খুঁজুন
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে গিয়ে আটক বিএনপি-জামায়াতের ৫ নেতা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে গিয়ে আটক বিএনপি-জামায়াতের ৫ নেতা
শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার মিরপুরে আটক চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে গেলে জামায়াত ও বিএনপির ৫ নেতাকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

 

 

শনিবার (৯ মে) রাতে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আটক রবিউল ইসলাম (৩৩) কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর এলাকার রমজান আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম। তিনি ওই এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

 

থানা হেফাজতে নেওয়া ৫ জনের মধ্যে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতা নওদা আজমপুর এলাকার নূর মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে এনামুল হক (৪৫), একই এলাকার জামায়াত নেতা পরিচয়দানকারী মেহের আলী মালিথার ছেলে ও সদরপুর ইউনিয়নের জামায়াত মনোনীত মেম্বার প্রার্থী আলাউদ্দিন (৪৩), আলী আকবরের ছেলে সুজন আলী (৩৩), রমজান মন্ডলের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৫), মৃত ইছাহক মালিথার ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩৯)।

 

মিরপুর থানা পুলিশের ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, মিরপুরে মাদক ব্যবসা নির্মূলে কঠোরভাবে কাজ করছে পুলিশ। শনিবার রবিউল ইসলাম নামের এলাকার চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ আটক করে। এরপর রাতে থানায় নিজেদের বিএনপি এবং জামায়াত নেতা পরিচয়ে ৫ জন ব্যক্তি তাকে ছাড়ানোর তদবির করতে আসেন। এ ঘটনায় পরিচয়দানকারী জামায়াতের ৪ জন এবং বিএনপির একজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পর এবার ‘মোদি মহিষ’ ভাইরাল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পর এবার ‘মোদি মহিষ’ ভাইরাল
শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জে পশু খামারের আলোচনা যেন থামছেই না। সম্প্রতি ভাইরাল ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু মহিষের পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের ‘মোদি মহিষ’। তবে, নামের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে মহিষটির অস্বাভাবিক লম্বা আর সাদা দাড়ি ও ভিন্ন রকম চেহারার কারণে।

 

বিরল প্রজাতির এলভিনো বা গোলাপি রঙের বিশাল আকৃতির এই মহিষটির দেখা মিলছে স্থানীয় একটি খামারে।

 

এ নিয়ে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, মহিষটির শরীরজুড়ে হালকা সাদা আভা আর মুখের নিচে ঝুলে থাকা লম্বা সাদা দাড়ি, যা সহজেই নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের। মোদি মহিষকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই খামারে ভিড় করছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

 

খামার সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে মহিষটির নির্দিষ্ট কোনো নাম ছিল না। তবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজনদের মাঝে শুরু হয় মজার আলোচনা। অনেকেই এর লম্বা সাদা দাড়ি ও চেহারার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মিল খুঁজে পান। পরে মজার ছলেই অনলাইন জরিপের মাধ্যমে নাম রাখা হয় মোদি।

 

এদিকে ঈদুল আজহা ঘিরে এমন ভিন্নধর্মী নামের পশু নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন খামারিরা। কারো নাম ট্রাম্প, কারো নেতানিয়াহু। এরই ধারাবাহিকতায় সেই তালিকায় আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে মোদি নামের সাদা দাড়িওয়ালা মহিষ।

 

প্রসঙ্গত, শহরের পাইকপাড়া এলাকায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত দেখতে একটি মহিষ নিয়ে সরগরম হয় নারায়ণগঞ্জ। এর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্ষ্যাপাটে মহিষ ‘নেতানিয়াহু’। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

 

তবে, ঈদের আগে পশুর হাটে আবার কোন পশু কার রূপ ধরা দেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নারীর দাফন নিয়ে গ্রামবাসীর আপত্তি, অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
নারীর দাফন নিয়ে গ্রামবাসীর আপত্তি, অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপ
শেয়ার করুন

