খুঁজুন
, ,

মাতারবাড়ী সড়ক প্রকল্পে লুটপাটের আয়োজন

বালুতেই ঠিকাদারের পকেটে যাবে ৪৫০ কোটি টাকা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বালুতেই ঠিকাদারের পকেটে যাবে ৪৫০ কোটি টাকা
শেয়ার করুন

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে নজিরবিহীন লুটপাটের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। ১২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে ২৭.২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হবে ৪৭৬ কোটি টাকা। অভিযোগ উঠেছে, এ মহাসড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত বালু সরবরাহকে কেন্দ্র করে সরকারের ৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব কৌশলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পকেটে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

 

 

কোনো দরপত্র ও পরিবেশ ছাড়পত্রের তোয়াক্কা না করেই ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সাগর থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বালুর মূল্য প্রতি ঘনফুট ৬ টাকা ৯৪ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও ড্রেজিং খরচ বাবদ ৪ টাকা ৫৬ পয়সা সরকারি কোষাগার থেকে ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হবে। অর্থাৎ, বালু বিক্রি করে লাভ করবে ঠিকাদার, কিন্তু উত্তোলনের ব্যয় বহন করবে সরকার। যুগান্তরের অনুসন্ধানে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

 

বিষয়টি স্বীকার করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান দাবি করেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনগণের সম্পদের চরম লুটপাট বলে মন্তব্য করেছে।

 

যেভাবে লোপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হয় : মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি থেকে ১৪০ কোটি ঘনফুট বালুর প্রয়োজন। ব্যয় কমাতে সমুদ্র উপকূল বা নদী থেকে বালু উত্তোলনই একমাত্র বিকল্প পথ। সরকারি হিসাবে, ভ্যাট বাদে প্রতি ঘনফুট বালুর নির্ধারিত মূল্য ৬ টাকা ৯৪ পয়সা ধরলে এই পরিমাণ বালু থেকে সরকারের অন্তত ৬৯৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলনের রয়্যালটি নির্ধারণে গঠিত সংশ্লিষ্ট উপকমিটির সদস্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সওজ পৃথক প্রস্তাব জমা দেয়। উভয় সংস্থাই তাদের নির্ধারিত ‘শিডিউল অব রেটস’ অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ১৬ টাকা ৭০ পয়সা প্রস্তাব করে। অন্যদিকে, গণপূর্ত বিভাগ তাদের বিশ্লেষণে এই দর ১৬ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করলেও ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী বালুর রয়্যালটি ধরা হয়েছে ৬ টাকা ৯৪ পয়সা।

 

এর ধারাবাহিকতায় কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’কে প্রাথমিকভাবে ১৩টি শর্তে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। দাম ধরা হয়েছে ৬ টাকা ৯৪ পয়সা। ২ এপ্রিল জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সই করা চিঠিতে এ অনুমতি দেওয়া হয়। একই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাগর থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনে ঘনফুটপ্রতি ৪ টাকা ৫৬৬ পয়সা করে সরকারের রাজস্ব থেকে বহন করা হবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় সর্বনিম্ন ১০০ কোটি ঘনফুট বালুর বিপরীতে সরকারি রাজস্ব থেকে বালু উত্তোলনের খরচ বাবদ প্রায় ৪৫৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঠিকাদারের পকেটে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

এদিকে ড্রেজিং খরচ সরকার পরিশোধ করায় সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসাবে জমা হবে মাত্র ২ টাকা ৩৭৪ পয়সা। অথচ ‘উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সরকারের কোনো ব্যয় ছাড়াই প্রতি ঘনফুট বালুর বিপরীতে ৫ টাকা ৩৭ পয়সা রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি নিজ খরচে বালু উত্তোলনের প্রস্তাবও দেয়। এছাড়া আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দর দিয়ে প্রতিযোগিতায় থাকলেও সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি।

 

পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, পরিবেশের ছাড়পত্র নেওয়া তো দূরের কথা, অনুমোদন পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের আবেদনই করেনি। তিনি বলেন, এনভাইরনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) ছাড়া বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই এবং অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আমাদের কাছে শুধু বালুর রয়্যালটি নির্ধারণ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল, আমরা তা লিখিতভাবে দিয়েছি। বাকি সিদ্ধান্তের এখতিয়ার জেলা প্রশাসনের। পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত বিভাগ ও বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তারাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

 

 

যা বললেন ডিসি : জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটিকে অনুমোদন ও ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরে গঠিত কমিটির সম্মতিতে বালুর রেট নির্ধারণ করে অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি ব্যয়ে বালু উত্তোলন করলে ঠিকাদার নির্ধারিত দামে বালু সরবরাহ করবে কি না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি জানি না তারা কত দামে দেবে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প পরিচালকের কাছে ডিপিপি চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকল্পে কত বালু প্রয়োজন এবং ঠিকাদারকে কত দামে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

 

মিলেমিশে লোপাটের বন্দোবস্ত : অসুন্ধান ও নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সওজের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মুহাম্মদ আকবার হোসেন পাটোয়ারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএল-জেভির সঙ্গে ৩০ থেকে ৩৩ কোটি ঘনফুট বালু সরবরাহের গোপন চুক্তি করেছে। কিন্তু মাত্র ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে।

