খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩

দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী
শেয়ার করুন

বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিন সকালে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। ১৩তম দিনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

 

অর্থমন্ত্রী বিবৃতিতে বলেন, ‘‘কোন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে এবং আগামীর যাত্রা কোথায় হবে সে সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এ দল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে এবং দেশের উন্নয়নে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ দায়বদ্ধতা থেকেই ২০০৫-০৬ অর্থবছর, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার একটি চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও এর ভেতরে বেশ কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠেছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। পরবর্তীতে ভুল নীতির কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছায়। শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে এবং কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

 

শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষি খাতে নিয়োজিত হচ্ছে, যা ছদ্ম বেকারত্বকে তীব্রতর করেছে। সেই সঙ্গে তরুণদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে সীমিত করেছে। বর্তমানে কৃষি খাত মোট কর্মসংস্থানের ৪১ শতাংশ দখল করলেও জাতীয় মূল্যে এর অবদান মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, যা শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও কর্মসৃজন বিহীন প্রবৃদ্ধি বা ‘জবলেস গ্রোথ’-এর ঝুঁকি নির্দেশ করে।

 

সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্যও নষ্ট হয়েছে; ২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে কমে ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে, ২০০৫-০৬ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৬৭ দশমিক ২ টাকা থাকলেও ২০২৪-২৫ সালে তা ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যার ফলে আমদানির ব্যয় ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

মুদ্রা সরবরাহ এবং রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধিও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ সালে ৬.৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ মন্থরতার বহিঃপ্রকাশ। রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি এবং রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয়ের কারণে সরকারের সম্পদ আহরণ সক্ষমতা সীমিত থেকেছে। বাজেট ঘাটতি ২০০৫-০৬ সালের ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিগত সরকারের আমলে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলো অতিমূল্যায়িত ছিল এবং সঠিক সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই বাস্তবায়িত হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না, বরং লুটপাটের মাধ্যমে লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।

 

ঋণ ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল মাত্র ৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে ১৩ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর অধিক নির্ভরতা বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য ঋণ প্রাপ্তি কঠিন করে তুলেছে, যাকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়। ২০০৫-০৬ সালে রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকলেও ২০২৩-২৪ সালে তা নেতিবাচক ছিল।

 

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, হুন্ডি এবং অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রবাস আয় বা রেমিটেন্স উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

সূত্র:বাংলা ট্রিবিউন

কানাডার এমপি নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
কানাডার এমপি নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম
শেয়ার করুন

কানাডার ফেডারেল নির্বাচনে পার্লামেন্ট সদস্য বা এমপি হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ডলি বেগম। দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি অন্টারিও প্রদেশের টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে এই ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে আনেন।

 

 

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) কানাডার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

ডলি বেগমের এই অর্জনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় কার্নি বলেন, ‘ডলি তার সম্প্রদায়ের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জোরালো ও কার্যকর লড়াই চালিয়ে গেছেন এবং তার অভিজ্ঞতা একটি ন্যায়পরায়ণ কানাডা গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

 

ডলি বেগমের রাজনৈতিক দল লিবারেল পার্টিও তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডলি দীর্ঘদিন ধরে গণমানুষের অধিকার আদায়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন এবং এখন থেকে তিনি পার্লামেন্টে লিবারেল টিমের অংশ হিসেবে সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

 

আগে ডলি বেগম অন্টারিও প্রদেশের প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। লিবারেল পার্টিতে যোগদানের আগে তিনি অন্টারিও নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধিত্ব করতেন। তার এই জয় কানাডার রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

ব্যক্তিগত জীবনে ডলি বেগম ১৯৮৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কাটিয়েছেন প্রিয় মাতৃভূমিতেই, পরবর্তীতে সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমান। ২০১৮ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে কানাডায় প্রাদেশিক বা ফেডারেল কোনো রাজনৈতিক পদে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

 

রাজনীতিতে আসার পর থেকেই তিনি অভিবাসন সেবা, বিদেশি শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি এবং নাগরিকত্ব বিষয়ক নানা সমস্যার সমাধানে বিরোধী দলের সমালোচক বা ‘অপজিশন ক্রিটিক’ হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি এই নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে পার্লামেন্টে কাজ করার সুযোগ পান।

 

ডলি বেগমের এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। মৌলভীবাজারের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আসীন হয়েছেন।

 

