খুঁজুন
রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

২৪ ঘণ্টায় ২২০ মার্কিন সেনা হতাহতের দাবি ইরানের

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় ২২০ মার্কিন সেনা হতাহতের দাবি ইরানের
শেয়ার করুন

ইরানের লাগাতার হামলায় গেলো ২৪ ঘণ্টায় ২২০ জনের বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের খাতামুল আম্বিয়া (সা.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি।

 

 

শনিবার (৭ মার্চ) তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্স্টুডে খাতামুল আম্বিয়া (সা.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের বরাতে এ কথা জানিয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

 

ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেন, এই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে) অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ধ্বংসাত্মক আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর বহু সৈন্য ও কমান্ডার হতাহত হয়েছে এবং তাদের অবকাঠামো ও সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

 

 

তার দাবি অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরে হামলা ২১ জন মার্কিন সন্ত্রাসী সেনা নিহত এবং আরও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-জাফরা এয়ার বেসে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এছাড়া পারস্য উপসাগরের উত্তরে মার্কিন মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা করা হয়েছে। সেখানেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

 

এর আগে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে অন্তত পাঁচ শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেনি কোনো পক্ষ।

চকরিয়ায় বেপরোয়া পিকআপের ধাক্কায় পথচারী গুরুতর আহত, চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চকরিয়ায় বেপরোয়া পিকআপের ধাক্কায় পথচারী গুরুতর আহত, চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"effects":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার জিদ্দাবাজার এলাকায় বেপরোয়া পিকআপের ধাক্কায় রফিকুল আলম নামে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত প্রায় সোয়া ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় আহত রফিকুল আলমের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ভূমিকম্পে কাঁপছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র, ৪ ঘণ্টায় ২৮ বার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
ভূমিকম্পে কাঁপছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র, ৪ ঘণ্টায় ২৮ বার
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৮টি মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ১০৮টি ভূমিকম্প হয়েছে। গত সাত দিনে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩১টিতে। আর গত ৩০ দিনে রেকর্ড করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭০৭টি ভূমিকম্প।

 

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোর বেশিরভাগই ছিল তুলনামূলক কম মাত্রার। সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী, নেভাদার লাভলকে ১.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে, যার গভীরতা ছিল প্রায় ৪ কিলোমিটার। এর আগে টেক্সাসের ভ্যান হর্নে ১.৯ মাত্রার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সোলেদাদে ২.০ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

 

এ ছাড়া হাওয়াইয়ের আগ্নেয়গিরি এলাকায়, আলাস্কার সোলডোটনা ও হ্যাপি ভ্যালি, নিউ মেক্সিকোর লাভিং এবং টেক্সাসের কয়েকটি অঞ্চলেও স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

 

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছে লুইজিয়ানার কুশাট্টায়, যার মাত্রা ছিল ৪.৯। আর চলতি মাসে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়েছে আলাস্কার উনালাস্কায়, যার মাত্রা ছিল ৬.১।

 

অন্যদিকে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছে আলাস্কার স্যান্ড পয়েন্ট এলাকায়, যার মাত্রা ছিল ৭.৩। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই ঘটে থাকে। বিশেষ করে আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াই ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ভূমিকম্প বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয় না।

‘হাসপাতালে রেফারের কথা বলে কারাগারে, ইফতারের পানিটুকুও দেয়নি পুলিশ’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
‘হাসপাতালে রেফারের কথা বলে কারাগারে, ইফতারের পানিটুকুও দেয়নি পুলিশ’
শেয়ার করুন

‘আমি এবং আমার মেয়েকে পুলিশ প্রচণ্ড মারধর করে। মারধরের পর থানায় ইউএনও স্যার আসেন। আমরা তখন মনে করেছিলেন ইউএনও স্যার আমাদেরকে রক্ষা করতে এসেছেন। কিন্তু ওনি আমাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখার পরও কিছু না বলে উপরে চলে যান। আমরা অনেক অনুরোধ করেছিলাম আমাদেরকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু শুনেন নি। এরপর পুলিশ আমাদেরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফারের কথা বলে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। নেয়ার পথে ইফতারের সময় হলে পানির জন্য অনেক আকুতি মিনতি করি, কিন্তু পানিও দেয়নি। অথচ ইফতারের জন্য তাদের হাতে ফ্রুটিকা ছিলো। আমাদেরকে ইফতারটাও করতে দেয়নি। পরে হাসপাতালের কথা বলে কারাগারে ঢুকিয়ে দেয়। আমাদের শারীরিক আঘাতের অবস্থা দেখে কারা কর্তৃপক্ষ প্রথমে গ্রহণ করতে চায়নি। পরে ইউএনও ফোন করায় কারা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে।’

 

 

ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে মারধরের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেয়া হয়েছিলো পেকুয়ার রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) ও তার মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জান্নাতকে (২৩)। বিতর্কের মুখে শনিবার (৭ মার্চ) সেই মামলা থেকে খালাস দেয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মুক্তি পেয়ে শনিবার রাতে চ্যানেল 24-কে পুলিশের বিরুদ্ধে ভয়াবহ নির্যাতন ও ইউএনও’র বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অপব্যবহারের এভাবেই বর্ণনা দেন ভুক্তভোগী রেহেনা আক্তার।

 

 

রেহেনা ও তার মেয়ে জুবাইদার শরীরের বেশিরভাগ অংশে আঘাতের চিহ্ন। মুক্তির পর দ্রুত তাদেরকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কথা হয় রেহেনার সঙ্গে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মেয়ে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না।

 

 

জানা গেছে, জুবাইদার জন্মের পর রেহেনা ও তার স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর ২০১৩ সালে জুবাইদার বাবার মৃত্যু হলে সম্পত্তির ভাগের জন্য চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কিন্তু তারা সম্পত্তির ভাগ থেকে বঞ্চিত করার জন্য জুবাইদাকে অস্বীকার করা শুরু করেন। সবদিকে দৌড়াদৌড়ির পর ক্লান্ত জুবাইদা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয় পেকুয়া থানাকে। পেকুয়া থানা থেকে মামলার তদন্তভার যায় এসআই পল্লবের কাছে। এসআই পল্লব প্রতিবেদন দিতে খরচাপাতির দরকার আছে জানিয়ে জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়। ঘুষ নেয়ার পরও জুবাইদার চাচাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দেন বলে অভিযোগ তাদের।

 

 

জানা গেছে, ভুল প্রতিবেদন দেয়ায় জুবাইদা এসআই পল্লবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনভাবেই সাড়া না পাওয়ায় গত বুধবার বিকেলে পেকুয়া থানায় গিয়ে এসআই পল্লবের কাছ থেকে ঘুষের টাকা ফেরত চান। এতেই বাঁধে বিপত্তি। শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে জুবাইদা ও তার মা রেহেনাকে মারধর শুরু করেন। মেরে রক্তাক্ত করার পর ইউএনওকে ডেকে পাঠান পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম। ইউএনও’র সামনে ঘটনা না ঘটা স্বত্বেও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ তুলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মা-মেয়েকে এক মাসের সাজা দেন। পরে বিতর্কের মুখে শনিবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সেই মামলা খারিজ করে মা-মেয়েকে খালাস দেন। এরপর মুক্তি পান তারা।

 

 

শুক্রবার মুঠোফোনে ইউএনও মাহবু আলম জানিয়েছিলেন, থানার ভেতর তার (ইউএনও) সামনে পুলিশের উপর হামলা করায় তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেন। সাজার বিষয়ে অভিযুক্তদের (মা-মেয়ে) সামনাসামনি জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার পর জুবাইদার মায়ের অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না, তাদের সামনে বিচারিক কার্যক্রম হয়নি। কক্সবাজার পৌঁছে কারাগারে প্রবেশের সময় জানতে পারেন তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া হয়েছে।

 

 

তবে ঘটনার পর থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী জুবাইদা ও তার মা পুলিশের উপর হামলা করেছে। শারীরিকভাবে আঘাত করেছে। থানার ভেতর ঢুকে শারীরিকভাবে আঘাত করার ঘটনায় ফৌজধারী আইনে মামলা করে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারতো। কিন্তু সেটা না করে পুলিশের উপর হামলা দেখিয়ে ইউএনওকে ব্যবহার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেন, যা সত্যিই উদ্বেগজনক। অতীতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া হয়েছে এমন ঘটনার নজির খুব কম। তাদের সন্দেহ, ঘুষ আদায় ও মা-মেয়েকে থানার ভেতর নির্যাতনের ঘটনা আড়াল করতে ইউএনও’কে ব্যবহার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে ইউএনও, ওসি ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করেন তারা।

 

 

এদিকে মা-মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে পেকুয়া থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেন নি। শুক্রবার ফোনে কথা বললেও শনিবার ফোন ধরেন নি অভিযুক্ত ইউএনও মাহবুব আলম।