টেকনাফ স্থলবন্দর সচল করার দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন
কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর অবিলম্বে সচল করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বন্দর ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকালে টেকনাফ স্থল বন্দর প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টেকনাফ-ভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার পরিবার দুঃখ-কষ্টে দিন পার করছে।বন্দরে ব্যবসায়ীদের শত কোটি টাকার মালামাল নষ্ট। এতে বন্দর ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এসময় মানববন্ধনে জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন,টেকনাফ স্থলবন্দর শুধু একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র নয়, এটি সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। অবিলম্বে স্থলবন্দর খুলে দেওয়া না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। টেকনাফের এই জনপদের মানুষ পর্যটন ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে বন্দর বন্ধ অন্যদিকে করিডোর বন্ধ অপরদিকে সেন্টমার্টিন পর্যটন ব্যবসা বন্ধ সব মিলিয়ে টেকনাফের ব্যবসায়ীরা দিন চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এর একটি সমাধান চায়।
বন্দর ব্যবসায়ী আব্দুল জাব্বার বলেন, বন্দরের কারণে আমরা বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে এসেছি। এখন তা বন্ধ থাকায় আমাদের পুঁজি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সরকার যদি দ্রুত স্থলবন্দর সচল না করে, তাহলে আমরা পথে বসতে বাধ্য হবো। দ্রুতসময়ে যদি টেকনাফ বন্দর সচল না করেন পরবর্তী বন্দর সচল করার লক্ষ্যে কঠোরতম আন্দোলন গড়ে তুলব।
সিএনএফ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল জানান, আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি এ বন্দরের উপর নির্ভরশীল। বন্দর বন্ধ থাকায় শত শত সিএনএফ ব্যবসায়ী বেকার হয়ে গেছে। শুধু ব্যবসায়ী নয়, এই খাতের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক, পরিবহন মালিক, চালক সবাই বিপাকে পড়েছে।
এছাড়া টেকনাফ মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি আব্দুল জাব্বার বলেন,স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও মানবেতর জীবনযাপন করছে। কাজ না থাকায় অনেকে অভিবাসনের পথ বেছে নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তাই মানবিক দিক বিবেচনায়ও দ্রুত বন্দর সচল করা জরুরি।
মানববন্ধনে ব্যবসায়ী নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা সরকারের প্রতি দ্রুত টেকনাফ স্থলবন্দর সচল করার জোর দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন