খুঁজুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

মাতারবাড়ী সড়ক প্রকল্পে লুটপাটের আয়োজন

বালুতেই ঠিকাদারের পকেটে যাবে ৪৫০ কোটি টাকা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বালুতেই ঠিকাদারের পকেটে যাবে ৪৫০ কোটি টাকা
শেয়ার করুন

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে নজিরবিহীন লুটপাটের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। ১২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে ২৭.২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হবে ৪৭৬ কোটি টাকা। অভিযোগ উঠেছে, এ মহাসড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত বালু সরবরাহকে কেন্দ্র করে সরকারের ৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব কৌশলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পকেটে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

 

 

কোনো দরপত্র ও পরিবেশ ছাড়পত্রের তোয়াক্কা না করেই ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সাগর থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বালুর মূল্য প্রতি ঘনফুট ৬ টাকা ৯৪ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও ড্রেজিং খরচ বাবদ ৪ টাকা ৫৬ পয়সা সরকারি কোষাগার থেকে ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হবে। অর্থাৎ, বালু বিক্রি করে লাভ করবে ঠিকাদার, কিন্তু উত্তোলনের ব্যয় বহন করবে সরকার। যুগান্তরের অনুসন্ধানে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

 

বিষয়টি স্বীকার করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান দাবি করেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনগণের সম্পদের চরম লুটপাট বলে মন্তব্য করেছে।

 

যেভাবে লোপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হয় : মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি থেকে ১৪০ কোটি ঘনফুট বালুর প্রয়োজন। ব্যয় কমাতে সমুদ্র উপকূল বা নদী থেকে বালু উত্তোলনই একমাত্র বিকল্প পথ। সরকারি হিসাবে, ভ্যাট বাদে প্রতি ঘনফুট বালুর নির্ধারিত মূল্য ৬ টাকা ৯৪ পয়সা ধরলে এই পরিমাণ বালু থেকে সরকারের অন্তত ৬৯৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলনের রয়্যালটি নির্ধারণে গঠিত সংশ্লিষ্ট উপকমিটির সদস্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সওজ পৃথক প্রস্তাব জমা দেয়। উভয় সংস্থাই তাদের নির্ধারিত ‘শিডিউল অব রেটস’ অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ১৬ টাকা ৭০ পয়সা প্রস্তাব করে। অন্যদিকে, গণপূর্ত বিভাগ তাদের বিশ্লেষণে এই দর ১৬ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করলেও ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী বালুর রয়্যালটি ধরা হয়েছে ৬ টাকা ৯৪ পয়সা।

 

এর ধারাবাহিকতায় কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’কে প্রাথমিকভাবে ১৩টি শর্তে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। দাম ধরা হয়েছে ৬ টাকা ৯৪ পয়সা। ২ এপ্রিল জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সই করা চিঠিতে এ অনুমতি দেওয়া হয়। একই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাগর থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনে ঘনফুটপ্রতি ৪ টাকা ৫৬৬ পয়সা করে সরকারের রাজস্ব থেকে বহন করা হবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় সর্বনিম্ন ১০০ কোটি ঘনফুট বালুর বিপরীতে সরকারি রাজস্ব থেকে বালু উত্তোলনের খরচ বাবদ প্রায় ৪৫৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঠিকাদারের পকেটে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

এদিকে ড্রেজিং খরচ সরকার পরিশোধ করায় সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসাবে জমা হবে মাত্র ২ টাকা ৩৭৪ পয়সা। অথচ ‘উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সরকারের কোনো ব্যয় ছাড়াই প্রতি ঘনফুট বালুর বিপরীতে ৫ টাকা ৩৭ পয়সা রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি নিজ খরচে বালু উত্তোলনের প্রস্তাবও দেয়। এছাড়া আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দর দিয়ে প্রতিযোগিতায় থাকলেও সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি।

 

পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, পরিবেশের ছাড়পত্র নেওয়া তো দূরের কথা, অনুমোদন পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের আবেদনই করেনি। তিনি বলেন, এনভাইরনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) ছাড়া বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই এবং অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আমাদের কাছে শুধু বালুর রয়্যালটি নির্ধারণ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল, আমরা তা লিখিতভাবে দিয়েছি। বাকি সিদ্ধান্তের এখতিয়ার জেলা প্রশাসনের। পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত বিভাগ ও বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তারাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

 

 

যা বললেন ডিসি : জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটিকে অনুমোদন ও ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরে গঠিত কমিটির সম্মতিতে বালুর রেট নির্ধারণ করে অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি ব্যয়ে বালু উত্তোলন করলে ঠিকাদার নির্ধারিত দামে বালু সরবরাহ করবে কি না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি জানি না তারা কত দামে দেবে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প পরিচালকের কাছে ডিপিপি চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকল্পে কত বালু প্রয়োজন এবং ঠিকাদারকে কত দামে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

 

মিলেমিশে লোপাটের বন্দোবস্ত : অসুন্ধান ও নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সওজের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মুহাম্মদ আকবার হোসেন পাটোয়ারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএল-জেভির সঙ্গে ৩০ থেকে ৩৩ কোটি ঘনফুট বালু সরবরাহের গোপন চুক্তি করেছে। কিন্তু মাত্র ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে।

 

সূত্র বলছে, ২ টাকা ৩৭ পয়সা হারে সরকার বালুর মূল্য পেলেও সেই বালু ক্রয় দেখানো হবে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা। পরিবহণ খরচসহ মিলিয়ে ২০ থেকে ৪০ টাকা সরকারের কাছ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সেখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পাবেন পিডি মুহাম্মদ আকবার হোসেন পাটোয়ারী। এতে সরকার শত শত কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এ কারণে একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও ডিপিপি তথ্য সরবরাহ করেননি পিডি পাটোয়ারী। অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া দেননি পরিচালক মুহাম্মদ আকবার হোসেন পাটোয়ারী।

 

অনুমোদনে পেতে ব্যর্থ হয়ে সরানো হয় এডিসিকে : জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সালাউদ্দিনের কাছে বালু উত্তোলনের অনুমোদনের জন্য তদবির করে। এ সময় তিনি প্রস্তাবিত এলাকার পরিবেশ ছাড়পত্র গ্রহণ করে আবেদন করার পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসকের বদলির পর বালু উত্তোলনের অনুমতি পেতে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদের কাছেও তদবির করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা। তিনিও অনড় অবস্থান নেওয়ায় উচ্চপর্যায়ে লবিং করে ১২ মার্চ তাকে বদলি করানো হয়। এরপর জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানকে ম্যানেজ করে অনুমোদন পেতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (এমআইএল) কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইখতিয়ার যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত নই, তাই আমি এসব অভিযোগ বা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না।

 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শত শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় যদি ঠিকাদারদের জন্য ব্যয় করার তথ্য সঠিক হয়ে থাকে, তবে এটি শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, বরং কর্তৃত্ববাদী চর্চারই ধারাবাহিকতা, যা ১৬ বছর ধরে চলমান ছিল। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সম্পদ বিশেষ করে যেখানে উচ্চমূল্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে কম দামে কোনো বিশেষ মহলকে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি কোনো অবস্থায়ই গ্রহণযোগ্য নয়।

জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন
শেয়ার করুন

ঈদগাঁও বাজার নিউ মার্কেটের ৩য় তলায় ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের নতুন অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সংবাদকর্মীসহ অর্ধশতাধিক অতিথির উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

 

ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মিছবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মনছুর আলমের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি সেলিম মাহমুদ, সিবিএন বার্তা সম্পাদক ইমাম খাইর, টেলিগ্রাম নিউজ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দু শুক্কুর, ঈদগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লায়েক ইবনে ফাজেল, উপজেলা শিবির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ আজমগীর, সাংবাদিক নেতা নুরুল আমিন হেলালী, আমার দেশ প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন, আইনজীবী মোবারক সাঈদ, মানবিক ব্যক্তিত্ব মনির আহমদ, ছাত্রদল নেতা সোহেল রানা, সাংবাদিক আজিজুর রহমান রাজু, আয়ুব, যুব মানবিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ জোবাইরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ বজলুর রহমান। পরে অতিথিরা ফিতা কেটে অফিস উদ্বোধন করেন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করেন।