চুয়াডাঙ্গায় টিকটকে নাচ-গান নিয়ে বিতর্কে এক নারীর মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকালে নিহতের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর দাফনে বাধা দেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন ওই নারী। পারিবারিক কলহের কারণে বুধবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকার নিজ বাড়িতে আনা হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই দাফন নিয়ে আপত্তি তোলেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোটবেলা থেকেই নাচ-গান করতেন ওই নারী। অংশ নিতেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি ছিল বলে দাবি করেন তারা। তার পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে তার মরদেহ দাফনে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কবরস্থান কমিটির সঙ্গে কথা বলে ধর্মীয় ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। পরে রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৭৮ শতাংশ নিয়েছে আ. লীগ সরকার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৭৮ শতাংশ নিয়েছে আ. লীগ সরকার
শেয়ার করুন

উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আওয়ামী লীগ সরকার সাড়ে ১৫ বছরে নতুন ঋণ নেয় ৮ হাজার ৬২ কোটি ডলার। চড়া সুদ ছাড়াও ঋণের বড় অংশই ছিল কঠিন শর্তের জালে বন্দি।

 

 

বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়বে আগামী অর্থবছরে, ইতোমধ্যে চলতি মার্চ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে ৪০০ কোটি ডলার। আর স্বাধীনতার পর থেকে দেশের মোট বিদেশি ঋণের মধ্যে ৭৮ শতাংশই নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। ওই সরকারের সময় ২০০৮ সালে তা বেড়ে হয় ২২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার।

 

 

ওই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর ২০২৪ সালে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন বা ১০ হাজার ৪৭৬ কোটি ডলারে। অন্তর্বর্তী সরকার ডলার–সংকট মেটাতে ঋণ নেয়। ফলে ২০২৫ সালে বিদেশি ঋণ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

 

 

অর্থাৎ দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৭৯.৯২ শতাংশ নিয়েছে আ.লীগ সরকার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময় ২০০৯ সালের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ৬৯ টাকা। তবে ক্ষমতা ছাড়ার সময়ে ২০২৪ সালের আগস্টে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১২০ টাকা। এমনকি ব্যাংকে ১৩২ টাকা দরেও ডলার বিক্রি হয়েছে। একই সময়ের ব্যবধানে বেড়েছে বৈদেশিক ঋণের সুদের হারও।

 

 

২০০৯ সালের শুরুতে বৈদেশিক ঋণের সুদহার ছিল ৪ থেকে ৫ শতাংশ। কোনো কোনো খাতে আরো কম। এখন ঋণের সুদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ থেকে ৯ শতাংশ। ২০২২ থেকে ২৪ সালে বৈশ্বিক মন্দার সময়ে এ হার আরও বেশি ছিল। চুক্তি অনুযায়ী মোট ঋণের মধ্যে ৭৫ শতাংশ ঋণের সুদ ও বিনিময় হারই বাজারভিত্তিক হবে। অর্থাৎ ঋণ যখন পরিশোধ করা হবে তখন বাজারে যে সুদহার ও ডলারের দাম যা থাকবে ওই হারে পরিশোধ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ডলারের দাম বেড়েছে ৫১ টাকা। এতে সমান হারে টাকার মান কমেছে। ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে নিয়মিত বাড়তি সুদের পাশাপাশি দণ্ড সুদ বা সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

এতে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে, যা রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। মোট ঋণের প্রায় ৭৬ শতাংশ চড়া সুদ ও কঠিন শর্তের ঋণ। এসব শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়েও সরকারকে ভোক্তার ওপর চাপ বাড়াতে হয়েছে। এসব মিলে বৈদেশিক ঋণের অর্থ অপব্যবহারের ফলে সব চাপ পড়েছে জনগণের ওপর।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেপরোয়া বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার কারণে এখন ওই সব ঋণ পরিশোধের চাপও বেশি। সরকারি বা বেসরকারি খাতের প্রতিটি ঋণের বিপরীতেই রাষ্ট্র বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্যারান্টি রয়েছে। ফলে অনেক ঋণগ্রহীতা এখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও বা জেলে থাকলেও ওইসব ঋণ এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে পরিশোধ করতে হচ্ছে। বেসরকারি খাতের ঋণ গ্রাহকের নামে ফোর্স লোন সৃষ্টি করে বাজার থেকে চড়া দামে ডলার কিনে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

 

সূত্রমতে, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৭৮ শতাংশই নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। বাকি ২২ শতাংশ নেওয়া হয়েছে অন্যান্য সরকারের আমলে।

