খুঁজুন
, ,

বাদী জানেন না আসামি কারা, ঘটনা কী

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
বাদী জানেন না আসামি কারা, ঘটনা কী
শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত বিজয়ের দিন ৫ আগস্ট কুমিল্লার ময়নামতি এলাকায় মামুন আহমেদ রাফসান (১৮) নামে এক হোটেল কর্মচারী নিহত হন। তিনি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মরিয়াত ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের ছালেক মিয়ার ছেলে। এ ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর গত ২৮ মে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে পুলিশ নিহত রাফসানের বড় ভাই রানু মিয়াকে কুমিল্লায় এনে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করায়। ওই মামলায় সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্যসহ ১৪৭ জনকে আসামি করা হয়। তবে মামলার বাদী ১৭ জুলাই সমকালকে বলেছেন, তিনি মামলার কোনো আসামিকেই চেনেন না। সমন্বয়কদের উপস্থিতিতে পুলিশ স্বাক্ষর দিতে বলেছে। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।

অভিযোগ উঠেছে, জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লার অধিকাংশ মামলারই এমন অভিন্ন চিত্র। অনেক মামলায় ঢালাও আসামি থাকায় অধিকাংশ মামলার বাদী আসামি চেনেন না, জানেন না ঘটনার বিবরণ। তদন্তে পাওয়া যাচ্ছে না যথাযথ সাক্ষী। আবার এসব মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে পুলিশ ও সমন্বয়করাও জড়িত। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে প্রতিবেদক। কর্মকর্তারা মামলার এসব অসংগতি তুলে ধরে বলেছেন, মামলাগুলোর তদন্তে বলার মতো বড় কোনো অগ্রগতি নেই।
পুলিশের তথ্যমতে, জুলাই আন্দোলনে জেলার ১১টি থানায় ১২টি হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য অভিযোগে ৩০টিসহ ৪২টি মামলা হয়েছে। যার একটির চার্জশিটও দিতে পারেনি পুলিশ। এখনও ময়নাতদন্ত হয়নি চারটি মরদেহের।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জেলার কোতোয়ালি মডেল থানায় সর্বাধিক ১৮টি মামলা হয়। ৪২ মামলায় এজাহার নামীয় আসামি চার হাজার ৪২৪ ও অজ্ঞাতনামা আসামি ছয় হাজার ৩৯২ জন। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হন এজাহার নামীয় ৩২৮ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬৯১ জন।

মামলায় যত অসংগতি
গত বছরের ১৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণঅভ্যুত্থানের মামলায় ঢালাও আসামি করার বিষয়ে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এর পরও কুমিল্লায় থামছে না ঢালাও আসামি করার রেকর্ড। গত ২৮ মে ময়নামতিতে নিহত রাফসানের বড় ভাই রানু মিয়াকে কুমিল্লায় এনে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করা হয়। এতে সাবেক এমপি বাহাউদ্দিন বাহার ও তাঁর মেয়ে সাবেক সিটি মেয়র তাহসিন বাহার সূচনাসহ ১৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলার এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে কোতোয়ালি, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, মনোহরগঞ্জ, চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকার দলীয় লোকজন ছাড়াও সাধারণ মানুষকেও আসামি করা হয়েছে।
তবে বাদী রানু মিয়া সমকালকে বলেন, কারা আমার ভাইকে মেরেছে জানি না। এখন মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের কথা হচ্ছে। আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি।
৪ আগস্ট আন্দোলনের সময় দেবিদ্বার উপজেলা সদরে গুলিতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রাজ্জাক রুবেল (৩৫)। ২০ আগস্ট স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাসেম আদালতে মামলা করেন। আসামি সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদসহ ৭০ জন। একই ঘটনায় পরদিন থানায় আরেকটি মামলা করেন নিহতের মা হোসনে আরা বেগম। সেখানেও আসামি সাবেক এমপিসহ ৭০ জন। দুটি মামলাই থানায় এফআইআর করা হয়।

রুবেল হত্যা মামলার বাদী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাসেম বলেন, রুবেলের পরিবার প্রথমে একটি চক্রের দ্বারা মামলা করতে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। এতে দলের নির্দেশে প্রথম আদালতে মামলার আবেদন করি, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড হয়। কিন্তু পরদিন তাঁর পরিবার আরও একটি মামলা করে।
রুবেলের স্ত্রী হ্যাপী আক্তার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, আমার স্বামীকে যারা প্রকাশ্যে হত্যা করেছে, তারা জামিনে বের হয়ে এলাকায় ঘুরছে। তাহলে কি আমি কোনো দিনও স্বামী হত্যার বিচার পাব না?
এদিকে ঢালাও তালিকা করে আসামি করায় জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ২ অক্টোবরের একটি মামলায় বাদ যাননি মৃত আওয়ামী লীগ নেতারাও। মামলার বাদী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র এমরান হোসেন। তিনি ভোলা সদর থানার শাহামাদার গ্রামের শাহাজানের ছেলে। ৯৬ আসামির মধ্যে আওয়ামী লীগের তিন প্রয়াত নেতা রয়েছেন। তারা হলেন– উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষিবিষয়ক সম্পাদক কামাল উদ্দিন মজুমদার, সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মমিন এবং পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ফরিদ। তবে পুলিশ জানিয়েছে, চার্জশিট থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

এ মামলার বাদী এমরান বলেন, মামলার অভিযোগ ঠিক আছে। তবে শুরুতে আসামিদের নাম শনাক্তে ভুল হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, অনেক মামলার বাদী আসামিই চেনেন না। অভিযোগ উঠেছে, মামলা বাণিজ্যে আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিতে অন্যরা ইচ্ছামতো লোকজনকে আসামি করেছেন। একই সময়ে একই ব্যক্তিকে ভিন্ন জেলায় মামলার আসামি করা, ব্যক্তিগত, পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিরোধে আসামি করায় তদন্তে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গত বছরের ১২ আগস্ট রাতে জেলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যার প্রথম মামলা হয়। ৪ আগস্ট মাছুম মিয়া (২২) নামের এক হোটেল কর্মচারীকে হত্যার অভিযোগে সাবেক এমপি বাহারসহ ৬২ জনের নামে মামলা হয়। এ মামলার বাদী পরিবারের কেউ নন, সদর দক্ষিণ উপজেলার দিশাবন্দ এলাকার ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল হান্নান। তিনি বলেন, মাছুমের পরিবার তাঁর পাশের গ্রামের বাসিন্দা। তাই প্রতিবেশী হিসেবে মামলা করা, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।

মাছুমের বাবা শাহীন মিয়া বলেন, ঘটনার পর ভয়ে মামলা করিনি, তখন বিএনপি নেতারা মামলা করেন, আমি থানায়ও যাইনি। আসামি কারা তা আমি পরে জেনেছি এবং সাক্ষ্য দিয়েছি।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা মহানগরীর আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন, এসব পরিবারকে আমরা আইনগত সুবিধা দিতে সহায়তা করছি। কোনো মামলায় কাউকে আসামি করা কিংবা বাদ দেওয়ায় তদবির করি না। কিন্তু কিছু সুবিধাবাদী লোক আমাদের নাম ভাঙিয়ে ভুক্তভোগী কিংবা দুর্নীতিবাজ লোকজনের কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছে।

কুমিল্লার আদালতের পিপি কাইমুল হক বলেন, সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পেলেও যেন কারও বিচারের পথে বাধা না হয়। এ ছাড়া ভয়ে কেউ সাক্ষ্য না দিলেও তদন্ত কর্মকর্তারা ছবি, ভিডিও এবং পারিপার্শ্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে চার্জশিট দিতে পারে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি মামলারই যেন যথাযথ তদন্ত ও দ্রুত বিচার হয়, আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি করে আসছি। তবে ঢালাও কোনো মামলায় যেন নিরপরাধ কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী করে হয়রানি কিংবা শাস্তি না দেওয়া হয়, সরকার ও তদন্ত সংস্থাকে এ বিষয়টি কঠোরভাবে দেখতে হবে।
কুমিল্লার এসপি নাজির আহমেদ খান বলেন, গুরুত্ব দিয়ে জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি মামলা তদন্ত করা হচ্ছে। এখনও কোনো মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়নি। নিরপরাধ কেউ যেন মামলায় চার্জশিটভুক্ত না হয়, সেই বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা আছে। আমরাও যথাযথভাবে বিষয়টি দেখছি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ না করে কিংবা অপরাধে সম্পৃক্ত না থেকেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলায় তাকে আসামি করা হয়, তবে সেটা তার প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। আমরা বিগত দিনে দেখেছি গায়েবি মামলার মতো ঘটনা। কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। সুত্র: সমকাল

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।