খুঁজুন
, ,

টেকনাফে সেনাবাহিনী-বিজিবি-পুলিশের যৌথ অভিযান: অস্ত্রসহ আটক ৩, উদ্ধার ৫৭ জন; গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
টেকনাফে সেনাবাহিনী-বিজিবি-পুলিশের যৌথ অভিযান: অস্ত্রসহ আটক ৩, উদ্ধার ৫৭ জন; গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ৬৪ বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৫৭ জন মালয়েশিয়াগামী ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এদিকে, অভিযান চলাকালে পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সৈনিক তিতাস নামে এক সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী কাঁটাতারের বেড়া থেকে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের অবস্থানের তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৬৪ (বিজিবি) ও টেকনাফ থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পাচারকারী চক্রের সদস্যদের সঙ্গে আভিযানিক দলের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে হ্নীলা রঙ্গিখালী আর্মি ক্যাম্পের সৈনিক তিতাস গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

আহত সেনাসদস্যকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নয়াপাড়াস্থ আইআরসি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কক্সবাজারের রামু ক্যান্টনমেন্টের সিএমএইচ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

অভিযানে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৭ জন মালয়েশিয়াগামী ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক তিনজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও একজন রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে।‌ অভিযানস্থল থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

এ বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখলেই মিলবে বেতন, কর্মী খুঁজছে প্রতিষ্ঠান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখলেই মিলবে বেতন, কর্মী খুঁজছে প্রতিষ্ঠান
শেয়ার করুন

সারাদিন ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখবেন, খুঁজে বের করবেন কোন ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন কাজের জন্যই কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে ভারতের রাজস্থানের উদয়পুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনফ্লুইশ। পদের নাম ‘ডুমস্ক্রলার’ (Doomscroller)। খবর এনডিটিভির

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীপাবলি উপলক্ষে ব্যতিক্রমী এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ পদে এমন একজনকে খোঁজা হচ্ছে, যিনি দিনের বড় একটি সময় ইনস্টাগ্রাম রিলস দেখবেন এবং প্ল্যাটফর্মে চলমান ট্রেন্ড ও ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানকে জানাবেন।

 

প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। সেখানে একজন বলেন, ‘আপনি যদি সত্যিই ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে পছন্দ করেন, তাহলে আমরা আপনাকে এ কাজের জন্য অর্থ দেব। আমরা এমন একজন ডুমস্ক্রলার খুঁজছি, যিনি সারাদিন রিলস স্ক্রল করবেন এবং ইনস্টাগ্রামে কী ভাইরাল হচ্ছে, তা সবাইকে জানাবেন।’

 

আগ্রহীদের ভিডিওটিতে ‘হাই’ (Hi) লিখে মন্তব্য করতে বলা হয়েছে। উদয়পুরে অবস্থানরত প্রার্থীদের সরাসরি বার্তার (ডিএম) মাধ্যমে আবেদন করার লিংক পাঠানো হবে।

 

এ ছাড়া ইনস্টাগ্রামে ‘গ্যাংস অব স্টার্টআপ’ (gangsofstartup) নামের অ্যাকাউন্টের বায়োতে থাকা গুগল ফরমের মাধ্যমেও আবেদন করা যাবে। আবেদনপত্রে প্রার্থীর নাম, ফোন নম্বর ও ঠিকানা দিতে হবে। পাশাপাশি পূর্ণকালীন চাকরি নাকি ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করছেন, কোন পদে আগ্রহী, বর্তমান বেতন ও প্রত্যাশিত বেতন কত—এসব তথ্য জানাতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে জীবনবৃত্তান্তও (সিভি) আপলোড করতে হবে। বাছাই করা প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

 

গত ৪ নভেম্বর ইনস্টাগ্রামে নিয়োগসংক্রান্ত ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। দ্রুতই এটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এনডিটিভির ৫ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটি এরই মধ্যে ৩ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এ ছাড়া ১১ হাজারের বেশি মানুষ আবেদন ফরম চেয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

ব্যতিক্রমী এই চাকরির বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। কেউ এটিকে ‘স্বপ্নের চাকরি’ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ জানিয়েছেন, এমন একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

