খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩

কক্সবাজারে স্থায়ী সংরক্ষণাগার স্থাপনের উদ্যোগ

লবণ আমদানির অজুহাত আর নয়’ প্রান্তিক চাষির স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে শিল্প মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
লবণ আমদানির অজুহাত আর নয়’ প্রান্তিক চাষির স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে শিল্প মন্ত্রণালয়
শেয়ার করুন

দেশের লবণ শিল্প নতুন এক অধ্যায়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে চলা এ খাতে এবার সরকারের নজর পড়েছে বাস্তব সমস্যার মূল কেন্দ্রে—প্রান্তিক লবণচাষি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায়।

শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কক্সবাজারে একটি আধুনিক ও স্থায়ী লবণ সংরক্ষণাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত লবণ সারা বছর সংরক্ষণ করা যাবে, যা প্রান্তিক চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে এবং দেশের লবণ স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে আরও সুসংহত করবে।

বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ লবণ উৎপাদিত হয় কক্সবাজারে—বিশেষ করে চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ ও সদর উপজেলার উপকূলজুড়ে বিস্তৃত লবণক্ষেতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই লবণচাষিরা বছরের অর্ধেক সময় রোদে পুড়ে, কাদায় মিশে পরিশ্রম করলেও মৌসুম শেষে ন্যায্যমূল্য পান না। সংরক্ষণাগারের অভাবে বাধ্য হয়ে লবণ বিক্রি করতে হয় কম দামে।

চাষিদের অভিযোগ, মিল মালিক ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে বছরের পরিশ্রম অনেক সময় লোকসানে শেষ হয়।

চকরিয়ার একজন প্রবীণ লবণচাষি নুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন,“লবণ তুলি আমরা, কিন্তু দাম ঠিক করে শহরের অফিসে বসে যারা, তারা। একবার সংরক্ষণাগার হলে আমরা অন্তত নিজের লবণ নিজের দামে বিক্রি করতে পারব।”

একই কথা বলেছেন, মহেশখারীর লবণ চাষি আনোয়ার হোসেন।তিনি বলেন চাষিরা লবণ চাষ করলেও লাভের মুখ দেখছে না। মধ্যখানে মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ও দালাল মাফিয়া চক্র ব্যবসায় লাভবান হচ্ছে। এ ছাড়াও পর্যাপ্ত লবণ মজুদ থাকার পর লবণ আমদানি করে দেশের লবণ শিল্প ধবংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।

কোনো অজুহাতে লবণ আমদানি নয়:

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এ টি এম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিসিকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক পর্যালোচনা সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন,“বাংলাদেশ লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোনো অজুহাতে খাবার লবণ আমদানি করতে দেওয়া হবে না। সরকারের কঠোর অবস্থান আছে এ বিষয়ে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। উপস্থিত ছিলেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নিজামউদ্দিন আহমেদ, সরকারি কর্মকর্তা, মিল মালিক ও প্রান্তিক চাষি সমিতির নেতারা।সভায় বর্তমান মজুত, উৎপাদন ব্যয়, ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, বাজার ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন সংকট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

সংরক্ষণাগার হলে বদলে যাবে পুরো চিত্র:

কক্সবাজারের লবণ শিল্পের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো — সংরক্ষণ অবকাঠামোর অভাব। লবণ মৌসুম শেষ হওয়ার পর বৃষ্টিতে, বাতাসে, কিংবা জায়গা সংকটে প্রচুর লবণ নষ্ট হয়ে যায়।

শিল্প সচিব সভায় জানান,“যদি উপযুক্ত জমি পাওয়া যায়, কক্সবাজারেই একটি আধুনিক লবণ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত লবণ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যাবে, দাম ওঠানামা কমবে, এবং চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষণাগার হলে লবণ উৎপাদনশীলতা বাড়বে অন্তত ২০ শতাংশ, এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য কমবে।

সভায় আলোচনায় উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন জেলায় লবণ পরিবহনের সময় মহাসড়কে লবণপানি পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সচিব বলেন,
“এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমরা পরিবহন ব্যবস্থায় প্যাকেজিং ও ঢাকনা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করব, যাতে সড়কে লবণপানি না পড়ে দুর্ঘটনা না ঘটে।”

সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে লবণনীতি চূড়ান্তের পথে:

বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,
“লবণ শুধু কৃষিপণ্য নয়, এটি একটি শিল্প উপাদান। তাই এর জন্য আলাদা ‘জাতীয় লবণনীতি’ প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন—সব পর্যায়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকে।”জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন,“কক্সবাজারের অর্থনীতি লবণের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। চাষিদের টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন এ শিল্পে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনতে সচেষ্ট।”

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়। এর ৯০ শতাংশই কক্সবাজারে। কিন্তু বাজারে চাহিদা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় প্রায়ই দেখা দেয় কৃত্রিম সংকট বা মূল্যহ্রাসের ধাক্কা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সংরক্ষণাগার স্থাপন, মিল আধুনিকায়ন, ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন হলে এই শিল্প শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, বরং রপ্তানিযোগ্য খাতে পরিণত হতে পারে।তবে তারা সতর্ক করেছেন— সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন যেন মাঠপর্যায়ের চাষিদের বাস্তব উপকারে আসে, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে না পড়ে।

চাষিদের প্রত্যাশা : ঘোষণার পর এবার বাস্তবায়নের দাবি:

সভা শেষে প্রান্তিক লবণচাষি রশিদা বেগম বলেন,
“আমরা অনেক সভা, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি। কিন্তু মাঠে পরিবর্তন আসেনি। এইবার যদি সংরক্ষণাগার হয়, তাহলে হয়তো আমাদের সন্তানরাও এই পেশায় থাকতে চাইবে।”চাষিদের এমন প্রত্যাশার মাঝেই কক্সবাজারের লবণক্ষেত যেন নতুন আশার আলোয় ভেসে উঠছে।
সরকারের ঘোষিত উদ্যোগ যদি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের লবণ শিল্প নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে—যেখানে চাষির ঘামের দাম ফিরবে, আর ‘লবণ আমদানির অজুহাত’ হয়ে উঠবে অতীত ইতিহাস।

সমকামিতার দায়ে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল, কারাদণ্ড

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
সমকামিতার দায়ে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল, কারাদণ্ড
শেয়ার করুন

রাজধানীর সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে সমকামিতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগে চার শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে। এক বহিরাগতসহ পাঁচজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়। ইতিমধ্যে সেই মেয়াদও শেষ হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন কলেজ শাখা ছাত্রদলের পদধারী নেতা।

 

 

শাস্তিপ্রাপ্ত চার শিক্ষার্থী হলেন বিএএএমএস (আয়ুর্বেদিক) ৩৩ ব্যাচের আহসানুল ইসলাম চৌধুরী, ৩৪ ব্যাচের মহিবুর রহমান নয়ন ও রাব্বি হোসেন ওরফে আরিয়ান শাহ রাব্বি এবং বিইউএমএস (ইউনানী) ৩৫ ব্যাচের শাহরিয়ার পলক। এদের মধ্যে আরিয়ান শাহ রাব্বি ও মহিবুর রহমান নয়ন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

 

গত ২২ এপ্রিল রাতে কলেজের মসজিদের গলি থেকে শাহরিয়ার পলককে এক বহিরাগতের সঙ্গে উলঙ্গ অবস্থায় আটক করা হয়। জেরায় তিনি ক্যাম্পাসের আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন, যাদের মধ্যে আরিয়ান রাব্বি, নয়ন ও আহসানও ছিলেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কাফরুল থানায় হস্তান্তর করে।

 

