খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ, ১৪৩৩

‘সেদিনই শিবির আন্দোলনটা নিজেদের কব্জায় নিয়ে যায়’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
‘সেদিনই শিবির আন্দোলনটা নিজেদের কব্জায় নিয়ে যায়’
শেয়ার করুন

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, তৎকালীন সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ৮ দফার ঘোষণা দিয়ে পরদিন (২০ জুলাই) কালো ব্যাজ ধারণ ছাড়া কোনো কর্মসূচি নেই বলে জানান তিন সমন্বয়ক নাহিদ, হাসনাত ও সারজিস।

তবে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ওইদিনই ৯ দফা ঘোষণা করে তা প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে প্রচার করা নিয়ে জীবনবাজি রাখা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে। মূলত সেদিনই শিবির আন্দোলনটা নিজেদের কব্জায় নিয়ে যায়।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সেদিনের ঘটনা বর্ননা দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল।

তার ওই স্ট্যাটাসটি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ‘ঢাকার রাস্তায় যখন প্রতি মুর্হূর্তে ছাত্র জনতার লাশের স্তূপ জমছিল, তখন আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিন সমন্বয়ক। সেখানে তারা ৮ দফার ঘোষণা দিয়ে পরদিন ২০ জুলাই কালো ব্যাজ ধারন ছাড়া কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি নেই বলে জানান। সেই সময় হাসনাত বিবিসিকে বলেন, নাহিদের সঙ্গে ফোনে আলাপ করে তারা এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন’।

তিনি বলেন, ‘আমার খুব মনে পড়ে, সেদিন এই কর্মসূচি দেখে আমার সহকর্মী সাদ্দাম হোসাইন (Saddam Hossain) কেঁদেই দিয়েছিলেন। বলছিলেন, এত মৃত্যুর পর এটা মানা যায় না। এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। আমি সাদ্দাম এবং নিয়াজ মাখদুম (Niaz Makhdum) ভাই নিজেদের মধ্যে চরম হতাশ আলোচনা করে বাসায় যাই।

বাসায় ঢুকতেই আমার সময় টিভির সাবেক কলিগ ও কালবেলার প্রতিবেদক অন্তু মুজাহিদ (Antu Mujahid) কল করে বলেন, ‘শাকিল ভাই ৯ দফা পেয়েছেন? আমি বললাম, কিসের ৯ দফা? আট দফা দেখেই তো হতাশ। উনি বললেন, আপনাকে পাঠাতে বলব? আমি বললাম বলেন।’

‘তারপর একটা নম্বর থেকে আব্দুল কাদেরের নামে ৯ দফার একটি এমএমএস আসে। সেই নম্বরে যোগাযোগ করে মাহাদী নামে একজনের সঙ্গে কথা বলে আব্দুল কাদেরের নম্বর নিই এবং ৯ দফা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলি। কাদের আমাকে ফোনে বলেন ৮ দফা না, ৯ দফার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যারা ৮ দফা ছড়িয়েছে এটা আমাদের সিদ্ধান্ত নয়। তারপর আমরাই সেটা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারের চেষ্টা চালাই। বার বার তাদের কল দিয়ে পরামর্শ দেই। মিডিয়াগুলোতে প্রিন্ট প্রেস রিলিজ ও সিডিতে ভিডিওবার্তা পাঠাতে বলি।’

এসবই ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের আন্দোলন প্রচেষ্টা ছিল উল্লেখ করে এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘এগুলো যে শিবিরের কাজ ছিল তখন না জানলেও অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শিবির প্রকাশ্যে আসার পর জেনেছি। ওই মোবাইল নম্বরটি থেকে শিবিরের মিডিয়া বিভাগ আমার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকবার যোগাযোগও করেছে। সেই সময়ের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছে, প্রকাশনা পাঠিয়েছে।’

কেফায়েত শাকিল বলেন, ‘মূলত সেদিনই শিবির আন্দোলনটা নিজেদের কব্জায় নিয়ে যায়। ওইদিন থেকে আন্দোলনের অনেক কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে যাই আমরা বেশ কিছু সাংবাদিকও। নিজেদের অজান্তেই শিবিরের সার্কেলে ঢুকে যাই আমরা। কারণ তখন আমরা সাদিক কায়েম, সিবগাতুল্লাহদের চিনতাম না। আমরা জানতাম তারা সমন্বয়ক। তাও আবার সাদিকের নাম জানতাম সালমান। সেই পরিচয়েই তারা আমাদের সঙ্গে আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয় ডিল করতেন, সহযোগিতা নিতেন। সম্ভাবত ১ আগস্ট রাতে সিবগাতুল্লাহ আমাদের বলেন, এ সপ্তাহে শেখ হাসিনাকে আমরা তাড়াবোই। তার পতন অনিবার্য। তার চারদিন পরই ঘটলো সেই ঘটনা।’

‘সেই সময়ের সাক্ষী হিসেবে বলতে পারি, পদে সমন্বয়ক না হলেও ১৯ জুলাই থেকে মূলত আন্দোলন সমন্বয় সাদিক-সিবগাতুল্লাহই করেছেন। আর সামনে থেকে লড়েছেন আব্দুল হান্নান মাসুদ, রিফাত রশিদ, আব্দুল কাদেররা।’

তিনি বলেন, ‘২০ জুলাইয়ের পর ১ দফার ঘোষণা পর্যন্ত নাহিদের আর কোনো ভূমিকা কারও জানা আছে কিনা জানি না। অবশ্য এই সময়ের মধ্যে সে পুলিশের হেফাজতেই বেশি ছিল। তবে পুলিশ হেফাজতে লিখিতভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারও তারা করেছিল। সত্যি বলতে সেই সময় যদি সাদিকরা আন্দোলন এগিয়ে না নিতো তাহলে তো ওদের লিখিত বার্তার মধ্যদিয়েই আন্দোলনের কবর রচনা হয়েছিল। বিজয় আর দেখা হতো না, আজ ক্রেডিটের মারামারিও হতো না।’

