খুঁজুন
বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিএনপিকে দ্রুত মাঠে নামার তাগিদ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বিএনপিকে দ্রুত মাঠে নামার তাগিদ
শেয়ার করুন

 

দুর্যোগ-দুর্বিপাক এবং কোনো অঘটন না ঘটলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এটা নিশ্চিত। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচন সম্পর্কিত কার্যক্রম বাড়ছে। নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন নির্বিঘœ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়নে অভ্যন্তরীণ জরিপ এবং সার্বিক জনমত যাচাইয়ে যেমন জরিপ করছে; তেমিন বিভিন্ন গণমাধ্যম, এনজিও, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান জনমত যাচাইয়ে জরিপ চালাচ্ছে। গত এক বছরে আসন্ন নির্বাচন ইস্যুতে প্রায় এক ডজন জরিপ হয়েছে। বেশির ভাগ জরিপ কার্যত নিজেদের পছন্দের দলকে কৌশলে এগিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। তবে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ভয়েস ফর রিফর্ম ও বিআরএআইএন সহযোগিতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিং একটি জরিপের চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ‘জনগণের নির্বাচন ভাবনা’ শীর্ষক জরিপের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করে। এর আগে গত মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটি আরো একটি জরিপ করেছিল। অতীতে নির্বাচন নিয়ে বহু ফরমায়েশি জরিপ হওয়ায় নির্বাচনী জরিপ নিয়ে দেশের ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা কম। তারপরও এ জরিপ নিয়ে গণমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া, রাজনৈতিক প্লাটফর্ম এমনকি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা হচ্ছে। নেট দুনিয়ায় এ জরিপ নিয়ে রীতিমতো পর্যবেক্ষণ-চুলচেরা বিচার বিশ্লেষণ চলছে। এ জরিপ আন্তর্জাতিক মানদ-ের সব সূচক মেনে পরিচালিত হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বর্তমান নির্বাচনী মাঠের মোটামুটি সার্বিক চিত্র মনে করছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেভাবেই দেখুক না কেন ‘ভোটের মাঠের মোটামুটি এ চিত্র’ সামনে নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে। তবে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিস্টদের সহযোগী জাতীয় পার্টি নির্বাচনী মাঠে নামার সুযোগ পেলে এ চিত্র পাল্টে যাবে।

ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশের ১০ হাজার ৪১৩ জন বিভিন্ন বয়সী শ্রেণিপেশার ভোটারের ওপর জরিপটি চালানো হয়। জরিপের ফলাফলে বলা হয় বিএনপি ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে উত্তরদাতার মতামতে এগিয়ে রয়েছে। জামায়াত এগিয়ে রংপুর বিভাগে আর বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগ। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিএনপিকে ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ, জামায়াতকে ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ, সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ৪ দশমিক ১০ শতাংশ উত্তরদাতা ভোট দেয়ার মতামত দিয়েছেন।

ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের মোট শতাংশের সঙ্গে এবং কোনো বিভাগে কোনো দলের এগিয়ে থাকার সঙ্গে আসন পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচনের একটি আসনে যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন’। অবশ্য সব দলের অংশ গ্রহণে এবং কিছুটা নিরপেক্ষ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায় আওয়ামী লীগ ৪৮ দশমিক শুন্য ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৩০ আসন পেয়েছিল এবং ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩০ আসন পায় বিএনপি। ওই নির্বাচনে জোটভুক্ত হয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টি ৭ দশমিক শুন্য ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৭ আসন, জামায়াত ৪ দশমিক শুন সত্তুর ভোট পেয়ে ২ আসন পেয়েছিল। এ ছাড়াও জাসদ (ইনু) ৩, ওয়ার্কার্স পার্টি ২, এলডিপি ১, বিজেপি ১ এবং স্বতন্ত্র ৪ নির্বাচিত হয়। দেখা যায় শতকরা ভোটের হিসেবে বিএনপি আসন সংখ্যা অনেক কম পেয়েছিল। এতে দেখা যাচ্ছে বিএনপি মোট ভোটের সাড়ে ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩০ আসন আর জাতীয় পার্টি মাত্র ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৭ আসন পেয়েছে। ফলে ভোটের শতকরা হিসেব আর আসন পাওয়া হিসেবে এক নয়।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ গণমাধ্যম হিন্দুত্ববাদী ভারত ও আওয়ামী লীগের তাবেদারি করায় পাঠকমহলে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থাহীনতা ঘটে। এতে সময়ের চাহিদা মেটাতেই সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের মতামত প্রকাশে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। মানুষের মতামত প্রকাশ, আন্দোলন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ সবকিছুই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ নিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রচারণার সুযোগ নিয়ে ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াত নেট জুনিয়া কাঁপাচ্ছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্কদের মস্তিষ্কপ্রসূত আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে ভোটে যাবে না ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন করলেও জামায়াত তিনশ’ আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির মনোনীত প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জুলাই শহীদের নাম লিখে এবং প্রার্থীর ছবি দিয়ে পোষ্টারিং করেছে। নারী ভোটারদের টার্গেট করে ঘরে ঘরে যাচ্ছে। অথচ দেশের সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপির উপস্থিতি নেট দুনিয়ায় খুবই কম। জনসমর্থনহীন ছোট ছোট দলগুলো যেভাবে নেট দুনিয়ায় প্রচারণায় আধিপত্য বিস্তার করছে অথচ বিএনপি অনেক পিছিয়ে। আর ডিসেম্বরে ভোট দাবি করলেও নির্বাচনী মাঠের প্রচারণায় বিএনপি এখনো নামেইনি। অথচ যারা বিএনপিকে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে সে ভোটাররা অভিভাবকহীন হয়ে অসহায়ত্ববোধ করছেন। বিএনপিকে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন এমন কয়েকজন ভোটার নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, জামায়াত মাঠে নেমেছে অথচ আমরা যাদের ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে সেই বিএনপির দেখা নেই। মাজার-খানকা-দরগার পীর-মুরিদ ও জাকেরান আশেকানগণ জামায়াতকে পছন্দ করেন না। তারা বিএনপিকে ভোট দিতে অভ্যস্ত। সেই ভোটারদের কাছে জামায়াত যাচ্ছে অথচ বিএনপি যাচ্ছে না।

দেশের তিনশ’ সংসদীয় আসনের প্রতিটি আসনে ৪ থেকে ১০ জন করে নেতা ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে দৌড়ঝাপ করছেন। দল প্রার্থী ঘোষণা না করায় কোন নেতা প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে তৃণমূল কর্মী ভোটারগণ অন্ধকারে। নেতারাও বুঝতে পারছেন না কারা প্রার্থী হচ্ছেন। জামায়াতের ভোটের প্রচারণায় পরিস্থিতি যে পর্যায়ে গেছে তাতে করে তফসিল ঘোষণার পর সনাতনি পদ্ধতি সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডেকে সাক্ষাৎকার নিয়ে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার অর্থই হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণার দৌড়ে পিছিয়ে পড়া। আর শরীক দলকে আসন ছেড়ে দেয়া এবং প্রার্থী হতে না পারলে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তো রয়েছে। ইসলামী ধারার ছোট ছোট দলগুলো যারা বিগত দিনে বিএনপির সঙ্গে জোট করে এবং যুগপৎ আন্দোলন করেছেন; দর্শনগত কারণে চিন্তা চেতনায় ভারত বিরোধী এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রার্থীকে ভোট দিতে অভ্যস্ত সে দলগুলোর নেতাদের অনেকেই বলছেন, ইসলামী ধারার রাজনীতি করি এবং জামায়াতকে কখনোই ইসলামী দল মনে করি না; যাদের ভোট দেবো সেই বিএনপির কোনো কার্যক্রম দেখছি না। আবার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে দেখা যাচ্ছে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে বিরোধ চরমে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উচিত বিলম্ব না করে অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনী মাঠে নামা।

জানতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না এটা পরিষ্কার। জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী মাঠে নেমে গেছে। তাদের নারী নেত্রীরা ঘরে ঘরে গিয়ে আগামী নির্বাচনে দাড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার জন্য নারী ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করছেন। বিএনপির উচিত দ্রুত নির্বাচনী মাঠে নামা। কারণ যতই দেরি হয়ে ততই প্রচারণায় পিছিয়ে যাবে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলটি। তাছাড়া যারা বিএনপিকে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন সেই সাধারণ ভোটারদের ভুলিয়ে ভালিয়ে কাছে টানার চেষ্টা করছে জামায়াত। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ পালালেও তাদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোটার রয়েছে। সেই ভোটে ভাগ বসাতে বিএনপিকে দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নামতে হবে। কারণ নির্বাচন ঠেকানো এবং পিআর পদ্ধতির দাবিতে নির্বাচন পেছানোর যতই ষড়যন্ত্র হোক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন দেবেন। ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের অনুসারী। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এপ্রিল মাসে বিদেশ চলে যাবেন। ফলে বিএনপির আর বিলম্ব করা উচিত হবে না।

জরিপে অংশ নেওয়া ১০ হাজার ৪১৩ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৭২১ জন ভোটে নিজেদের পছন্দের দলের কথা জানিয়েছেন। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতার মতামতে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে রংপুর বিভাগে জামায়াত ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং বরিশাল বিভাগে ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতার সমর্থনে রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ। জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে যোগ্য দল বিএনপি। জামায়াতকে যোগ্য মনে করেন ২৮ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা। ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা যোগ্য দল মনে করেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে। আর এনসিপিকে যোগ্য মনে করেন ৪ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা। জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সারাদেশের ভোটারের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির পক্ষে সমর্থন বেড়েছে, অথচ উল্টো ঘটেছে জামায়াতের ক্ষেত্রে। আর শিক্ষা বাড়ার সঙ্গে ভোটাররা মত দিয়েছেন জামায়াতের পক্ষে, উল্টো ঘটেছে বিএনপির বেলায়। জেন-জি ও নারীদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন বেশি; এক্ষেত্রে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের গঠিত দল এনসিপি অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতাদের এনসিপি ‘নতুন বন্দবস্ত’ দেয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। কিন্তু দল গঠনের দীর্ঘদিন পরও তারা নতুন বন্দবস্ত দেয়ার বদলে পুরনো বন্দবস্তে দুর্নীতি, চাঁদাবাজী, টে-ারবাজী, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়া সূর্যসন্তানদের বেশির ভাগই এখন বিতর্কিত। আর ফ্যাসিস্ট শাসনামলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিএনপি ভোটের প্রচারণায় এখনো নামছে না। অথচ জামায়াত পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের শেষ দিকে বলেছিলেন, ‘বিএনপি হচ্ছে ফিনিক্স পাখি। মাঠে-ঘাটে নেই মনে হলেও হঠাৎ করে ছাইভস্ম থেকে বিএনপি বের হয়ে আসবে’। যারা বিএনপিকে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন সেই ভোটাররা চাচ্ছেন এখনই বিএনপি ভোটের মাঠে নেমে পড়–ক। বিএনপির মাঠে নামতে বিলম্ব করলে জামায়াত এগিয়ে যাবে এমন বার্তা দিয়ে সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে বিএনপি থেকে তিন মাসের জন্য বহিষ্কৃত ইসলাম বিদ্বেষী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে নির্বাচনী মাঠে না নামলে আরেক শক্তির উদ্ভব ঘটবে। আওয়ামী লীগ দাঁড়াতে না পারলেও একটা রাজনৈতিক শক্তি কিন্তু দাঁড়াবে। জামায়াত বলেছে মুক্তিযুদ্ধ যারা করে তারা হলো ভারতের দালাল। নাম দিয়েছে দুষ্কৃতকারী। জামায়াতকে ঠেকাতে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি হিসেবে বিএনপির দ্রুত মাঠে নামা দরকার’।

দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসছে। জরিপেও সে চিত্র উঠে এসেছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসছে এমন আবহাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় হিন্দুত্ববাদী ভারত বিএনপিকে ঠেকানোর নানা ফন্দিফিকির করছে। পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের দাবি তারই একটি প্রকল্প। একই সঙ্গে বিএনপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে গেছে। কেন্দ্রের নানা বিধি নিষেধ থাকায় ভিতরে ভিতরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সুশীল, বুদ্ধিজীবী, সাবেক আমলা, আইনজীবী, সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য গিরগিটির মতো রং বদল করে বিএনপিতে ভিড়ছেন। এদের অনেকেই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাপ করছেন। কিন্তু বিএনপিকে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে বিএনপি এখন নানা শ্রেণির নেতায় ভরপুর। বুনিয়াদি বিএনপি হিসেবে পরিচিত ছাড়াও হাইব্রিড, সুবিধাবাদী, সুযোগসন্ধানী নানা শ্রেণির নেতা বিএনপি নামের রাজনৈতিক জাহাজে উঠেছেন। যারা পারিবারিক ভাবে বিএনপি, জিয়াউর রহমানের দল প্রতিষ্ঠার সময় থেকে বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল হয়ে বিএনপিতে যুগের পর যুগ ধরে রয়েছেন এবং যাদের গোটা পরিবার জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী তারা সমাজে বুনিয়াদি বিএনপি হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় আসছে বুঝতে পেরে দলে এসেছেন তারা সুযোগ সন্ধানী বিএনপি। যারা পরিস্থিতির কারণে বিএনপিতে এসেছেন তারা হাইব্রীড বিএনপি এবং নিজেদের বৈধ-অবৈধ সম্পদ রক্ষা করতে দলে এসেছেন তারা সুবিধাবাদী বিএনপি। দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হওয়ায় বিএনপির একটি আসেন কয়েকজন করে যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে যারা দলে রয়েছেন, জুলুম-নির্যাতন, হামলা মামলা সহ্য করেছেন প্রার্থী মনোনয়নে সেই পরীক্ষিত বুনিয়াদি নেতাদের অধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত। কারণ বুনিয়াদি নেতারাই বিএনপির টিকিয়ে রাখার পিলার। এই পিলারদের মনোনয়ন দেয়া বিএনপি সম্পর্কে ভোটারদের কাছে পজেটিভ বার্তা যাবে। আর প্রার্থী মনোনয়নে হাইব্রীড এবং সুবিদাবাদীদের প্রাধান্য দেয়া হলে দলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছে আগামীর বিএনপির সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা জানান, যুগের পর যুগ ধরে বিএনপি করায় জুলুম-নির্যাতন-জেল-হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। ব্যবসা বাণিজ্য হারিয়েছেন। বিএনপির মন্ত্রী-এমপি হয়েছিলেন। এখন অনেক সুযোগ সন্ধানী হাইব্রীড নেতা ধানের শীষের প্রার্থী হতে নেতাকর্মীদের পিছনে বেসুমার খরচ করছেন। এলাকার লোকজন বিএনপির পিলার হিসেবে আমাদের জানেন অথচ এখন নিজ ঘরে পরবাসীর মতোই হাইব্রীড-সুযোগ সন্ধানীদের জন্য কোণঠাসা হয়ে গেছি।

রামুতে প্রবাসীর সাড়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মূল হোতা শাহেদসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
রামুতে প্রবাসীর সাড়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: মূল হোতা শাহেদসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রামুতে প্রবাসী স্বামীর পাঠানো ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাহেদ আহমদ (২৭) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে অভিনব কায়দায় এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন উল্টো খুন-খারাবির হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া এলাকায়।

​গত ৭ মে (২০২৬) রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর শাহেদ আহমদকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ৩ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মিনুয়ারা বেগম (২৬)।

​অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তেচ্ছিপুল খন্দকারপাড়ার বাসিন্দা মিনুয়ারা বেগমের স্বামী ইব্রাহীম খলিল দীর্ঘ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন। অভিযুক্ত শাহেদ আহমদ (২৭) ও তার মা মুর্শিদা বেগম (৫০) এবং ভাই আমিন সরওয়ার (২২) প্রবাসীর নিকটাত্মীয়। আত্মীয়তার সুবাদে এবং বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে, গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৪ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরব থেকে সর্বমোট ১০,৫০,০০০/- (দশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা শাহেদের মা মুর্শিদা বেগমের পরামর্শে মূল অভিযুক্ত শাহেদ আহমদের নিকট পাঠান প্রবাসী ইব্রাহীম খলিল।

​পরবর্তীতে ওই টাকা স্ত্রী হিসেবে মিনুয়ারা বেগমকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও শাহেদ ও তার পরিবার “আজ দেব, কাল দেব” বলে নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকে এবং অদ্যাবধি কোনো টাকা ফেরত দেয়নি।

​ভুক্তভোগী মিনুয়ারা বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ৭ মে তিনি তার দেবর রাশেদসহ লম্বরীপাাড়ায় শাহেদদের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহেদ ও তার সহযোগীরা টাকা দিতে সরাসরি অস্বীকার করে। উল্টো টাকা চাইলে মারধর ও খুন-খারাবি করার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে এবং তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়।

​মিনুয়ারা বেগম জানান, শাহেদের হাত থেকে স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে টাকা উদ্ধারের বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তিনি নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। ঘটনার পক্ষে বহু সাক্ষী রয়েছে বলেও তিনি জানান।

​এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহেদ আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিনুয়ারা বেগম আমার আপন বড় মামী। আমার মামা সৌদি আরব থেকে মূলত জমি কেনার উদ্দেশ্যে আমার কাছে ১০ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মামা যখন সেখানে আইনি জটিলতায় জেলে পড়েন, তখন তার নির্দেশেই আমি মামীকে ১ লক্ষ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন আমার সৎ মামা রাশেদুল ইসলাম মামীকে জিম্মি করে আমার কাছে থাকা বাকি টাকাগুলো আত্মসাৎ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমার আপন মামার পাঠানো টাকা হাতিয়ে নিতেই সৎ মামা রাশেদুল ইসলাম মামীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় এই মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছেন।

​ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে এবং মূল অপরাধী শাহেদসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রামু থানা পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান
শেয়ার করুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য একটি বিশাল আর্থিক পুরস্কার বা বাউন্টি ঘোষণা করার বিষয়ে আলোচনা করছে ইরান।

 

 

দেশটির সংসদ বা মজলিসে এই লক্ষ্যে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ’ শিরোনামে একটি নতুন বিল পাসের প্রস্তুতি চলছে, যার আওতায় মার্কিন ও ইসরায়েলি শীর্ষ নেতাদের হত্যাকারীকে ৫ কোটি ইউরো বা প্রায় ৫৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার আইনি বৈধতা দেওয়া হবে।

 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ওয়ার এবং যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর চালানো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই বিলটি আনা হচ্ছে।

 

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এই বিলটির প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরান ওয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন যে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা রাখার অপরাধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে পাল্টা পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা উচিত।

 

 

একই কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ানও ঘোষণা করেছেন যে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাতে পারবে’ এমন ব্যক্তির জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নির্ধারণের এই বিলটির ওপর খুব শীঘ্রই ইরানি পার্লামেন্টে চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

 

সংসদে এই সরকারি বিল আনার কয়েক দিন আগেই ইরানের জান্তা বা সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী মিডিয়া আউটলেট ‘মাসাফ’ দাবি করেছিল যে তারা ইতিমধ্যেই ‘কিল ট্রাম্প’ বা ট্রাম্পকে হত্যা করার একটি বিশেষ অভিযানের জন্য ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক তহবিল সুরক্ষিত করেছে।

 

এ ছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাধীন সাইবার যুদ্ধ পরিচালনাকারী হ্যাকিং গ্রুপ ‘হান্দালা’ একটি পৃথক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে মার্কিন বিচার বিভাগ তাদের সদস্যদের সন্ধান দেওয়ার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণার পাল্টা জবাব হিসেবে তারা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘নিপীড়ন ও দুর্নীতির প্রধান কারিগর’ আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। হ্যাকিং গ্রুপটি স্পষ্ট করেছে যে এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে যে কেউ ‘বাস্তব পদক্ষেপ’ নিতে পারবে, তাকেই এই অর্থ প্রদান করা হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই প্রস্তাবিত বাউন্টি আইনটি দেশটির পূর্ববর্তী যেকোনো মৌখিক হুমকি বা ধর্মীয় ফতোয়া ও প্রচারণামূলক প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে চূড়ান্তভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। গত বছর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বক্তৃতায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে তেহরান যদি তাকে হত্যার কোনো চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়।

 

এই বাউন্টি বা পুরস্কারের খবরটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের একটি সংশোধিত ও আপডেট করা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবটিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে এটি তেহরানের পূর্ববর্তী অবস্থানের চেয়ে ভালো কোনো অগ্রগতি নয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, দুই পক্ষের আলোচনা বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর অবস্থানে রয়েছে এবং এখন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ চাপ ইরানের ওপরই বর্তায়।

 

সূত্র: এনডিটিভি

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা গুলি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা গুলি
শেয়ার করুন

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলির জবাবে পাল্টা গুলিবর্ষণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে ঘটা এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিএসএফ গুলি ছুড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বিজিবি। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ করা হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

 

 

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেকোনো উসকানিমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।