বিএনপির জন্য ভোট চাওয়া আ.লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে থানা ঘেরাও
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের নির্বাচনি প্রচারে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসার অভিযোগ উঠেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের গ্রেফতার দাবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শিবচর থানায় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ‘শিবচরের সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তারের উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আলোচিত কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোটও প্রার্থনা করেন।
বিষয়টি নিয়ে বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসা ও আসন্ন নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তোলেন শিবচরের ‘জুলাই যোদ্ধারা’। পরে তারা একত্র হয়ে ‘সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শিবচর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ব্যানার–ফেস্টুন হাতে নিয়ে অর্ধশত ব্যক্তি থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা থানার ওসি শফিকুল ইসলামের কাছে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
আন্দোলনকারী ব্যক্তিদের পক্ষে বক্তব্য দেন শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করে ওসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় আমরা ওসিকে দিয়েছি। এর মধ্যে যদি প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী দোসরদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে পাঁচ হাজার লোক নিয়ে আমরা থানা ঘেরাও করবো। এটাই আমাদের কর্মসূচি। আমরা প্রশাসনের কাছে জবাব চাই। দীর্ঘ ১৭ বছর যারা স্বৈরাচর ছিলেন, তারা কীভাবে প্রকাশ্যে এসে রাজনীতি করেন? এটা কোনও ভাবেই শিবচরের জনগণ মেনে নেবে না।’
জানতে চাইলে শিবচর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তারা আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের যারা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হয়েছেন, তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের স্মারকলিপি আমরা গ্রহণ করে আশ্বস্ত করেছি, যারা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত বা যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

আপনার মতামত লিখুন