খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩

মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল
শেয়ার করুন

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কমিশন সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে, গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) সরকারি চাকরি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপনে অসঙ্গতি এবং আইনি জটিলতার কারণে যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নটি স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বাকি ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, মনিরা শারমিন রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। নথি অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়া যায় না। মূলত এই কারণেই তার মনোনয়নটি বাতিল করা হয়।

কক্সবাজারে পর্যাপ্ত বিমান শক্তি থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হত না: সেনাপ্রধান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে পর্যাপ্ত বিমান শক্তি থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হত না: সেনাপ্রধান
শেয়ার করুন

কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিমান বাহিনীর শক্তিশালী অবস্থান থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হত না বলেই মনে করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

 

সামরিক সরঞ্জামের ‘অপর্যাপ্ততার’ কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ এড়ানোর জন্যও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি প্রয়োজন।

 

বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

 

এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন পাঁচজন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং করপোরেট প্রতিনিধি।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, “আমি আপনাদের সামরিক বিষয়াবলীতে—সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর—আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করি। কারণ এগুলো জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর সক্ষমতা সম্পর্কে জানার অধিকার আপনাদের রয়েছে।

 

যেমন বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী। আমরা ব্যাপকভাবে আমদানি ও রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এবং আমাদের সমুদ্রপথের যোগাযোগ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। নৌবাহিনীকে শক্তিশালী না করলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সুরক্ষিত থাকবে না।”

 

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “আপনারা কল্পনা করতে পারেন এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নৌবাহিনীর সীমাবদ্ধতা রয়েছে; তাদের পর্যাপ্ত ওপিভি নেই, ফলে ছোট করভেট দিয়ে সাগরে টহল দিতে হচ্ছে যা অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী নয়। আমাদের সমুদ্রপথ এবং জাহাজগুলোর সুরক্ষায় নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

 

“একইভাবে বিমানবাহিনীর কথা যদি বলি, দীর্ঘ সময় ধরে আমরা মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ক্রয় করিনি। যদি কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম এলাকায় আমাদের পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকত, তবে হয়ত এই রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টিই হত না।”

 

২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারে সহিংস সামরিক অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। জাতিসংঘ ওই ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদী উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করে।

 

এরপর আরো কয়েক দফায় বাংলাদেশে এসেছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে। ফলে ওই এলাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে।

 

তাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের ফলে স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের ফেরানোর কোনো উদ্যোগই কাজে আসেনি।

 

সেনাপ্রধান বলেন, “আজ আপনি যদি এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে ভবিষ্যতে হয়ত ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। কথায় আছে—’সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।’ আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য।”

 

শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে পররাষ্ট্রনীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।

 

তিনি বলেন, “এই দুটি বিষয় একে অপরের পরিপূরক। এ কারণেই আমি আপনাদের সবসময় সামরিক বিষয়াবলীতে আগ্রহী হতে উৎসাহিত করি। আমরা সবসময় জাতির কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চাই। আমরা এমন একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তুলতে চাই যা আমাদের সম্ভাব্য শত্রুদের জন্য কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে।

 

“যে অর্গানাইজেশনের জবাবদিহিতা নাই, সে অর্গানাইজেশন কখনোই গ্রো করবে না। আমরা চাই আমাদের মিলিটারি সব সময় জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে।”

 

সেনাপ্রধানের বক্তব্যে সাম্প্রতিক তেল সংকটের প্রসঙ্গও আসে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে তেল শোধনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা তৈরি না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি।

 

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “আমরা এক চ্যালেঞ্জিং পৃথিবীতে বাস করছি; প্রতিদিন নতুন নতুন সমস্যা সামনে আসছে। এনডিসিতে আসার পথে আমি দেখলাম মানুষ জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।

 

এখানেই জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি চলে আসে। জ্বালানি নিরাপত্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে তা অত্যন্ত স্পষ্ট। আমাদের একটি মাত্র রিফাইনারি (ইস্টার্ন রিফাইনারি) আছে যা মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে। বাকি সব জ্বালানি আমাদের পরিশোধিত অবস্থায় চড়া দামে আমদানি করতে হয়।”

 

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আমরা ইস্টার্ন রিফাইনারির উন্নয়ন করিনি বা দ্বিতীয় কোনো রিফাইনারি তৈরি করিনি। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল অনেক সস্তা হওয়া সত্ত্বেও রিফাইনারির অভাবে আমরা তা ব্যবহার করতে পারছি না। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা এদেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন।”

 

এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, “কোর্স চলাকালে ফেলোদের সক্রিয়, চিন্তাশীল ও শ্রদ্ধাশীল অংশগ্রহণ কৌশলগত বোঝাপড়া সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।”

 

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের অন্যতম প্রধান কোর্স হিসেবে ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, সমালোচনামূলক চিন্তাধারা বিকাশ, আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

 