রাষ্ট্রপতির আগমনে ঢাকা কলেজে মুছে ফেলা হলো জুলাইয়ের গ্রাফিতি, জানেন না অধ্যক্ষ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির আগমনে ঢাকা কলেজে মুছে ফেলা হলো জুলাইয়ের গ্রাফিতি, জানেন না অধ্যক্ষ
শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঢাকা কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি সাদা রং দিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা- সমালোচনা।তবে গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।

 

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের নায়েমের গলিসংলগ্ন প্রাচীরে দুই বছরেরও অধিক সময়ের পুরোনো আন্দোলনের সময় আঁকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতিগুলো সাদা রং দিয়ে মুছে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া, মিরপুর রোড সংলগ্ন কলেজের সামনে অংশেও মুছে দেওয়া হয়েছে গ্রাফিতি। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রজনতার সংগ্রাম আর রাষ্ট্র সংস্কারে দাবিগুলোও হারিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তৎকালীন গ্রাফিতি অঙ্কনের নেতৃত্ব দেওয়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি নাহিয়ান রেহমান রাহাত বলেন, ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের দেয়াল থেকে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার মধ্য দিয়ে কলেজ প্রশাসন একটা অগণতান্ত্রিক এবং জুলাই স্মৃতি বিরোধী দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। কিন্তু কোনোভাবেই জুলাইয়ের স্মৃতি, সংগ্রাম এবং আকাঙ্ক্ষাকে মুছে ফেলা যাবে না। যারা জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলতে পারে, তারা কীভাবে জুলাইয়ের স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারে? এই প্রশ্ন আমরা করতে চাই।

 

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি আসবে ক্যাম্পাসের জন্য এটা খুব ভালো ব্যাপার। কিন্তু তার জন্য পরিচ্ছন্নতার অজুহাতে দেয়াল থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলা যায় না। গ্রাফিতি কি অপরিষ্কার? এটা তো ফ্যাসিস্ট ব্যাপার। যখন যা মন চায় তারা তাই করে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি তারা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারে না বলেই পরিষ্কারকরণ নামে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলতে পারে। পরিষ্কার করতে হলে ক্যাম্পাসের জঞ্জালগুলোকে পরিষ্কার করুক। ক্যাম্পাসের মাঠের মধ্যে ময়লা পড়ে থাকে, সেগুলো পরিষ্কার করতে পারে না তারা? দেয়াল মুছতে গিয়ে জুলাইয়ের গ্রাফিতি যেগুলো এখনো উজ্জ্বল সবার কাছে, এই গ্রাফিতির অপসারণ করার তো কোনো মানে হয় না।

 

‎এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কলেজের এক শিক্ষার্থী মো: জুলফিকার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ঢাকা কলেজের প্রতিটি দেয়ালে জুলাই এর সকল গ্রাফিতি এই ভাবে মুছে দেওয়া কতটা সমিচিন। পুনরায় আবার গ্রাফিতি আঁকা হবে কি না কলেজ প্রশাসনের কাছে জানতে চাই।এই ভাবে জুলাই কে মুছে দিতে পারি না।সকল ছাত্র প্রতিনিধিদের বিষয়টি নিয়ে কথা বলা উচিত।

 

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ মিল্লাদ হোসেন বলেন, কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাসে আসবেন। তাই সৌন্দর্য রক্ষার অংশ হিসেবে পুরো ক্যাম্পাসের দেয়ালগুলোতে রং করা হচ্ছে। জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে রং করা হচ্ছে না।

 

পুনরায় গ্রাফিতি গুলো অংকনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো আমরা আমাদের মতো করে অংকন করবো কিংবা অন্যান্য সংগঠন বা সামাজিক সংগঠনগুলো চাইলে সুন্দর করে আবার অংকন করতে পারে।

 

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আমি ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময় পর্যন্ত এ বিষয়টি অবগত ছিলাম না। পরে বিষয়টি জানতে পেরেছি। কলেজে থাকাকালীন জানলে গ্রাফিটি মুছে ফেলতে নিষেধ করে আসতাম।

 

