জমি বিক্রি ঘিরে হামলা, চাঁদা দাবি ও টাকা ছিনতাই, সদর থানায় এজাহার
কক্সবাজার শহরের হোটেল ওশান প্যারাডাইস সংলগ্ন এলাকায় জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে হামলা, চাঁদা দাবি ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করে আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা জাফর সাদেক রাজু মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তার নিজ মালিকানাধীন জমি সম্ভাব্য ক্রেতাকে দেখানোর উদ্দেশ্যে শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের হোটেল ওশান প্যারাডাইস সংলগ্ন ডিভাইন রোড এলাকায় যান। সেখানে পৌঁছামাত্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা জসিম উদ্দিন প্রকাশ বাইট্যা জসিমসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তার পথরোধ করে।
অভিযোগে বলা হয়, জমি বিক্রি করতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি জানায় অভিযুক্তরা। এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে জাফর সাদেক রাজুর ওপর হামলা চালায়। কিল-ঘুষি, লাথি এবং কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা ৮৪ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় মামলা করলে কিংবা চাঁদার টাকা না দিলে পুনরায় হত্যা ও গুমের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে স্থানীয় জমির মালিক এমদাদুল হকের সহায়তায় আহত জাফর সাদেক রাজুকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বাদীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে এবং আশপাশের আরও ফুটেজ সংগ্রহ করলে ঘটনার স্পষ্ট প্রমাণ মিলবে বলেও দাবি করেন বাদী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর হোটেল-মোটেল জোনের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। গিয়াসউদ্দিন আল মামুনসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন কয়েকটি খালি জমি কিশোর গ্যাং, বখাটে ও ছিনতাইকারীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও বখাটেপনার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা, স্বাভাবিক পরিবেশ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ অবস্থায় ওই এলাকায় অবিলম্বে পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপনসহ কঠোর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন পর্যটনসেবীরা।

আপনার মতামত লিখুন