খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

সেন্ট মার্টিনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ১৮৫০ কেজি বর্জ্য অপসারণ

টেকনাফ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ
সেন্ট মার্টিনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ১৮৫০ কেজি বর্জ্য অপসারণ
শেয়ার করুন

কক্সবাজার টেকনাফের সেন্ট মার্টিন সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশ এর এইটি সেন্টমাটিনে ১৫ মত পরিচ্ছন্ন অভিযান।

দুই দিনব্যাপী এ অভিযানে প্রায় ১৮৫০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে অপসারণ করা হয়েছে।

দুই দিনব্যাপী পরিছন্ন অভিযানটি শনিবার বিকেলে শেষ হয়। ইউনিলিভার বাংলাদেশের সহযোগিতায় এতে স্থানীয় লোকজনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সেন্ট মার্টিনের স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক এই পরিছন্ন অভিযানে অংশ নেন।

কেওক্রাডং বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মুনতাসির মামুন বলেন, দুই দিনব্যাপী সেন্ট মার্টিনের অলিগলি ও সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্লাস্টিক বোতল, প্লাস্টিকের প্যাকেটসহ নানা ধরনের অপচনশীল ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর আগেও সংগঠনটির উদ্যোগে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপে এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।

কেওক্রাডং বাংলাদেশেকে স্বাগত জানিয়ে সেন্ট মার্টিনের ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলম বলেন, “সেন্ট মার্টিনকে পরিষ্কার রাখার জন্য ১৫ বছর ধরে এই কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এই ভাবে সবাই এগিয়ে এসে নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে সেন্ট মার্টিনের জন্য খুবই উপকারী হবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি প্রতিবছরের মত এ বছরও সেন্ট মার্টিনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে। যা সেন্ট মার্টিনের জন্য খুব উপকারী।

“প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রতিবছর হাজারো পর্যটক এই দ্বীপে আসেন। স্থানীয় ও পর্যটকদের কারণে সৈকতে নানা ধরনের বর্জ্য জমা হয়ে থাকে। কেওক্রাডংয়ের মত সংস্থার প্রশংসনীয় উদ্যোগের কারণে দ্বীপের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে”, বলেন তিনি।

কেওক্রাডং বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মুনতাসির মামুন বলেন, সেন্টমাটিনে সারা বছর পযর্টক আসার সুযোগ দিলে ভালো হয়। তবে খুব সীমিত সংখ্যক পর্যটক আসতে দিতে হবে। এই ভাবে হলে বেশি পযটকের চাপ পড়বে না সেন্টমাটিনে।

আর সেন্ট মার্টিনের মতো ছোট দ্বীপে পড়ে থাকা প্লাস্টিক যদি মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা না হয় তবে এর পরিণাম শুধু এই দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ছড়িয়ে পড়বে বঙ্গোপসাগরেও।

“আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিল সামর্থ্য অনুযায়ী সেই পরিণামকে যতটা সম্ভব সীমিত করা”, বলেন তিনি।

শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামছেন জেলেরা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামছেন জেলেরা
শেয়ার করুন

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে দেশের নদ-নদীতে আবারও ইলিশ ধরা শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর জেলে পাড়াগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ ও নদীতে নামার শেষ প্রস্তুতি চলছে।

 

এর আগে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলাসহ ছয় জেলার পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ ও সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। এই সময়ে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের অভিযান প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ইলিশ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলে পাড়াগুলোতে নৌকা মেরামত, জাল সেলাই এবং ইঞ্জিন প্রস্তুতের কাজ শেষ করে নদীতে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলেরা। তবে অনেকে ঋণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন।

 

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালাতে এবং নৌকা-জাল মেরামতে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন নদীতে মাছ না পেলে তারা আর্থিক সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।

 

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, দুই মাসে অভয়াশ্রম এলাকায় কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বহু জেলেকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে জাটকা রক্ষা ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য বিজিএফ চালসহ খাদ্য সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।

প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর 

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর 
শেয়ার করুন

প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর

‎প্রবাসী  আব্দুল্লাহর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল নিয়ে দেশে এসে নিখোঁজ রয়েছেন রহমতুল্লাহ নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী, অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ তার পরিচিত প্রবাসী রহমতুল্লাহর মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের জন্য কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র পাঠান। এসবের মধ্যে ছিল একটি আইফোন, একটি সোনার চেইন, দুটি দামী ঘড়ি, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, অন্যান্য দামী আসবাবপত্র এবং প্রায় ১৫ হাজার সৌদি রিয়াল।

‎জানা গেছে, রহমতুল্লাহর স্ত্রী প্রবাসে গিয়ে প্রায় তিন মাস অবস্থান করার পর দেশে ফেরার সময় এসব মালামাল তার হাতে তুলে দেন আব্দুল্লাহ, যাতে তিনি সেগুলো আব্দুল্লাহর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। কিন্তু দেশে আসার পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি।

‎অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ জানান, একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রহমতুল্লাহ ফোন বন্ধ করে দেন এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে রহমতুল্লাহর স্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে আব্দুল্লাহ,

‎এ ঘটনায় রহমতুল্লাহর দেশের বাড়ির ঠিকানা বা অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হলে তা ভুল বলে জানা যায়। বর্তমানে রহমতুল্লাহ সৌদি আরবে অবস্থান করলেও তিনি কোনোভাবেই আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না।

‎এদিকে, রহমতুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ।

ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট
শেয়ার করুন

দেশের বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে মোট ভোটারের ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন ৬৬ শতাংশ ভোটারই।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন কালবেলাকে জানান, প্রথম দিনে ভোট দেন দুই হাজার ৭৫৯ জন। আর দ্বিতীয় দিনে ভোট দেন চার হাজার ৩১০ জন আইনজীবী।

 

তিনি আর বলেন, সবমিলে দুই দিনে সাত হাজার ৬৯ জন আইনজীবী নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটার ২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবী।

 

অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন হয়েছে খুবই উৎসবমুখরভাবে। ভোটাররা যেন ভালোভাবে ভোট দিতে পারে তার জন্য বুথ বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

ফলাফলের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আগামীকাল জুমার নামাজের পর ভোট গণনা শুরু হবে। ভোটার স্লিপগুলো ঠিকভাবে সিরিয়াল করে গণনা শুরু হবে। সেক্ষেত্রে শুক্রবার রাত অথবা শনিবার সকালে ফলাফল ঘোষণা হতে পারে।

 

এদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনে গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হয় ভোটগ্রহণ হয়। দুই দিনেই বৃষ্টির মাঝেই আইনজীবীরা ভোট দিতে আসেন।

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে ভোটগ্রহণ হয়। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

উভয় প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ছাড়াও স্বতন্ত্র আটজন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

তবে নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সমর্থিত সাদা প্যানেল। প্যানেল না থাকলেও আওয়ামী সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চাইলে মনোনয়ন নিতে বাঁধার সম্মুখীন হন বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন কয়েকজন আইনজীবী।

 

নির্বাচনে বিএনপি জোট নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপর দিকে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১১ জোটের সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক লড়ছেন।

 

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা।

 

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। এতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এরপর থেকেই তারা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।