“হ্যাঁ” মানে আজাদী, “না” মানে গোলামী- কক্সবাজারে ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৩ তারিখ থেকে জনগণ একটি নতুন বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ হবে ন্যায়বিচার, যোগ্যতা ও মানবিক মর্যাদার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাহারছড়া মুক্তিযোদ্ধা গোল চত্বর মাঠে কক্সবাজার জেলা জামায়েত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। “চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ, গণভোটে হ্যাঁ দিই” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত জনসভায় তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন।
নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা মায়েদের মাথার ওপরে তুলে রাখার মর্যাদা দেব। ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল পর্যন্ত তাদের চলাচলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত সকল শিক্ষাখরচ সরকার বহন করবে।
যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকারভাতা তুলে দিয়ে অপমানিত করব না। আমরা তাদের হাতকে শক্ত করব, কাজের সুযোগ সৃষ্টি করব। দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে বলব এগিয়ে যাও, এ দেশ তোমার। তিনি বলেন, সেই সময় যুবকরাই বলবে আমিই বাংলাদেশ। গর্বিত নাগরিক হিসেবে যুব সমাজকে গড়ে তুলতে চান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও অপমানের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, গত কয়েক দিনে মা-বোনদের অপমান করার মতো অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমি এর প্রতিবাদ করেছি বলেই একটি চক্র আমার পেছনে লেগেছে। তারা সামনে মোকাবিলা করতে পারে না, পেছন থেকেই আঘাত করে। তবে পেছনের লোকেরা সবসময় পেছনেই পড়ে থাকবে সামনে এগোতে পারবে না।
প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের হবেন, কোনো দলের হবেন না। আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করতে চাই। তিনি আরও বলেন, সৎ ও দক্ষতার সঙ্গে জনগণকে সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন রাখেন, কক্সবাজার অপার সম্ভাবনার একটি অঞ্চল তবুও এই কক্সবাজার কেন আজও হংকং বা সিঙ্গাপুর হতে পারল না? তিনি বলেন, অসৎ দুর্নীতিবাজ ও ব্যাংক লুটেরাদের কারণেই এই সম্ভাবনাময় অঞ্চল পিছিয়ে আছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশ থেকে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি দেন এই অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে জনগণের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হবে।
তিনি আরও জানান, কক্সবাজারবাসীর প্রাণের দাবি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। কক্সবাজার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যা মানুষকে মানুষ বানাবে এবং একই সঙ্গে দেশ গড়ার কারিগর তৈরি করবে।
রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “রাজার ছেলে রাজা হবে” আমরা এই রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। যার যোগ্যতা আছে, সেই হবে এই দেশের সেবক। তিনি বলেন, একজন রিকশাচালকের মেধাবী সন্তান যেন ভবিষ্যতে বিকশিত হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে এমন বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য।
ন্যায়বিচারের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ইনসাফ কায়েম হওয়া মানে একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে শাস্তি হবে, রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী একই অপরাধ করলে তারও একই শাস্তি হবে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান বলেও তিনি জানান।
গণভোট প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার নামই হচ্ছে ‘হ্যাঁ’। অনেকে শুরুতে ‘না’ বলেছে, এখন জাতির চাপে ধীরে ধীরে ‘হ্যাঁ’ বলতে শুরু করেছে। এই ‘হ্যাঁ’ যেন মুখের কথা না হয়ে বুকের কথা হয় এই কামনা করেন তিনি। তবে এবার ‘না’ এর পক্ষে দাঁড়ালে জাতি তার হিসাব ভালোভাবেই বুঝে নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলের “হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ জামায়েতের আমির কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। এরপর কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শহিদুল আলম এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারীর হাতেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। এর আগে সকালে মহেশখালীতে আয়োজিত জনসভায় তিনি কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, একসাথে এগিয়ে এসে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য।

আপনার মতামত লিখুন