তবে জুলাই আন্দোলনে নাহিদদের অনেক অবদান ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে সাংবাদিক শাকিল বলেন, ‘এ আন্দোলনে নাহিদদের অনেক অবদান এবং অনেক ত্যাগ আছে যেটা অস্বীকার করলে জুলুম করা হবে। আমি তার অবদান অস্বীকার করছি না। কিন্তু উনারা যেভাবে ক্রেডিট নিয়ে মারামারি করছেন, এতে জাতীয় ঐক্যে বিভক্তি তৈরি হচ্ছে। যার ফল যাচ্ছে পরাজিতদের ঘরে। তাই আমার জানা সত্যটা না লিখে পারলাম না।’ সুত্র: যুগান্তর

২৪ ঘণ্টায় পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউপি এলাকায় অভিযান, আদালতে সোপর্দ

কক্সবাজার সদর মডেল থানা-র বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্তসহ ১২ পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার সদর মডেল থানা-র বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্তসহ ১২ পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার
শেয়ার করুন

গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার সদর মডেল থানা-র বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্তসহ ১২ জন পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ সুপার, কক্সবাজারের নির্দেশক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর সার্বিক পরিকল্পনায় পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরে ছিনতাইকারী দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের লক্ষ্যে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ছমি উদ্দিন।

 

পুলিশ জানায়, কক্সবাজার সদর থানাধীন পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সাজাপ্রাপ্তসহ মোট ১২ জন পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:

১. আসিফুর রহমান (সিআর-৪৯৬/২৩, সাজাপ্রাপ্ত)

২. মোঃ তানভির চৌধুরী (জিআর-৩০৯/১৬)

৩. জাহেদ হোসেন (জিআর-৪৯১/১৮)

৪. কমলা বেগম (জিআর-৩২৪/২২)

৫. মোঃ হাসান (প্রসেস নং-৫৯৭০/২৩)

৬. মোজাম্মেল হক (সিআর-১১৭৫/২৫)

৭. আবুল কালাম ওরফে চিকন মাঝি (জিআর-৩৯১/২৪)

৮. মোঃ হোছন (সিআর-১২২৮/২৫)

৯. আবদুল গফুর (অর্থ জারী-২৬/২২)

১০. মধু কুমার শর্মা (অর্থ জারী-২৮/২০০৯)

১১. মোঃ জাহিদ হোসেন (জিআর-১৭১/১৫)

১২. নুর নাহার বেগম (জিআর-৬৯৯/২৫)

 

 

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কেরালায় বাম দুর্গে হিজাবি মুসলিম তরুণীর বিজয়

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
কেরালায় বাম দুর্গে হিজাবি মুসলিম তরুণীর বিজয়
শেয়ার করুন

কেরালার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়েছে। বামদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পেরামব্রা বিধানসভা কেন্দ্রে জয় পেয়েছেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের ফাতেমা তাহলিয়া। তিনি সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা রামকৃষ্ণান-কে পরাজিত করে এ জয় অর্জন করেন।

 

 

৩৪ বছর বয়সী তাহলিয়া মোট ৬৩ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে ৪ হাজার ৭০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। এ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি মুসলিম লীগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 

কোজিকোড জেলার পেরুভায়ালে জন্ম নেওয়া তাহলিয়া ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি মুসলিম স্টুডেন্ট ফেডারেশনের নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তীতে কোজিকোড করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মুসলিম ইয়ুথ লীগের রাজ্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

 

পেশায় আইনজীবী তাহলিয়া কোজিকোড সরকারি আইন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক এবং ত্রিশুর সরকারি আইন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি কালিকট জেলা আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।

 

তবে এ বিজয়ের পথ সহজ ছিল না। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তিনি সাইবার হামলা ও অনলাইন হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে হিজাব পরিহিত তরুণী মুসলিম নারী হিসেবে তার সক্ষমতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। তবুও তিনি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়ী হন।

 

সব বাধা অতিক্রম করে পেরামব্রা আসনে তাহলিয়ার এই জয় কেরালার রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বামপন্থিদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে এ ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচনে জিতলেন বিজয়ের গাড়িচালকের ছেলে সাবারিনাথন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
নির্বাচনে জিতলেন বিজয়ের গাড়িচালকের ছেলে সাবারিনাথন
শেয়ার করুন

তামিলনাড়ুর বিরুগামবাক্কম আসনে জিতেছেন সাবারিনাথন। ৩০ বছর বয়সী সাবারিনাথন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয় থালাপতির দীর্ঘদিনের গাড়িচালক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজেন্দ্রনের ছেলে।

সাবারিনাথনও তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ার পথে আছেন। প্রথম নির্বাচনে জয়ী হওয়া টিভিকে বিধায়কদের তালিকায় তার নামও যোগ হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিভিকে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১০০টির অনেক বেশি আসনে জয়ের পথে আছে। আর সেই আসনগুলোর একটি বিরুগামবাক্কম। এটি চেন্নাই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। এই জয় শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং আবেগঘন একটি ঘটনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

দলের ভেতরে বিজয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এ ঘটনা তারই প্রকাশ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজেন্দ্রনের ছেলে সবরিনাথন বিজয়ের প্রথম ছবি ‘নালাইয়া থিরপু’ থেকেই তার সঙ্গে আছেন। তিনি ডিএমকের প্রভাকারা রাজা ও এআইএডিএমকের বিরুগাই রভিকে পরাজিত করে ২৭ হাজার ৮৬ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।