সুত্র: বিডিনিউজ২৪.কম

দ্বিতীয় তেল শোধনাগার তৈরি করা জরুরি: সেনাপ্রধান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
দ্বিতীয় তেল শোধনাগার তৈরি করা জরুরি: সেনাপ্রধান
শেয়ার করুন
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা দ্বিতীয় কোনো রিফাইনারি বা তেল শোধনাগার তৈরি করতে পারিনি, যা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব এখন অনেক বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), কর্তৃক আয়োজিত ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সেনাপ্রধান।

সংসদ সদস্য, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিসহ মোট ৪৫ জন ফেলো এই কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী ফেলোরা জানান, কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান সেনাপ্রধান।

এসময় জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে একটিমাত্র রিফাইনারি (ইস্টার্ন রিফাইনারি) আছে যা চাহিদার মাত্র ১০-১৫ শতাংশ মেটাতে পারে। বাকি জ্বালানি আমাদের পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করতে হয়, যার ফলে খরচ অনেক বেশি পড়ে।

গোপন ভিডিও মুছতে প্রেমিকা তারিনের পরিকল্পনায় খুন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
গোপন ভিডিও মুছতে প্রেমিকা তারিনের পরিকল্পনায় খুন
শেয়ার করুন

কক্সবাজারে ছাত্রদল কর্মী ও জুলাই আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম হত্যাকাণ্ডে পুলিশ এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। তবে যুগান্তরের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য ওঠে এসেছে। প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত ‘গোপন ভিডিও’ ঘিরেই এই নির্মম হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ মার্চ রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগানের কবিতা চত্বরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় খোরশেদকে।

নুসন্ধান বলছে, নিজের গোপন ভিডিও মুছে ফেলতে পেশাদার ছিনতাইকারী-সন্ত্রাসী ভাড়া করেছিলেন প্রেমিকা তারিন। তার পরিকল্পনাতেই খোরশেদ খুন হন। এতে নেতৃত্ব দেয় মোহাম্মদ হারুন, মোহাম্মদ জিসান (বাসানি) ও বেলাল ওরফে ঘোড়া বেলাল। ঘটনার পর তারা সমিতিপাড়া এলাকায় বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রজেক্টে কাজ করা নাইটগার্ড রিয়াদের আশ্রয়ে রাত কাটায় এবং মাদক সেবন করে। মাত্র ৫টি ইয়াবার বিনিময়ে রিয়াদ তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় মামলা হলেও অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত আসামিরা বাদ পড়েছে এবং তারিনকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও কয়েকটি মাথার খোপা (ফুল) উদ্ধার করা হয়। ছুরিটি তারিনের বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খুনিদের পরিচয় : খোরশেদ হত্যায় ৪/৫ জনের সম্পৃক্ততা থাকলেও তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন-পেশাদার ছিনতাইকারী মোহাম্মদ হারুন। সে ক্রসফায়ারে নিহত খারুল আমিনের ভাই। তার বাবার নাম বশির আহমেদ। স্থায়ী ঠিকানা মহেশখালী। তার বিরুদ্ধে অন্তত তিন ডজন মামলা রয়েছে। সম্প্রতি ছিনতাইকারী হিসাবে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে। মোহাম্মদ জিসান (বাসানি) বিচ বাইকচালক হলেও পেশাদার ছিনতাইকারী। তার বাবা নূরুল ইসলাম বাসানি। সমিতিপাড়া ১ নম্বর মসজিদ গেট এলাকার বাসিন্দা। বেলাল ওরফে ঘোড়া বেলালের বাবার নাম নুরু সালাম। বালিকা মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা সে। সেও পেশাদার ছিনতাইকারী।

গোপন ভিডিও ঘিরে দ্বন্দ্ব : অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের কারণে খোরশেদের কাছে তারিনের সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর একাধিক ভিডিও ও ছবি ছিল। সম্প্রতি তারিন ঢাকায় গিয়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিরোধ একপর্যায়ে এমন অবস্থায় পৌঁছায়, দুজনই একে অপরকে হুমকি দিতে শুরু করেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে খোরশেদ ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে তারিনকে দমানোর চেষ্টা করেন। এতে তারিন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত ‘সমঝোতার’ কথা বলে সৈকতের কবিতা চত্বরে দুজনের দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।

ছিনতাইকারী হারুনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হারুনের মোবাইলে একটি কল আসে। কলদাতা জানায়, কবিতা চত্বরে এক ছেলে ও এক মেয়ে দেখা করবে; বনিবনা না হলে ছেলেটির মোবাইল ছিনতাই করে মেয়েটির কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তার দাবি, কলদাতা আয়ুব নামের এক ব্যক্তি, যিনি হারুনের বন্ধু এবং তারিনেরও ঘনিষ্ঠ।