তিনি আরও বলেন, গ্রাফিতির ব্যাপারে আমাদের কোনো রকম নেতিবাচক কোনো নির্দেশনা নাই। এটা স্পষ্টভাবে বলছি। এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা হয়েছে।

 

পুনরায় গ্রাফিতি অঙ্কন করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুছে ফেললে সেটা লিখে দিতে হবে আর যদি মুছা না হয়ে থাকে, বাকিটুকু না মুছে কীভাবে ওই সংস্কার করা যায়। কারণ আমাদের সংস্কার দরকার, এটা হলো মূল কথা। কিন্তু গ্রাফিতিকে বাদ দিয়ে না।

 

এছাড়াও দেয়াল থেকে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা কলেজ শাখা। একইসাথে মুছে ফেলা গ্রাফিতি দ্রুত পুনরুদ্ধারসহ ৪ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

উল্লেখ্য, ঢাকা কলেজের ১৮৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং বাংলাদেশের বর্তমান ২৩ তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট, কপাল পুড়ল নেতানিয়াহুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট, কপাল পুড়ল নেতানিয়াহুর
শেয়ার করুন

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। এতে পার্লামেন্ট নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছে তুলনামূলক কমসংখ্যক আইনপ্রণেতা। ফলে নতুন সরকার গঠনের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন নেতানিয়াহু। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলেও তাদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনে আপত্তি রয়েছে আইজেনকটের সম্ভাব্য জোটের কয়েকটি ইহুদি দলের।

 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানান। বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছে ৪৬ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো।

 

সমর্থনের এই ব্যবধান স্পষ্ট হলেও সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন হারজগ। আগামী রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি।

 

আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটির ভাষ্য, ২০১৫ সালের পর ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে এত বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন আর কেউ পাননি।

 

আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এর পরপরই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এদিকে সরকার গঠনের আলোচনা চললেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইয়াশার। দলটির নেতাদের মতে, ইসরায়েলের এখন নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন।

 

তবে সরকার গঠনের পথ এখনো সহজ নয়। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত। এর মধ্যে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন চারটি দলের আসন ৪৮টি। অন্যদিকে আরবদের নেতৃত্বাধীন দুটি দল ও জোটের আসন ১৯টি। বিরোধী শিবিরের সবাই আইজেনকটকে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু ইহুদি নেতৃত্বাধীন তিনটি দল এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনে রাজি হয়নি।

 

আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া আরব দলগুলোর মধ্যে রয়েছে রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস আইজেনকটের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পক্ষে মত দেন।

 

আব্বাস বলেন, তিনি আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি ভালো সরকার দেখতে চান। ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেট মিলে যে সরকার গঠন করেছিলেন, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই বিবেচনাতেই সেই সরকারের সবচেয়ে খারাপ দিনও বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক ভালো ছিল।

 

তবে আইজেনকটের সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত রয়েছে। আব্বাস বৈঠকে হামাসকে সরাসরি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। তবে সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হামাসকে নিরস্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

ইসরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো সরকার চাইলে রাআম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও মন্তব্য করেন আব্বাস। তাঁর ভাষায়, সরকারে রাআমের উপস্থিতির কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের রক্ষায় মন্ত্রিসভা বা সরকার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন দাবি সঠিক নয়।

 

অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা বর্ণবাদ, বৈষম্য, অপরাধ ও রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার কারণে পরিবর্তন চান। আইজেনকটের সঙ্গে তাঁদের অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

জয়েন্ট লিস্টের আইনপ্রণেতা আহমেদ তিবি বলেন, তাঁর দল সরকারে সরাসরি অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দিতে পারে। তবে সরকারকে শুধু এক-দুই মাস টিকিয়ে রেখে পরে পতনের মুখে ঠেলে দিতে চান না তাঁরা।

আগামী নেসেটে তাঁদের দলের ১১টি আসন থাকবে উল্লেখ করে তিবি বলেন, পার্লামেন্টে তাঁদের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক বা সংসদীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে না।

 

এদিকে গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও সাত আসনে জয়ী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেয়নি। ফলে আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর জোটের এই সমর্থন সংকট তাঁর ক্ষমতায় ফেরার পথ আরও কঠিন করে তুলেছে।