 

সূত্র বলছে, ২ টাকা ৩৭ পয়সা হারে সরকার বালুর মূল্য পেলেও সেই বালু ক্রয় দেখানো হবে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা। পরিবহণ খরচসহ মিলিয়ে ২০ থেকে ৪০ টাকা সরকারের কাছ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সেখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পাবেন পিডি মুহাম্মদ আকবার হোসেন পাটোয়ারী। এতে সরকার শত শত কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এ কারণে একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও ডিপিপি তথ্য সরবরাহ করেননি পিডি পাটোয়ারী। অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া দেননি পরিচালক মুহাম্মদ আকবার হোসেন পাটোয়ারী।

 

অনুমোদনে পেতে ব্যর্থ হয়ে সরানো হয় এডিসিকে : জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সালাউদ্দিনের কাছে বালু উত্তোলনের অনুমোদনের জন্য তদবির করে। এ সময় তিনি প্রস্তাবিত এলাকার পরিবেশ ছাড়পত্র গ্রহণ করে আবেদন করার পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসকের বদলির পর বালু উত্তোলনের অনুমতি পেতে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদের কাছেও তদবির করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা। তিনিও অনড় অবস্থান নেওয়ায় উচ্চপর্যায়ে লবিং করে ১২ মার্চ তাকে বদলি করানো হয়। এরপর জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানকে ম্যানেজ করে অনুমোদন পেতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (এমআইএল) কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইখতিয়ার যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত নই, তাই আমি এসব অভিযোগ বা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না।

 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শত শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় যদি ঠিকাদারদের জন্য ব্যয় করার তথ্য সঠিক হয়ে থাকে, তবে এটি শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, বরং কর্তৃত্ববাদী চর্চারই ধারাবাহিকতা, যা ১৬ বছর ধরে চলমান ছিল। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সম্পদ বিশেষ করে যেখানে উচ্চমূল্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে কম দামে কোনো বিশেষ মহলকে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি কোনো অবস্থায়ই গ্রহণযোগ্য নয়।

ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাবা

অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে পথে মায়ের মৃত্যু, ছেলেও না ফেরার দেশে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে পথে মায়ের মৃত্যু, ছেলেও না ফেরার দেশে
শেয়ার করুন

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে মাছবাহী পিকআপ-বালির ট্রলি ও মোটসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক মা ও তার শিশু সন্তান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত নারীর স্বামী ও শিশুটির বাবা। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৭টার দিকে রাজগঞ্জ এলাকার দোদাড়িয়া মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার রাজগঞ্জের মানিকগঞ্জ গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী খাতুন (৩৩) ও তাদের শিশুপুত্র আব্দুর রহমান (৪)।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওমর ফারুক তার অসুস্থ ছেলে আব্দুর রহমানকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে যশোরে ডাক্তারের নিকট গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৌসুমী খাতুন। ফেরার পথে মণিরামপুরের রাজগঞ্জের দোদাড়িয়া মোড়ে পৌঁছালে যশোরগামী একটি দ্রুতগামী মাছবাহী পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়েন। পরে অপর একটি বালিবাহী ট্রলি তাদের চাপা দেয়।

 

স্থানীয়রা তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই মা মৌসুমী ও শিশু আব্দুর রহমান পথে মারা যায়। বাবা ওমর ফারুক যশোর আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

ইউসিবি ব্যাংকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও, থানায় জিডি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ইউসিবি ব্যাংকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও, থানায় জিডি
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাসস্টেশন এলাকার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) শাখায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের ব্যাংক হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের অজান্তে হিসাব থেকে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে ঈদগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

 

জানা গেছে, গতকাল সকালে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলতে চেক দিয়ে এক কর্মচারীকে ব্যাংকে পাঠান ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। সেখানে গিয়ে ওই কর্মচারী জানতে পারেন, হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। পরে বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানানো হলে তিনি নিজেই ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নেন। এ সময় তাঁর হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা স্থানান্তর হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এ ঘটনায় ঈদগাঁও থানায় জিডি করেছেন ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। জিডি নম্বর ৯৭৪ এবং ট্র্যাকিং নম্বর DEL665।

 

তবে কীভাবে, কখন এবং কার মাধ্যমে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে অর্থ স্থানান্তরের প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে।

 

এ বিষয়ে ইউসিবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসায় নিজের কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পর ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন শাহজালাল রুমি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগে তিনি বাসা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভবনটির কেয়ারটেকার। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানা যায়নি।

ভবনটির কেয়ারটেকার জানান, টঙ্গীর মাদ্রাসায় ওই ঘটনার পর থেকেই রুমি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায়ও ছিলেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন রুমি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখা যায়। কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ভয়ের কারণে রুমির পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না।

 

হাবিবুর রহমান আরও জানান, যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন।

রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী।

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

 

পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

 

তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

 

মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়

 

ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।