যেভাবে খোরশেদ হত্যাকাণ্ড : ঘটনার দিন রাত ৯টার পর খোরশেদ ও তারিন আলাদা রিকশায় কবিতা চত্বরে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা সৈকতের বালিয়াড়িতে নেমে কথা বলতে শুরু করেন, যা দ্রুত তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একপর্যায়ে তারিন ব্যাগ থেকে একটি ছুরি বের করে আঘাতের চেষ্টা করলে খোরশেদ আত্মরক্ষায় তার চুলের মুঠি ধরে ধস্তাধস্তি করেন। ঠিক তখনই ঝাউবনের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে ওতপেতে থাকা হারুন, জিসান ও বেলালসহ অন্তত চারজন। তারা ছুরি দেখিয়ে খোরশেদের মোবাইলসহ সবকিছু দিতে বলে। আশ্চর্যজনকভাবে ঝগড়া ভুলে তারিনও খোরশেদকে মোবাইল ছিনতাকারীদের দিয়ে দিতে বলেন। তবে খোরশেদ প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও কিল-ঘুসি মারে তারা। একপর্যায়ে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার পর সেটি তারিনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তারিন ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে ফোনটি যাচাই করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, সেসব ভিডিও তখনই মুছে ফেলা হয়। হামলাকারীরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

সূত্র বলছে, ঘটনার প্রায় ২০ মিনিট পর তারিন আবার খোরশেদের কাছে ফিরে যান। ততক্ষণে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয় খোরশেদের।

আগেই দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তারিন : নিহত খোরশেদের বন্ধু রবিউল হোসেন জানান, ১৯ মার্চ রাতে আপন টাওয়ারের পাশে তাদের অস্থায়ী হালিম-বিরিয়ানি দোকানে উপস্থিত হন তারিন। এ সময় খোরশেদ কোথায়-জানতে চাইলে তারা জানান, জানেন না। এ সময় রবিউল ছাড়াও আকিব, ফেরদৌস ও ইয়াসিন উপস্থিত ছিলেন। পরে তারিন বলেন, তার ফোনে ব্যালেন্স নেই এবং একটি ফোন চান। ইয়াসিন তার ফোনটি দিলে খোরশেদকে কল করেন তারিন। ওইদিন ইয়াসিনের ব্যবহৃত ০১৮৮৩৪৯৬০৭০ নম্বর থেকে রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে ২ মিনিট ১১ সেকেন্ড কথা বলেন তারিন। এ সময় খোরশেদকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ৫ মিনিটের মধ্যে তার কাছে না এলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে জানান রবিউল।

তারিনের যত অসংগতিপূর্ণ আচরণ : সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, খোরশেদ বাসা থেকে বের হন রাত ৯টা ১৭ মিনিটে এবং তারিন রিকশায় কবিতা চত্বরে পৌঁছান ৯টা ২৭ মিনিটে। লাশ উদ্ধার করা খোরশেদের বন্ধু শাহজাহান জানান, রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তারিন নিজের মোবাইল থেকে তাকে কল দেন, তবে তিনি রিসিভ করেননি। পরে ১০টা ২৪ মিনিটে খোরশেদের মোবাইল থেকে কল পেয়ে তিনি জানান, খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে খোরশেদকে উদ্ধার করে ১০টা ৪১ মিনিটে হাসপাতালে নেন, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহজাহানের দাবি, ফোন পাওয়ার ১ মিনিটের মধ্যেই তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা দেন এবং ১০ মিনিটের কম সময়ে পৌঁছান। তারিন তাদেরকে দেখে চিৎকার করে বলেন, ছিনতাইকারীরা খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করেছে। তিনি প্রায় ৩০০ ফুট দূর থেকে খোরশেদের অবস্থান দেখিয়ে দেন। শাহজাহান জানান, খোরশেদকে গাড়িতে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তারিন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তারিন খোরশেদের মোবাইল থেকে কল দিলেও সেদিন খোরশেদের প্যান্টের পকেটেই তার মোবাইল পাওয়া যায়।

শাহাজান আরও জানান, ঘটনাস্থলে তারিনকে থ্রি-পিস পরা অবস্থায় দেখা গেলেও হাসপাতালে তিনি বোরকা ও মাস্ক পরে আসেন এবং অন্তত ২০-৩০ মিনিট পর সেখানে পৌঁছান, যা ছিল রহস্যজনক।

খোরশেদের মা সাবেকুন নাহার বলেন, তারিনই তাকে ডেকে নিয়ে হত্যার ফাঁদে ফেলেছে। তিনি দাবি করেন, তাদের মধ্যে তিন মাস ধরে কোনো সম্পর্ক ছিল না।

মামলার বাদী খোরশেদের ছোট ভাই নাওশাদ ও ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার ছুরিটি তারিনেরই ছিল। সেটা দিয়ে সে সবসময় বন্ধুদের ভয় দেখাতো।

এদিকে ঘটনার পর থেকে তারিনকে নিয়ে নানা অভিযোগ উঠলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গত তিন সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি প্রতিবেদক। কয়েক দফায় সামনাসামনি কথা বলার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি এড়িয়ে যান। তবে ফোনে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অন্যদিকে মামলার কয়েকজন আসামি ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, খোরশেদ হত্যার বিষয়ে কয়েকদিনের মধ্যে অগ্রগতি পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, মামলায় কার নাম আছে বা নেই, সেটি বড় বিষয় নয়, পুলিশ প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে।