির্বাচনেও কারচুপি হচ্ছে।’

 

বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই আগে বলেছিলেন বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে আলাদা সচিবালয় হবে। এখন কেন বলা হচ্ছে এর দরকার নেই? এছাড়া গুম অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি কালো আইন হিসেবে থাকবে।’

 

হান্নান মাসুদ আরও বলেন, ‘চুরি করা যায়, কিন্তু আওয়ামী লীগ যেভাবে চুরি করে হজম করতে পেরেছিল, বিএনপি তা পারবে না। দয়া করে আওয়ামী লীগের দেখানো পথে হাঁটবেন না। এই বিল পাস হলে স্থানীয় গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হবে।’ তার বক্তব্যের সময় ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা হইচই করলেও তিনি বিলের প্রতিটি ধারার ওপর কঠোর আপত্তি জানান।

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা গুলি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা গুলি
শেয়ার করুন

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলির জবাবে পাল্টা গুলিবর্ষণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে ঘটা এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিএসএফ গুলি ছুড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বিজিবি। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ করা হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

 

 

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেকোনো উসকানিমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

উখিয়ার আলোচিত সেই মায়ের হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১০জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
উখিয়ার আলোচিত সেই মায়ের হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১০জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হওয়া গৃহবধূ ছৈয়দা খাতুন হত্যা ঘটনায় অবশেষে ৪৮ ঘণ্টা পর মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৭ থেকে ৮ জনকে।

 

নিহত ছৈয়দা খাতুন (৫৫) উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় সব্বির আহমেদের স্ত্রী।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে রাতে টাইপালং গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি আব্দুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের মারধরে ঘটনাস্থলেই মারা যান তাঁর মা ছৈয়দা খাতুন।

 

সোমবার রাত ৮টার দিকে নিহতের ছেলে আব্দুর রহমান বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলার এজাহার জমা দেন। পরে পুলিশ সেটিকে নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করে।

 

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, নিহতের ছেলের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

 

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজান সিকদারকে। এ ছাড়া তাঁর ছেলে ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসানকেও আসামি করা হয়েছে।

 

অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুলেন্সচালক শামসুল আলম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম, তাঁর ছেলে ছাত্রদল নেতা জুলফিকার আকাশ, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ বাবুল, রাজাপালং ইউনিয়ন শ্রমিকদল (দক্ষিণ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিকদার, জাহাঙ্গীর আলম, জামাল উদ্দিন ও রাজাপালং ইউনিয়ন যুবদল নেতা রফিক উদ্দিন।

 

বাদী আব্দুর রহমান বলেন, “আমার মাকে আমার সামনেই হত্যা করা হয়েছে। যাদের আমি ঘটনাস্থলে দেখেছি, তাঁদের নামই মামলায় দিয়েছি। হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”

 

এর আগে রোববার দুপুরে টাইপালং গ্রামে ছৈয়দা খাতুনের জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

অক্সিজেন পাইপ খুঁজতে থাকা বাবার কাছে হঠাৎ নার্সের ফোন, ‘হাসপাতালে আসেন আপনার বাচ্চা মারা গেছে’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
অক্সিজেন পাইপ খুঁজতে থাকা বাবার কাছে হঠাৎ নার্সের ফোন, ‘হাসপাতালে আসেন আপনার বাচ্চা মারা গেছে’
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সামনে মোহাম্মদ আলমের মুঠোফোন বেজে ওঠে। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা (অক্সিজেন পাইপ) জোগাড়ের জন্য ছোটাছুটি করেছেন তিনি। একটি কোম্পানির কাছে পাওয়াও গিয়েছিল। আধা ঘণ্টার মধ্যে সেটি হাসপাতালে পৌঁছানোর কথা। এর মধ্যেই ফোন বেজে উঠতেই উৎকণ্ঠা নিয়ে ধরেন তিনি। ভেতর থেকে একজন নার্স জানালেন, তাঁর মেয়ে আর বেঁচে নেই।

 

আজ সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে মোহাম্মদ আলম যখন মুঠোফোনে ৯ মাস বয়সী মেয়ে সুরাইয়ার মৃত্যুর খবর পান, তখন তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। মুঠোফোনে কথা বলতে বলতেই তিনি কান্নার দমকে বসে পড়েন। নাজাল ক্যানুলার নাম লেখা স্লিপ তখনো হাতে ধরা। মাত্র কয়েক মিনিট আগেই ফোনে কাউকে অনুনয় করে দ্রুত জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন পাইপটি পাঠানোর জন্য বলেছিলেন তিনি। সাড়ে ১১ হাজার টাকার ওই জিনিসের আর প্রয়োজন পড়বে না তাঁর। আইসিইউর ভেতরেই ছিলেন তাঁর স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম। দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে এসে চিৎকার করে তিনি বলতে থাকেন, ‘আর কিচ্ছু লাগবে না…আমার মেয়ে নাই। আর কোনো অক্সিজেন পাইপ লাগবে না।’

 

 

  • চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের জটিলতা থেকে তার মস্তিষ্কে প্রদাহ হয়। একে বলা ‘মিজেলস এনসেফালাইটিস’। হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে অনেকের এমন মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়। এ অবস্থায় রোগীর উচ্চ জ্বর, খিঁচুনি, অচেতন হয়ে যাওয়া, আচরণগত পরিবর্তন এবং স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অবস্থা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

কক্সবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম পেশায় আলোকচিত্রী। সৈকতে পর্যটকদের ছবি তুলে সংসার চালাতেন তিনি। হামে আক্রান্ত ৯ মাস বয়সী মেয়ে সুরাইয়া আলমকে নিয়ে তিনি গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে হাসপাতালে তিনি। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ক্যামেরাটিও বিক্রি করে দিয়েছিলেন কয়েক দিন আগে। নিজের সবকিছু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েও মেয়েকে বাঁচাতে পারলেন না তিনি।

