১৬ দফা প্রস্তাবনা পে কমিশনে পেশ করলো বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন
সরকারি চাকরিজীবীদের ঈদ বোনাস দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। বুধবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে নবম জাতীয় পে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ ১৬ দফা লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরে সংগঠনটি।
সভায় বিএফএ নেতারা বলেন, বন অধিদপ্তরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জীবনঝুঁকি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের বেতন-ভাতা যুগোপযোগী পর্যায়ে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।
ডিপ্লোমাধারী ফরেস্টারদের ১০ম গ্রেড চাই
লিখিত প্রস্তাবে জানানো হয়—অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন অধিদপ্তরে নিয়োজিত ডিপ্লোমা-ইন-ফরেস্ট্রি ডিগ্রিধারী ফরেস্টারদের বেতন গ্রেড অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীদের ন্যায় ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা মর্যাদা প্রদান করতে হবে।
এছাড়া হাইকোর্টের রায় (রিট নং ৭০০১/২০১৭) ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা (সিভিল পিটিশন নং ২৭৩৬/২০২১) অনুযায়ী ফরেস্টারদের প্রাপ্য বেতন ও পদমর্যাদা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
বেতন, ভাতা ও বোনাসে বড় ধরনের প্রস্তাব
বিএফএ সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ এক লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি সকল গ্রেডে বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৬০% করার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষা ভাতা একজন সন্তানের জন্য ২ হাজার এবং দুই সন্তানের জন্য ৪ হাজার, চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার, টিফিন ভাতা ৩ হাজার এবং বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ১০০% করার প্রস্তাব করা হয়।
সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব হলো ঈদ বোনাস দ্বিগুণ করা—যাতে সকল গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মূল বেতনের ২০০% ঈদ বোনাস পান।
ঝুঁকিপূর্ণ পেশা—তাই ঝুঁকি ভাতা ৫০%
বিএফএ বলেছে, বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বন্যপ্রাণী পাচার রোধ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তাই তাদের ঝুঁকি ভাতা মূল বেতনের ৫০% নির্ধারণ করতে হবে।
এছাড়া বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ১০%, পেনশন ১০০% করা এবং প্রতি ৫ বছর পর পর নতুন পে কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
ইউনিফর্ম, রেশন ও চিকিৎসা সুরক্ষার দাবি
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়—
ইউনিফর্মধারী বন কর্মীদের বছরে ৩ বার ইউনিফর্ম ভাতা ও ধোলাই ভাতা প্রদান করতে হবে।
অন্যান্য বাহিনীর ন্যায় রেশন সুবিধা চালু করতে হবে।
সরকারি দায়িত্ব পালনকালে আহত বা নিহত হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিএফএর ১৬ দফা প্রস্তাব এক নজরে
১) ডিপ্লোমাধারী ফরেস্টারদের ১০ম গ্রেড ও দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা
২) আদালতের নির্দেশনায় বেতন-পদমর্যাদা বাস্তবায়ন
৩) বেতন স্কেল: ৩৫,০০০–১,৪০,০০০ টাকা
৪) বাড়ি ভাড়া ভাতা ৬০%
৫) শিক্ষা ভাতা: ১ সন্তান ২০০০, ২ সন্তানে ৪০০০ টাকা
৬) চিকিৎসা ভাতা ৫০০০ টাকা
৭) টিফিন ভাতা ৩০০০ টাকা
৮) বৈশাখী ভাতা ১০০%
৯) ঈদ বোনাস ২০০%
১০) ঝুঁকি ভাতা ৫০%
১১) ইনক্রিমেন্ট ১০%
১২) পেনশন ১০০%
১৩) প্রতি ৫ বছরে নতুন পে কমিশন
১৪) বছরে ৩ বার ইউনিফর্ম ও ধোলাই ভাতা
১৫) রেশন সুবিধা
১৬) দায়িত্ব পালনকালে আহত/নিহত হলে বিশেষ সেবা ও ক্ষতিপূরণ
বিএফএ নেতারা আশা প্রকাশ করেন, নবম জাতীয় বেতন কাঠামোতে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে এবং মাঠ পর্যায়ের বন কর্মীদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

আপনার মতামত লিখুন