 

বক্তারা বলেন, ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাব বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সাংবাদিকদের ঐক্য এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্ত্রীকে বাঁচাতে কিডনি দিলেন স্বামী

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
স্ত্রীকে বাঁচাতে কিডনি দিলেন স্বামী
শেয়ার করুন

ভালোবাসা শুধু কথায় নয়, কখনো কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়েও প্রমাণ করা যায়। শরীয়তপুরের জসিম উদ্দিন যেন সেই সত্যকেই নতুন করে সামনে আনলেন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী মিনারা বেগমের জীবন সংকটে নিজের একটি কিডনি দিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন মানবিকতা ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এমন মানবিক ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শরীয়তপুরজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনেকেই এটিকে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

 

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২ বছর আগে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে শুরু করেন ৩২ বছর বয়সী মিনারা বেগম। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। পাশাপাশি পেটের ভেতরে একটি টিউমারও ধরা পড়ে। পরিবারের ওপর যেন নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। পরবর্তীতে মিনারাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন চিকিৎসার পরে টিউমারের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। কিন্তু টাকার অভাবে কিডনি স্থাপন করাতে পারেননি স্বামী জসিম উদ্দীন। ধীরে ধীরে মিনারা বেগমের অসুস্থতা বাড়লে শুরু হয় কিডনি ডোনার খোঁজার দীর্ঘ চেষ্টা।

 

একপর্যায়ে মিনারা বেগমের মা কিডনি দিতে রাজি হন। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুরতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে হার্টের রোগ ধরা পড়ে মিনারা বেগমের মায়ের। এমন অবস্থায় দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জসিম উদ্দীন (৩৬)। সেই সময় স্ত্রীর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে যান জসিম। এক মুহূর্ত দেরি না করে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে গত ৫ মার্চ ঢাকার শ্যামলী সিকেডি আ্যন্ড ইউরোলজি হাসপাতালে তার কিডনি মিনারার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। সফল অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মিনারা বেগম। বর্তমানে স্বামী ও ছেলে সন্তান নিয়ে ঢাকার শ্যামলীতে ভাড়া বাসায় থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় দিন গুনছেন তিনি।

ইসরায়েলকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান
শেয়ার করুন

ইসরায়েলকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের সংসদের স্পিকার নুমান কুরতুলমুস। ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নতুন আইনের সমালোচনা করে তিনি এ দাবি জানান। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন-এর ১৫২তম সাধারণ অধিবেশনে ইস্তাম্বুলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে বর্ণবৈষম্যের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা-কে জাতিসংঘ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল—যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কার্যকর ভূমিকার উদাহরণ।

 

তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই দেশে ফিলিস্তিনিদের জন্য এক ধরনের আইন এবং ইসরায়েলিদের জন্য আরেক ধরনের আইন প্রযোজ্য হওয়া বর্ণবৈষম্যের শামিল কি না। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ-এর ভূমিকাও সমালোচনা করেন। তার মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত থামাতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে এবং বিশেষ করে গাজায় সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

 

নুমান কুরতুলমুস বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে জাতিসংঘ এখন এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যা ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের মুখে রয়েছে এবং সব রাষ্ট্রের সমান সার্বভৌম অধিকার থাকা উচিত।

 

 

অধিবেশনের বাইরে তিনি খালিদ আল মাওয়ালি-র সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি ওমান-এর মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন এবং পাকিস্তান-এ আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানান, যাতে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা যায়।

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল-এর পদক্ষেপ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরান-এর উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

 

উল্লেখ্য, তুরস্ক চতুর্থবারের মতো এই সাধারণ অধিবেশন আয়োজন করছে, যেখানে প্রায় ১৫৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন