টেলিগ্রামে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই টিএসআইসহ ৫ পুলিশ ক্লোজড
টেলিগ্রাম নিউজ একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর ফাঁস হয়ে যায়—কক্সবাজার জেলা আদালতের হাজতে থাকা অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করছিলেন কুখ্যাত অস্ত্র ব্যবসায়ী ও ডাকাত শাহীনুর রহমান ওরফে শাহীন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনের ভেতরে।
বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই টিএসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করে। একইসঙ্গে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরী।
গত ৯ জুলাই (বুধবার) আদালতে হাজিরা দিতে কোর্ট হাজত থেকে বের করে আনা হয় শাহীন ডাকাতকে। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসে—তার পকেটে রয়েছে একটি স্মার্টফোন।
ঘটনার স্থিরচিত্র ও ভিডিও উপস্থাপন করে ‘টেলিগ্রাম নিউজ’ এ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সেখান থেকে তা ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে। পরে দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালেও উঠে আসে এ ঘটনা।
প্রশ্ন ওঠে—কিভাবে হাজতে থাকা একজন কুখ্যাত আসামির কাছে মোবাইল ফোন পৌঁছায়? কার অনুমতিতে সে ফোন ব্যবহার করছিল?
ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন,টিএসআই সুরেন দত্ত,টিএসআই আবদুল ওয়াহেদ,কনস্টেবল নাজম হায়দার,কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা,কনস্টেবল ইয়াছিন নূর,তাদের সবাইকে কক্সবাজার পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১১ জুলাই (শুক্রবার) গঠিত হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরী বলেন—
“কোর্ট হাজতের মতো একটি সংবেদনশীল স্থানে এমন ঘটনা গুরুতর অবহেলা। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের ক্লোজড করে তদন্তকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। কেউ ছাড় পাবেন না।
কে এই শাহীন ডাকাত?
গ্রেপ্তারকৃত শাহীনুর রহমান ওরফে শাহীন কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে অন্তত ২০টির বেশি মামলা রয়েছে—যার মধ্যে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি ও রোহিঙ্গা সংযোগ–সবই রয়েছে।
গত ৫ জুলাই সকালে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ইউপি সদস্য শাকের আহমদের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি আদালতের রিমান্ডে রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন