খুঁজুন
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হাসান জিলহানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পায়ের রগ কেটে ও কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

 

 

পরে শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ শাখার সহসভাপতি। তিনি ওই এলাকার মৃত হারুনের ছেলে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পুকুরপাড়ে নিয়ে জাকারিয়া হাসান জিলহানকে রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষরা কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে ফেলে যায়।

 

 

জাকারিয়ার এক আত্মীয় জানান, তিনি এখন ঢাকার একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

 

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে এমন ক্ষত রয়েছে যে সেলাই দেওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। তার পায়ের রগ কাটা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

তিনি আরো জানান, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

সীতাকুণ্ড মডলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনার তদন্তে কাজ শুরু করেছে। হামলাকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়েছে।

 

 

হামলাকারীরা সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।’

তবে হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি বলে জানান ওসি। আত্মগোপনে থাকা স্থানীয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আবু তাহের বলেন, আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন।

 

আবু তাহের দাবি করেন, দখল, পাহাড় কাটাসহ নানা বিষয়ে ফেসবুকে সরব ছিলেন জাকারিয়া। এ ছাড়া দলীয় পোস্টও দিতেন তিনি। সেই কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা করা হয়েছে।

পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার ২ বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার ২ বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের চকরিয়ার দুই বন্ধু পৃথক দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, চকরিয়া-বদরখালী সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চকরিয়া পৌরসভার সাবেক এক কাউন্সিলরের বড় ছেলে। শৈশবের এই দুই বন্ধুর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

লোহাগাড়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে প্রাণ গেল তামিমের

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া বিদ্যুৎ অফিস এলাকায়। নিহত মোস্তাকিম কামাল তামিম চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালাকাকারা তিন বটতল সওদাগরপাড়ার বাসিন্দা এবং ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, রোববার (১৭ মে) রাত ১০টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কেবি জালালউদ্দিন সড়কে প্রাণ গেল শওকতের

অপরদিকে, একই রাতে চকরিয়া-বদরখালী সড়কের সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর স্টেশন এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন শওকত হোসেন, যিনি চকরিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নুরুল আমিনের বড় ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের উন্নয়ন কাজের অব্যবস্থাপনা ও সতর্কীকরণ চিহ্নের অভাবের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

 

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, নিহত মোস্তাকিম কামাল তামিম ও শওকত হোসেন ২০২১ ব্যাচের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে সহপাঠী ও পরিচিতদের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

 

পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বন্ধুর মৃত্যুতে চকরিয়া জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

কুমারী মেয়ের নীরবতাই বিয়ের সম্মতি, আফগানিস্তানে নতুন আইন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
কুমারী মেয়ের নীরবতাই বিয়ের সম্মতি, আফগানিস্তানে নতুন আইন
শেয়ার করুন

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশে একটি নতুন পারিবারিক আইন বিধিমালা জারি করেছে। এই নতুন বিধিমালার অধীনে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ এবং বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়মকানুন তালেবানের নিজস্ব ইসলামিক ব্যাখ্যার আলোকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘দম্পতিদের পৃথকীকরণের নীতি’ শিরোনামের এই ৩১ অনুচ্ছেদের ডিক্রিটি অনুমোদন করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এই নথিতে তালেবান শাসনের অধীনে বিয়ের বিরোধ, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব এবং বিয়ে বাতিলের প্রক্রিয়াগুলো বিশদভাবে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

এই ডিক্রির সবচেয়ে বিতর্কিত ধারাগুলোর একটিতে বলা হয়েছে যে কোনো ‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাকে বিয়ের সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে কোনো ছেলে বা বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না, অর্থাৎ তাদের নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে নেওয়া যাবে না।

এছাড়া এই নতুন আইন নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিয়ের অনুমতি দেয় এবং এ ধরনের বিয়ের ক্ষেত্রে বাবা ও দাদাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে। আইন অনুযায়ী, আত্মীয়দের দ্বারা ঠিক করা কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ের বিয়ে তখনই বৈধ বলে গণ্য হবে যদি বর সামাজিকভাবে উপযুক্ত হয় এবং মোহরানা ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে। নতুন এই নিয়মে ‘খিয়ার আল-বুলুগ’ বা ‘বয়ঃসন্ধির পর পছন্দ’ নামক একটি আইনি নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বয়ঃসন্ধির আগে হওয়া কোনো বিয়ে, পরবর্তীতে সন্তানটি বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর তার অনুরোধে বাতিল করার সুযোগ থাকবে। তবে এই বিয়ে বাতিলের জন্য অবশ্যই ধর্মীয় আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি সঙ্গী যদি অনুপযুক্ত হয় কিংবা মোহরানার পরিমাণে যদি চরম ভারসাম্যহীনতা থাকে, তবে সেই বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ হবে না।

এই ডিক্রিটি তালেবান বিচারকদের ব্যভিচারের অভিযোগ, ধর্মান্তর, স্বামীর দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি এবং ‘জিহার’-এর মতো বিষয়গুলোর বিরোধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা দেয়। জিহার হলো একটি ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক ধারণা যেখানে স্বামী তার স্ত্রীকে এমন কোনো নারী আত্মীয়ের সঙ্গে তুলনা করেন যাকে বিয়ে করা তার জন্য নিষিদ্ধ।

এই বিধানগুলোর অধীনে বিচারকরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির নির্দেশ দিতে পারেন। ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারী ও মেয়েদের ওপর তালেবানের নানা কঠোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই নতুন পারিবারিক আইনটি জারি করা হলো।

রামুতে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ যুবক গ্রেফতার

রামু প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
রামুতে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ যুবক গ্রেফতার
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রামুতে পুলিশের অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির খোসাসহ এক অবৈধ অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

শনিবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু থানার একটি দল উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোদালিয়াকাট এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় মো. তারেক (২৫) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার দেখানো মতে শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুইটি ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃত মো. তারেক ঈদগড় ইউনিয়নের করলিয়ামুড়া এলাকার বাসিন্দা।

 

রামু থানা পুলিশ জানায়, কক্সবাজার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে এসআই আব্দুল খালেক ও এএসআই মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম অংশ নেন।

 

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মাদক মামলার তথ্য রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।