 

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণের প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত শুধু সরকারি খাতেই ৪০০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হবে। এরপর থেকে ঋণ পরিশোধ কমতে থাকবে। সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ শোধ করার নিয়ম হচ্ছে রাজস্ব আয় বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে টাকা দেবে সরকার। ওই অর্থ দিয়ে ডলার কিনে ঋণ শোধ করা হবে। এখন অর্থনৈতিক মন্দায় রাজস্ব আয় কম হওয়ায় বৈদেশিক ঋণ শোধের জন্য টাকার জোগান রাজস্ব আয় থেকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারকে স্থানীয়ভাবে ঋণ নিয়ে তা দিয়ে ডলার কিনে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

 

 

প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে দেশের মানুষের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬০৭ ডলারে। অথচ ২০০৯ সালের শুরুতে ছিল ১৬৯ ডলার। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৪৩৮ ডলার। মাথাপিছু মোট বৈদেশিক ঋণের ৭০ দশমিক ৫১ শতাংশই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেড়েছে। বাকি ২৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়েছে অন্যান্য সরকারের আমলে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মাথাপিছু বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৫৭ ডলারে।

 

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থাৎ ২০০৯ সালের শুরুতে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ২ হাজার ২৭৯ কোটি ডলার। ক্ষমতা ছাড়ার সময়ে ২০২৪ সালের জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৩৪১ কোটি ডলারে। আলোচ্য সময়ে দেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৮ হাজার ৬২ কোটি ডলার।

 

সম্প্রতি প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপে পড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে এখন রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ, বিদেশি ঋণ ও অনুদান বাবদ যেসব বৈদেশিক মুদ্রা আসে তা দিয়ে আমদানি ব্যয়, সেবা খাতের ব্যয়, বেসরকারি খাতের ঋণ পরিশোধ করার পর বাড়তি ডলার থাকছে না। ফলে রিজার্ভ থেকে অর্থ নিয়ে সরকারি খাতের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে রিজার্ভে চাপ বেড়েছে। অথচ আগে দৈনন্দিন আসা ডলার থেকে ওইসব ব্যয় মিটিয়ে যা উদ্বৃত্ত থাকত তা দিয়ে সরকারি খাতের ঋণ শোধ করা হতো।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়েও বছরে বৈদেশিক ঋণ বাবদ পরিশোধ করা হতো ১৫০ কোটি থেকে ২০০ কোটি ডলার। এখন পরিশোধ এত বেড়েছে যে, শুধু গত অর্থবছরেই পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে পরিশোধের পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

 

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সে অনুপাতে দেশের রিজার্ভ না বাড়ায় এখন ঋণের বিপরীতে রিজার্ভের অনুপাত একেবারেই কম। এ অনুপাত এখন ২৩ শতাংশে নেমেছে। ২০২০ সালে যা ছিল ৬০ শতাংশ।

 

 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ-এর গবেষক হেলাল আহমেদ জনি কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈদেশিক ঋণ নিয়ে সেগুলো উন্নয়ন খাতে ব্যয় করলে কিছুটা সুফল মিলত। কিন্তু ঋণের টাকার একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ফলে বিদেশি ঋণের টাকায় দেশে কিছুই করা হয়নি। বরং দেশ থেকে টাকা পাচার হওয়ায় দেশের দায় বেড়েছে। সাধারণত বৈদেশিক ঋণ নিয়ে তা যদি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়-এমন সব প্রকল্পে ব্যয় করা হলে তাহলে পরিশোধের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম থাকে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব ঋণ নেওয়া হয়েছে তার প্রায় সবই খরচ করা হয়েছে স্থানীয় মুদ্রা নির্ভর প্রকল্পে। ফলে দুভাবে ওইসব ঋণ অর্থনীতিতে ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে।

 

এক. পাচার করে ও দুই. স্থানীয় অর্থ আয় নির্ভর প্রকল্পে ব্যয় করে। যে কারণে এখন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঋণের বোঝা টানতে গিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী রিজার্ভ বাড়ানো যাচ্ছে না। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এ নেতিবাচক প্রভাব আরো বেড়েছে। যার সরাসরি দায় বহন করতে হচ্ছে দেশের মানুষকে।