খুঁজুন
, ,

কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে পুলিশের টোকেন’ই যেন লাইসেন্স

শাহেদ ফেরদৌস হিরু ও এম.এইচ আরমান
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে পুলিশের টোকেন’ই যেন লাইসেন্স
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভকেন্দ্রিক রেন্ট বাইক ব্যবসাকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম, মাসোহারা বাণিজ্য এবং ট্রাফিক পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

অভিযোগ রয়েছে, “র‍্যাংকন, কে.এফ,, এইচ.এফ, এফ.এইচ, এইচ.বি,আর, জে.এম, এম, সি, জে.এইচ ও এ” সহ বিভিন্ন নামের বিশেষ টোকেন ব্যবহার করে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে রেন্ট বাইক। এসব টোকেন ব্যবহারকারী মোটরসাইকেলগুলোকে মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে ট্রাফিক পুলিশ কোনো ধরনের কাগজপত্র যাচাই, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মেরিন ড্রাইভ ও পর্যটন জোন জুড়ে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজারের বেশি রেন্ট বাইক চলাচল করছে। এর মধ্যে নিয়মিত মাসোহারা প্রদানকারী বাইকগুলোকে বিশেষ টোকেন সরবরাহ করা হয়। আর এই টোকেনই মূলত পুলিশের চেকপোস্ট পার হওয়ার ‘পাস’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, টোকেনযুক্ত মোটরসাইকেল দেখলে ট্রাফিক সদস্যরা আর কোনো ধরনের কাগজপত্র দেখতে চান না। ফলে রেজিস্ট্রেশনবিহীন, নম্বরপ্লেট বিহীন, চোরাই মোটরসাইকেল, বর্ডার ক্রস মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই এসব দিন-রাত মেরিন ড্রাইভ ও পর্যটন এলাকায় বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এফ.এইচ, কে.এফ, এইচ.বি ও এইচ.এফ নামের প্রায় এক হাজার টোকেনের নিয়ন্ত্রণে করছেন ফরহাদ নামের এক যুবক। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই টোকেন বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।

একইভাবে “এম” নামের প্রায় ৩ শতাধিক টোকেন পরিচালনা করেন কলাতলি এলাকার এক যুবক। অন্যদিকে সুগন্ধা পয়েন্টস্থ পানসি সড়কের মুখে “জে.এইচ” নামের আরও প্রায় ৫ শতাধিক টোকেন নিয়ন্ত্রণ করেন বাহারছড়া এলাকার মিটুন ও নুনিয়ারছড়ার নয়ন নামের দুই যুবক। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি ট্রাফিক পুলিশের কিছু সদস্যের সহযোগিতায় নতুন করে এই টোকেন লাইন চালু করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিটি টোকেনের বিপরীতে মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। আর সেই অর্থের একটি অংশ নিয়মিতভাবে পৌঁছে যায় সংশ্লিষ্ট অসাধু ট্রাফিক সদস্যদের কাছে। ফলে অবৈধ রেন্ট বাইক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন টোকেন যুক্ত হয়ে এই সিন্ডিকেট আরও বড় আকার ধারণ করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলাতলি মোড়, লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, সী-প্যালেস পয়েন্ট, কুটুমবাড়ি পয়েন্ট ও মেরিন ড্রাইভজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী রেন্ট বাইক টার্মিনাল। পর্যটকদের কাছ থেকে শুধু নাম, ফোন নম্বর কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়েই ঘণ্টাভিত্তিক মোটরসাইকেল ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাড়াটিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করা হচ্ছে না। এমনকি অনভিজ্ঞ কিংবা লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতেও সহজেই তুলে দেওয়া হচ্ছে উচ্চগতির মোটরসাইকেল।

ঢাকার মিরপুর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে আসা পর্যটক শওকত আলী জানান, কলাতলি মোড়ের ইউনিভার্সিটির সামনে থেকে ঘণ্টাপ্রতি ৩০০ টাকা চুক্তিতে তেল ছাড়া ৫ ঘণ্টার জন্য একটি মোটরসাইকেল ভাড়া নেন তিনি। কীভাবে বাইক ভাড়া নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নাম আর ফোন নম্বর দিয়ে একটি ফরমে সই করেছি, এরপর তারা গাড়িটি বুঝিয়ে দিয়েছে। পরে কলাতলি প্রাইমারি স্কুলের আগের একটি দোকান থেকে ১ হাজার টাকার তেল নিয়েছি।

তাঁর কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রবাস থেকে এসেছি, তিন মাস হলো দেশে। ছুটিতে এসেছি, কয়েকদিন পর আবার চলে যাব। রেন্ট বাইক মালিক লাইসেন্স দেখতে চেয়েছিলেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না, শুধু একটি হেলমেট দিয়েছে, আর কিছু না।

একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন সুগন্ধা পয়েন্টে মোটরসাইকেল ভাড়া নেওয়া টাঙ্গাইলের দুই যুবক নাহিয়ান ও আব্দুল্লাহ। তারা জানান, ভোটার আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের একটি প্যাডে সই করে ১ হাজার ২০০ টাকায় ৩ ঘণ্টার জন্য একটি মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়েছেন। অথচ তাদের কারোরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। যাত্রাপথে পুলিশ আটক করলে কী করবেন এমন প্রশ্নে তারা বলেন, রেন্ট বাইক মালিক তাদের একটি বিশেষ লোগো বা টোকেন দেখিয়ে দিয়েছেন এবং সেটি দেখাতে বলেছেন। এরপরও সমস্যা হলে মালিক ফোনে পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, লাইসেন্সবিহীন ও অনভিজ্ঞ চালকদের হাতে নির্বিচারে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়ায় মেরিন ড্রাইভ এখন কার্যত দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। বিশেষ করে পর্যটকদের অনেকেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই উচ্চগতিতে বাইক চালাচ্ছেন। এতে করে একদিকে যেমন প্রাণহানি বাড়ছে, অন্যদিকে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ট্রাফিক সদস্যের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও মাসোহারা বাণিজ্যের কারণেই এই টোকেনভিত্তিক সিন্ডিকেট দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িত রেন্ট বাইক ব্যবসায়ী, টোকেন নিয়ন্ত্রক এবং অভিযুক্ত ট্রাফিক সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কক্সবাজারের পর্যটন খাত ও সড়ক নিরাপত্তা দুটোই বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

মাসোহারার বিষয়ে কোন ট্রাফিক কর্মকর্তা জড়িত থাকার প্রমাণ থাকলে পুলিশ সুপারকে অবগত করার জন্য বলে দায় এড়িয়ে যান কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার বলেন।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, ট্রাফিক পুলিশের মাসোহারার বিষয়টি আমার জানা নেই।সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে যদি কেউ অভিযোগ করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।