টেকনাফে পাহাড়ে মানব পাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান: সেনাসদস্য নিহত
কক্সবাজারের টেকনাফে লেদা নুরালীপাড়া পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। উদ্ধার করা হয়েছে মানবপাচারের শিকার ৫৭ জনকে এবং দুটি অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে তিনজন পাচারকারী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নুরালীপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক সেনাসদস্য। ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র- সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনে বরাতে জানান, সেনাসদস্য তিতাস কাঁধের কাছে গুলিবিদ্ধ হন, স্থানীয় মেডিকেল অফিসার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমান বলেন, পাহাড়ে যৌথ অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে ওই পাহাড়ি আস্তানায় অর্ধশতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছিল মানবপাচারকারী চক্র। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালালে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি হয়। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. আলম ও মো. সাদ্দাম ডাকাত জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে।
১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার বলেন, পাহাড়ে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চালাকালে সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। জবাবে যৌথ বাহিনীর সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন।

আপনার মতামত লিখুন