 

বেলা তিনটার দিকে ছোট্ট সুরাইয়ার মরদেহটি নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন মোহাম্মদ আলম, তাঁর স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম, শ্যালক মোহাম্মদ সাব্বির এবং স্বজনেরা। ছেনোয়ারা বেগম সন্তানের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে বারবার কেঁদে উঠছিলেন। পেছনে হাঁটছিলেন মোহাম্মদ আলম। তাঁর দৃষ্টি সন্তানের নিথর দেহের দিকে। বিড়বিড় করে বলছিলেন, ‘আদরের ধন বেশি দিন থাকে না ভাই।’

 

 

হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার সংকট

 

আজ দুপুরে যখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যখন কথা হচ্ছিল মোহাম্মদ আলমের সঙ্গে, তখন তিনি মেয়ের জন্য হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার খোঁজ করছিলেন। বাজারে এটি সহজে মেলে না। দাম ১১ হাজার টাকা। কোথায় পাওয়া যায়, কাকে বলা যায়; কিছুই জানা নেই তাঁর। শুধু জানেন, জিনিসটা দরকার। কয়েকজন নার্সের কাছে জিজ্ঞাসা করে একটি কোম্পানির প্রতিনিধির নম্বর পেয়েছিলেন। সেখানে যোগাযোগ করেছেন বারবার। কোম্পানির প্রতিনিধিকে অনুনয় করেছিলেন দ্রুত পৌঁছে দিতে। আধা ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ওই প্রতিনিধি, কিন্তু সেই সময় পাওয়া গেল না।

 

মেয়ের মৃত্যুসংবাদ শোনার পর কাঁদতে কাঁদতে মোহাম্মদ আলম প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আইসিইউ থেকে একটা বাচ্চাও কেন সুস্থ হয়ে ফিরতে পারে না? এই পাইপ ছিল না কেন? এগুলো তো আইসিইউতে থাকার কথা। লাগলে আগে কেন বলা হলো না? আধা ঘণ্টার মধ্যে আমার বাচ্চাটা মারা গেল।’

 

 

সুরাইয়ার জন্য যে অক্সিজেন পাইপ আনতে বলা হয়েছে, সেটি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। মোহাম্মদ আলমের হাতে থাকা কাগজে লেখা ছিল, ‘ফিশার অ্যান্ড পায়কেল এয়ারভো ২, এইচএফএনসি সার্কিট, লার্জ সাইজ।’

 

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এটি মূলত রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তা করার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ যন্ত্রাংশ। এর মাধ্যমে নাকে উচ্চ প্রবাহে উষ্ণ ও আর্দ্র অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়, ফলে শ্বাস নিতে সহজ হয় এবং শরীরে অক্সিজেন পৌঁছানোর প্রক্রিয়া উন্নত হয়। এ ধরনের সার্কিট সাধারণত শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য গুরুতর শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু আইসিইউতে মোট ২০ শয্যার ১৫টিতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের রাখা হয়েছে। আইসিইউতে হাই ফ্লো মেশিন আছে ১২টি। এর মধ্যে অন্তত দুটিতে ফুটো আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকদের ভাষ্য, আইসিইউর অধিকাংশ যন্ত্রাংশ সরকারিভাবে আসে না। যেগুলো আসে, সেগুলো প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের এক চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, শিশু আইসিইউটি অনুদানে করা। সেখানে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে চিকিৎসক কিংবা রোগীদের অর্থে কিনতে হয়। ওই শিশুকে প্রথমে একটি হাই ফ্লো মেশিন দেওয়া হয়, সেটি ফুটো ছিল। পরে আরেকটি ছিল, সেটিতেও সমস্যা ছিল। তাই রোগীকে কিনতে বলা হয়। শিশুর অবস্থা বুঝে সেটি কিনতে মানা করা হয়।

 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘২০ শয্যার শিশু আইসিইউর ১০টি অনুদানের, ১০টি সরকারি। হাই ফ্লো মেশিন পুরো হাসপাতাল মিলিয়ে ৪১টি আছে। রোগীর পক্ষে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা (এইচএফএনসি) কেনা সম্ভব নয়। আমি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেব।’

 

সুরাইয়ার মৃত্যু মিজেলস এনসেফালাইটিসে

 

শিশু সুরাইয়ার গত মাসে একবার জ্বর হয় বলে জানান তার বাবা মোহাম্মদ আলম। তখন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরে শিশুটি। গত বৃহস্পতিবার আবারও জ্বর আসে তার। এরপর প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

 

 

চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের জটিলতা থেকে তার মস্তিষ্কে প্রদাহ হয়। একে বলা ‘মিজেলস এনসেফালাইটিস’। হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে অনেকের এমন মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়। এ অবস্থায় রোগীর উচ্চ জ্বর, খিঁচুনি, অচেতন হয়ে যাওয়া, আচরণগত পরিবর্তন এবং স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অবস্থা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

১৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু

 

চমেকের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল রোববার রাত ১২টা থেকে আজ সোমবার বেলা দুইটা পর্যন্ত সুরাইয়া আলমসহ চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাম ও হামের উপসর্গজনিত নিউমোনিয়া নিয়ে। এ ছাড়া আইসিইউতে ছিল ১৪ শিশু। এর আগে শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গজনিত নিউমোনিয়া নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

তবে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কাছে হাম ও হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে আজ সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৩ জন। যার মধ্যে ৩৯ জন আছে নগরের হাসপাতালগুলোতে। ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু নেই। জেলায় এখন পর্যন্ত হামে নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে একজনের। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮ জন। হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৯ জনের।