ইসরায়েলের পারমাণবিক কেন্দ্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ ও ‘ঐকমত্যের’ দাবি করছেন, ঠিক তখনই ইসরায়েলের বুক চিরে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করল তেহরান।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের প্রতিশোধমূলক ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭৮তম ধাপের ঘোষণা দিয়ে এই ভয়াবহ হামলা চালায়। এতে ইসরায়েলের অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক কেন্দ্র ডিমোনা, বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব এবং ইলাত বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইরানি বার্তা সংস্থা প্রেস টিভির বরাতে জানা যায়, আইআরজিসি এই অভিযানকে যুদ্ধের ইতিহাসে এক ‘অনন্য রেকর্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মঙ্গলবার জারি করা বিবৃতিতে আইআরজিসি বাহিনীটি জানায়, যখন ইরানের লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সংহতি জানাচ্ছে, ঠিক তখনই শত্রুর দুর্গ লক্ষ্য করে ধেয়ে গেছে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। বিশেষ করে উত্তর তেল আবিব এবং ইলাত বন্দরের সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোতে ‘ইমাদ’ ও মাল্টি-ওয়ারহেড ‘কদর’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইসরায়েলের কুখ্যাত পারমাণবিক চুল্লি সমৃদ্ধ ডিমোনা শহরে আইআরজিসি এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার আঘাত হানল। এর আগের হামলায় ডিমোনা ও পার্শ্ববর্তী আরাদ শহরে অন্তত ২০০ জন হতাহত হওয়ার ক্ষত শুকানোর আগেই এই নতুন আক্রমণ অধিকৃত অঞ্চলে চরম ভীতির সঞ্চার করেছে। শুধু ইসরায়েলই নয়, এই দফায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে তেহরান।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা এই ‘শিশু হত্যাকারী’ আগ্রাসনকারীদের সঙ্গে কেবল অস্ত্রের ভাষাতেই কথা বলবে। তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের মূল কমব্যাট ইউনিট এবং লাখ লাখ ‘বাসিজ’ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী এখনও যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেনি। যদি তারা পূর্ণ শক্তিতে ময়দানে নামে, তবে পরিস্থিতি আগ্রাসনকারীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন