কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার থাইংখালী এলাকায় এক যুবদল নেতার ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে কুপিয়ে ও আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আলম ও তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা নিশান সহ অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার ( ১৬ মার্চ ২৬) আসরের নামাজের পর তাজনিরমারখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তি আব্দুস সালাম বাবু, যিনি স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়ন যুবদল সহসভাপতি বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রতিদিনের মতো আব্দুস সালাম বাবু মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তাকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আহত আব্দুস সালাম বাবুর দাবি, হামলায় নেতৃত্ব দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আলম তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা নিশান। এ সময় তার সঙ্গে সোহেল, রুবেল, শাহা আলম, এবং নিশানের শশুর গফুরসহ আরও কয়েকজন অংশ নেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী- তাজনিমারখোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে শেখ আলমের পরিবার। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখলসহ নানা ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সেই মানববন্ধনে যুবদল নেতা আব্দুস সালাম বাবু প্রকাশ্যে এলাকাবাসীর পক্ষে সমর্থন জানান এবং শেখ আলম পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এর জের ধরেই তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগে আব্দুস সালাম বাবু উখিয়া থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে অভিযোগের পরও তিনি হামলা থেকে রেহাই পাননি বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শেখ আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলে নিশান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে উখিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত নন। থানার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হামলার প্রতিবাদে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আলমের পরিবারের সদস্যদের হাতে আব্দুস সালাম বাবুর আরেক ভাই ২০০৭ সালে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বাবুর পরিবার।
আপনার মতামত লিখুন