তার এই রাজনৈতিক যাত্রা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড কানাডায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ সকাল থেকেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই নেত্রীর জয়ে শুভেচ্ছা বার্তায় ভাসছেন তিনি। কানাডার নবগঠিত সরকারে ডলি বেগম কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

 

সূত্র: সিবিসি নিউজ

বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় শিশুকন্যা নিহত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় শিশুকন্যা নিহত
শেয়ার করুন

দক্ষিণ লেবাননে বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় এক শিশুকন্যা নিহত হয়েছে। একই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে তার সাত বছর বয়সি বোনসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। যুদ্ধবিরতির আশার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

বুধবার দক্ষিণ লেবাননের স্রিফা গ্রামে সাঈদ পরিবারের বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়। সেদিনই যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল; যা লেবাননেও প্রভাব ফেলবে বলে অনেকেই আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ওই দিনই দেশজুড়ে হামলায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

 

নিহত শিশুকন্যা তালিনের বয়স ছিল দুই বছরেরও কম। তার দাদা নাসের সাঈদ জানান, পরিবারের সদস্যরা তার ছেলের দাফনে অংশ নিতে গ্রামে জড়ো হয়েছিলেন। হঠাৎই বিমান হামলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ‘আমরা ভেবেছিলাম যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু আচমকাই হামলা শুরু হয় বলেন তিনি।

 

হামলায় আহত সাত বছর বয়সি আলিন সাঈদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

লেবাননে চলমান সংঘাত গত ২ মার্চ শুরু হয়, যখন হিজবুল্লাহ ইসরাইলের অবস্থানে হামলা চালায়। এরপর ইসরাইল ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।

 

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও ইসরাইল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।

 

সূত্র: আল মনিটর

নিজেকে যীশু রূপে এআই ছবি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে জড়ালেন ট্রাম্প

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
নিজেকে যীশু রূপে এআই ছবি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে জড়ালেন ট্রাম্প
শেয়ার করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি, যেখানে তাঁকে যীশু খ্রীষ্টের বেশে দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী ও বিশ্বজুড়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে তাঁর বিবাদ এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

শেয়ার করা ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প যীশুর মতো পবিত্র পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর শরীর থেকে জ্যোতি নির্গত হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি এক মুমূর্ষু ব্যক্তির মাথায় হাত রেখে অলৌকিক উপায়ে সুস্থ করার চেষ্টা করছেন, আর চারপাশে সেনা সদস্য ও নার্সরা বিস্ময়ে তাকিয়ে আছেন।

 

 

ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে অসম্মানজনক ও স্পর্ধাজনক বলে আখ্যা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক প্রচারের জন্য পবিত্র ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করা নৈতিক সীমার লঙ্ঘন। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা একে ডিজিটাল আর্ট বা নিছক কৌতুক হিসেবেই দেখছেন।

 

 

ছবিটি পোস্ট করার ঠিক আগেই ট্রাম্প ভ্যাটিকানের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পোপকে চরম বামপন্থী এবং দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পোপ লিও অপরাধীদের প্রতি সদয় এবং আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির বিরোধী।

 

 

ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি পোপ লিওর ভক্ত নই। তিনি ভালো কাজ করছেন না। আমি এমন কোনো পোপ চাই না যিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া সমর্থন করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছেন বলেই পোপ তাঁর সমালোচনা করছেন।

 

 

মূলত ইরান এবং ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে পোপ ও ট্রাম্পের মধ্যে এই দূরত্বের সৃষ্টি। গত শনিবার সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় এক প্রার্থনা সভায় পোপ লিও কারো নাম না করে বলেন, যুদ্ধের পেছনে সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা শোনেন না যাদের হাত রক্তে রাঙা।

 

 

আফ্রিকা সফরের পথে বিমানে বসে পোপ লিও ট্রাম্পের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভ্যাটিকানের শান্তির আবেদন কোনো রাজনীতি নয়, বরং যিশুর সুসমাচারের প্রতিফলন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না। পোপের ভাষায়, আমার বার্তাকে রাজনৈতিক স্তরে নামিয়ে আনা মানে ধর্মের মূল কথাটিই না বোঝা। চার্চের শান্তির মিশন আমি চালিয়ে যাব।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির এই সংমিশ্রণ মার্কিন জনমতকে গভীরভাবে বিভক্ত করছে। ট্রাম্পের এই যীশু অবতার এবং পোপের সঙ্গে তাঁর সংঘাত আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

 

 

সূত্র: এপি