একই দিন ২৩ এপ্রিল জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ছাত্রাবাস থেকে তাদের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোস্টেল সুপার ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মকছেদ আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমকামিতায় আসক্ত সন্দেহে তাদের থানায় সোপর্দ এবং আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, জেরায় অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে উদ্বেগজনক তথ্য বের হয়ে আসে। তারতা দাবি, এই চারজন প্রায় ৪০টি সমকামী গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া হোস্টেলের অন্য শিক্ষার্থীদের সমকামিতায় প্রলুব্ধ করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আরিয়ান রাব্বির ডেস্ক থেকে যৌনচর্চায় ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের অর্ধনগ্ন ছবি তুলে সমকামী গ্রুপে শেয়ার করার প্রমাণও মিলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

একই শিক্ষক আরও জানান, আটক একজন শিক্ষার্থী এইডসে আক্রান্ত এবং অনুরূপ কর্মকাণ্ডের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়ে এই ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ২৮ ও ৩৩তম ব্যাচের আরও অন্তত তিনজনের নাম উঠে এসেছে।

 

কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছিল এবং সেই মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে তাদের সিট বাতিল করা হলেও ছাত্রত্ব বহাল থাকবে বলে তিনি জানান।

ঢাকার সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
ঢাকার সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া
শেয়ার করুন

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া আগামী জুন থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাদের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত ও সংখ্যা হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি জানিয়েছে, আকাশপথের বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জেট ফুয়েলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এই পরিবর্তনের ফলে ঢাকা ছাড়াও শিকাগো, সাংহাই, সিঙ্গাপুর ও মালের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর আকাশপথে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সরাসরি প্রভাবিত হবেন। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল করে যাত্রীদের বিভ্রান্তিতে ফেলার চেয়ে আগেভাগেই এই যৌক্তিক সমন্বয় বা রেশনালাইজেশন করা হয়েছে যাতে শিডিউলের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

 

সংস্থাটির নতুন সূচি অনুযায়ী, এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে মুম্বাই-ঢাকা রুটের সরাসরি ফ্লাইট সাময়িকভাবে পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি থেকে ঢাকা, কাঠমান্ডু, কলম্বো, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা সাপ্তাহিকভবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

 

 

উত্তর আমেরিকার ক্ষেত্রে দিল্লি-শিকাগো সার্ভিসটি আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং দিল্লি থেকে টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারগামী ফ্লাইটের সংখ্যাও হ্রাস করা হয়েছে। তবে ইতিবাচক খবর হলো, মুম্বাই থেকে নেওয়ার্ক রুটে এখন থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট চলাচল করবে। ইউরোপের ক্ষেত্রে প্যারিস, রোম, জুরিখ, ভিয়েনা ও কোপেনহেগেনের মতো শহরগুলোতেও এয়ার ইন্ডিয়ার নিয়মিত ফ্লাইটের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় কম হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

এয়ার ইন্ডিয়া স্পষ্ট করেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংস্থাটি আশ্বস্ত করেছে, এই সমন্বয়ের পরেও তারা প্রতি মাসে পাঁচটি মহাদেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ১ হাজার ২০০-র বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।

 

এর মধ্যে উত্তর আমেরিকায় সপ্তাহে ৩৩টি, ইউরোপে ৪৭টি এবং যুক্তরাজ্যে ৫৭টি ফ্লাইট সচল থাকবে। এ ছাড়া দূরপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর (সার্ক) জন্য সপ্তাহে ১৫৮টি ফ্লাইট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মূলত ব্যয়বহুল দীর্ঘ রুটের ফ্লাইটগুলোর সক্ষমতা যাচাই করতেই এই সাময়িক কাটছাঁট করা হয়েছে।

 

যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তন হয়েছে, তাদের সরাসরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা চাইলে বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং, ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন অথবা টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সংস্থাটি যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা কেবল এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলের তথ্যের ওপর ভরসা রাখেন।

 

এ ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট রুটের আপডেট জানতে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নেটওয়ার্ককে আরও সুসংগঠিত করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি

হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
শেয়ার করুন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছররা গুলিতে খাদেমুল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গভীর রাত ২টার দিকে সীমান্তের বনচৌকি বিওপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত খাদেমুল উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার ৯০৫/৬ এস-এর প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাকারবারি কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় আঘাত লাগে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।