খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

বিএনপির জন্য ভোট চাওয়া আ.লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে থানা ঘেরাও

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
বিএনপির জন্য ভোট চাওয়া আ.লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে থানা ঘেরাও
শেয়ার করুন

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের নির্বাচনি প্রচারে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসার অভিযোগ উঠেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের গ্রেফতার দাবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শিবচর থানায় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ‘শিবচরের সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়েছেন।

 

এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তারের উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আলোচিত কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোটও প্রার্থনা করেন।

 

বিষয়টি নিয়ে বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

 

 

পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসা ও আসন্ন নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তোলেন শিবচরের ‘জুলাই যোদ্ধারা’। পরে তারা একত্র হয়ে ‘সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শিবচর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ব্যানার–ফেস্টুন হাতে নিয়ে অর্ধশত ব্যক্তি থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা থানার ওসি শফিকুল ইসলামের কাছে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

 

আন্দোলনকারী ব্যক্তিদের পক্ষে বক্তব্য দেন শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করে ওসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় আমরা ওসিকে দিয়েছি। এর মধ্যে যদি প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী দোসরদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে পাঁচ হাজার লোক নিয়ে আমরা থানা ঘেরাও করবো। এটাই আমাদের কর্মসূচি। আমরা প্রশাসনের কাছে জবাব চাই। দীর্ঘ ১৭ বছর যারা স্বৈরাচর ছিলেন, তারা কীভাবে প্রকাশ্যে এসে রাজনীতি করেন? এটা কোনও ভাবেই শিবচরের জনগণ মেনে নেবে না।’

 

জানতে চাইলে শিবচর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তারা আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের যারা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হয়েছেন, তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের স্মারকলিপি আমরা গ্রহণ করে আশ্বস্ত করেছি, যারা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত বা যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ দিলেন কিশোরী তিন বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ দিলেন কিশোরী তিন বোন
শেয়ার করুন

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় একসঙ্গে তিন নাবালিকা বোনের আত্মহত্যার খবর সামনে এসেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) শহরের একটি আবাসিক সোসাইটির ৯ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে তারা প্রাণ হারায়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন বোনের নাম বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। আত্মহত্যার আগে তারা নিজেদের ঘরের দরজা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে রাখে। ভোররাতে আশপাশের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে থাকায় ঘটনাটি কেউ টের পাননি। পরে নিচে পড়ার বিকট শব্দে এলাকাবাসীর ঘুম ভেঙে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে জানতে পারেন, ততক্ষণে তিন বোন ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছে।

 

 

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন বোন দীর্ঘদিন ধরে একটি কোরিয়ান অনলাইন গেমে অতিমাত্রায় আসক্ত ছিল। এই গেমে আসক্তিই পারিবারিক অশান্তির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। করোনাকালীন সময় থেকে তারা অনলাইনে গেম খেলায় এতটাই ডুবে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দেয়। এমনকি গেমের প্রিয় চরিত্রের অনুকরণে নিজেদের জন্য কোরিয়ান নাম ব্যবহার করত বলেও জানা গেছে।

গেমে অতিরিক্ত আসক্তির প্রভাব তাদের দৈনন্দিন আচরণেও পড়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা প্রায় সব কাজ—খাওয়া, ঘুমানো, এমনকি গোসলও—একসঙ্গেই করত এবং বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ ক্রমেই কমিয়ে দিচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যেখানে কান্নার ইমোজির সঙ্গে লেখা ছিল, “দুঃখিত, বাবা।” এই সংক্ষিপ্ত বার্তাটি পরিবার ও তদন্তকারীদের আবেগাপ্লুত করে তুলেছে।

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধরা হলেও পারিবারিক পরিস্থিতি, মানসিক অবস্থা, অনলাইন গেমে আসক্তি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানী ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক চাপ, একাকিত্ব এবং অনলাইন আসক্তির বিষয়টি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগ, নিয়মিত মানসিক সহায়তা এবং অনলাইন ব্যবহারে সচেতন নজরদারি থাকলে এমন অনেক মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই ঘটনা তাই শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমাজের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে : বরিশালে জনসভায় তারেক রহমান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে : বরিশালে জনসভায় তারেক রহমান
শেয়ার করুন

গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরীর বেলসপার্ক ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে। এই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবিভূত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে।’

 

তিনি বলেন ‘একটি রাজনৈতিক দল, যাদের অন্য একটি পরিচয় আছে, জনগণ যাদের একটি ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, জনগণ তাদেরকে কী পরিচয়ে চেনে? গুপ্ত পরিচয়ে চেনে। আপনারা চেনেন কারা কারা গুপ্ত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা সেই গুপ্ত। চেনেন আপনারা। আলহামদুলিল্লাহ।’

 

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই বাংলাদেশে আবহমান কাল ধরে, শত হাজারো বছর ধরে নারী-পুরুষ সকলে মিলে মাঠে কাজ করে। বাংলাদেশে যেমন কৃষক ভাইয়েরা কাজ করেন মাঠে, একইভাবে আমরা জানি দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষাণী বোনরাও মাঠে কাজ করেন।’

 

তিনি বলেন, ‘শুধু মাঠেই নয়, বিভিন্ন কল-কারখানায় আমরা দেখেছি আমাদের মায়েরা, বোনেরা, নারীরা তারা পুরুষের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সমগ্র পৃথিবীতে আমরা গৌরববোধ করি—সেই গার্মেন্টস শিল্প টিকিয়ে রেখেছেন এই দেশের নারী সমাজ। এই দেশের মা-বোনেরা।’

 

তারেক রহমান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আমরা অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে দেখছি, অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে দেখছি—এই যে নতুন জালেম, যাদেরকে মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে। এই জালেমদের নেতা, তিনি দুইদিন আগে প্রকাশ্যে বাংলাদেশের নারীদেরকে নিয়ে অত্যন্ত কলঙ্কিত একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন।’

ছুটির দিনেও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
ছুটির দিনেও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি
শেয়ার করুন

আজ শবে বরাত। সরকারি ছুটির দিন। ছুটির দিনে সচরাচর রাজধানী ঢাকার সড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকে। তবে যানবাহনের চাপ কম থেকেও বায়ুদূষণ থেকে মুক্ত পায়নি নগরবাসী। শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় আজও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় উপরের দিকে ঢাকা।

 

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বাতাসের মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 

আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার বাতাসের মান ছিল ২৫৯। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এই মেগাসিটি।

 

একই সময় দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ২৭৬। এছাড়া তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তানের লাহোর (স্কোর ২২৪) ও ভারতের আরেক শহর কলকাতা (স্কোর ২১৭)।

 

বায়ুমানের সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তাকে ‘ভালো’ বলা হয়, আর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর যেহেতু এই সীমার মধ্যে রয়েছে, তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়ির ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

অন্যদের ক্ষেত্রেও বাড়ির বাইরের শারীরিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বায়ুমান ৩০০ অতিক্রম করলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

 

পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শুষ্ক মৌসুমের ধূলিকণা ঢাকার বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে। নিয়মিত রাস্তাঘাটে পানি না ছিটানো এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

 

আন্তর্জাতিক এই সূচকটি মূলত পিএম ২.৫ নামক অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণার উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যা সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যেতে পারে। ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য এই নীরব ঘাতক থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।