খুঁজুন
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

গাজীপুরে অস্ত্রের মুখে ইমামের মেয়েকে অপহরণ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে অস্ত্রের মুখে ইমামের মেয়েকে অপহরণ
শেয়ার করুন

গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্রের মুখে এক ইমামের মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয়বার অপহরণের ঘটনার পর এখনো ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয় সূত্র।

 

 

জানা যায়, একই এলাকার আবিদ (২১) নামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে (ইমামের মেয়ে) উত্ত্যক্ত করে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অপহরণের হুমকি দিত। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে সে ও তার সহযোগীরা প্রথমে ছাত্রীটিকে অপহরণ করে। তবে একই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

 

অভিযোগ রয়েছে, আবিদ ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়, দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এবং ওই ছাত্রীকে পুনরায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় মারধর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

 

 

ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, প্রথমে মেয়েকে উদ্ধার করা হলেও সালিশ চলাকালীন আবার অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো মেয়েকে ফিরে পাইনি।

 

 

ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অপহরণকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন।

 

 

ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তারা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ জানান, এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মূল আসামি ও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা, অভিযুক্ত বৃদ্ধকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয়রা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা, অভিযুক্ত বৃদ্ধকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয়রা
শেয়ার করুন

চুয়াডাঙ্গায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সিঅ্যান্ডবিপাড়ার খোরশেদ আলম নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে স্থানীয়রা আটক করে অভিযুক্ত বৃদ্ধকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

 

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

অভিযুক্ত খোরশেদ আলম (৬০) চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার জীবননগর বাসস্ট্যান্ডপাড়ার মৃত আক্কাস আলীর ছেলে। বর্তমানে সিঅ্যান্ডবিপাড়ার বসিন্দা।

 

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে প্রতিবেশীর এক বাড়িতে কৌশলে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ডেকে নেন অভিযুক্ত খোরশেদ আলম। এ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শিশুটি পালিয়ে বাড়ি চলে যায়। বাড়ি গিয়ে ঘটনা তার পরিবারকে জানায়। এরপর অভিযুক্ত খোরশেদ আলম ভয়ভীতি ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

 

শুক্রবার রাতে বিষয়টি স্থানীয়রা জানলে অভিযুক্ত খোরশেদ আলমকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দেন। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার একটি টিম খোরশেদকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।

 

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ শনিবার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে।

কয়লা আমদানি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
কয়লা আমদানি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার  জ্বালানি মন্ত্রী
শেয়ার করুন

শ্রীলঙ্কায় কয়লা আমদানি নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরই তিনি সরে দাঁড়ান বলে জানিয়েছে সরকার।

গত সপ্তাহে সরকারি এক অডিটে দেখা যায়, নিম্নমানের কয়লার কারণে দেশের সবচেয়ে বড় ৯০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হয়নি।

এই ঘাটতি পূরণ করতে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থাকে বেশি খরচে ডিজেল ব্যবহার করতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় এই ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

 

প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন। তার কার্যালয় জানায়, ‘কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে একটি বিশেষ প্রেসিডেনশিয়াল কমিশন গঠন করা হয়েছে।’

সরকার জানায়, নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কুমারা জয়াকোডি পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, অর্থাৎ সচিবও পদ ছাড়েন।

এই কয়লা কেনাকাটার ঘটনা প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে হওয়া সব কয়লা ক্রয় তদন্তের আওতায় আনা হবে।

জাতীয় অডিট অফিস বলেছে, নির্ধারিত মানের তুলনায় কম তাপ উৎপাদনক্ষম কয়লা সরবরাহ করায় সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীকে ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন রুপি জরিমানা করা উচিত। এই মানটি কয়লা পোড়ানোর সময় উৎপন্ন শক্তি দিয়ে নির্ধারণ করা হয়।

অডিট অফিস আরও জানায়, নিম্নমানের কয়লার কারণে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থার সরাসরি ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন রুপি। জরিমানার মাধ্যমে এই ক্ষতির বড় অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

তবে বিরোধী দল বলেছে, কয়লার ঘাটতি পূরণে ডিজেল ব্যবহারের কারণে প্রায় ৮ বিলিয়ন রুপি খরচ হয়েছে। যদিও সরকার বলছে, এই ব্যয় এর চেয়ে কম হতে পারে। সংবাদসূত্র: আরবনিউজ

ইসরায়েলের শহরে হাজার হাজার মৌমাছি, আতঙ্কে ঘরবন্দী মানুষ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৯ পূর্বাহ্ণ
ইসরায়েলের শহরে হাজার হাজার মৌমাছি, আতঙ্কে ঘরবন্দী মানুষ
শেয়ার করুন

ইরান ও লেবাননের সাথে যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই ইসরায়েলের নেতিভত শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এক নতুন আতঙ্ক। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন নয়, এবার হাজার হাজার মৌমাছির বিশাল এক ঝাঁক ঢেকে ফেলেছে শহরের আকাশ। এই অস্বাভাবিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশটির সামরিক বাহিনীও বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েছে। খবর আল জাজিরার।

গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) নেতিভত শহরের একটি শপিং সেন্টারকে ঘিরে মৌমাছির এই বিশাল বাহিনী অবস্থান নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার বারান্দা ও রাস্তাঘাট মৌমাছির দখলে চলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে থাকার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মৌমাছির ঘন স্তরে আকাশ অন্ধকার হয়ে আছে।

মৌমাছির এই আক্রমণ কেবল জনজীবনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি আঘাত হেনেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপরও। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, একটি সামরিক বিমানের ইঞ্জিনে মৌমাছির ঝাঁক ঢুকে পড়ায় এবং ডানায় আটকে থাকায় বিমানটির উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। যুদ্ধকালীন সতর্কবস্থার মধ্যে এ ধরনের ঘটনা সামরিক কর্মকর্তাদেরও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

এই ঘটনাটি অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেক নেটিজেন একে বাইবেলে বর্ণিত ‘দশটি প্লেগ’ বা ‘ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা এই তত্ত্ব নাকচ করে দিয়েছেন।

কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞদের মতে বন্য পরিবেশে গাছপালা কমে যাওয়ায় মৌমাছিরা শহরের দালান বা দেয়ালের ফাটলকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে মৌমাছিরা তাদের বসবাসের চিরচেনা ধরন বদলে ফেলছে। একে একটি বিরল কিন্তু স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই এই ‘প্রাকৃতিক আপদ’ ইসরায়েলের বাসিন্দাদের মধ্যে এক নতুন ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কীটতত্ত্ববিদ ও স্থানীয় প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।