মানুষের আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে
বাংলাদেশে মানুষের তৈরি করা আইনের ‘কবর[’ রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
তিনি বলেছেন, আমাদের ফখরুল ইসলাম সাহেব (বিএনপি মহাসচিব) বলেছিলেন, ‘আমরা শরিয়তের আইন বিশ্বাস করি না’। পরে অবশ্য আত্মসমর্পণ করে নির্বাচনের আগে বলেছেন শরিয়তের বিরুদ্ধে আমরা কোনো আইন পাস করবো না। ধন্যবাদ উনাকে, অন্তত তওবা করে ফিরে এসেছেন।
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর আইন চাই। আপনারা (বিএনপি) আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবেন না বলেছেন। অতএব আসুন, বাংলাদেশে মানুষের আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করি।
দেশে ইসলামী আইন চালু করার জন্য একটি ইসলামী বোর্ড গঠন করারও আহ্বান জানান জামায়াতের এ সংসদ সদস্য। এ জন্য তিনি মাদ্রাসা থেকে পাস করা সংসদ সদস্য এবং সংসদের বাইরে যত মাযহাবের আলেম আছেন, তাঁদের নিয়ে এ বোর্ড গঠন করার পরামর্শ দেন। তার মতে এ বোর্ড ইসলামী আইন চালু করার পরামর্শ দেবে এবং দেশে সেই আইন কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, সংসদ ভবনে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ঈমান’ লেখা আছে। তাই আইনের উৎস হওয়া উচিত আল কোরআন। তার ভাষায়, ‘কোরআনের বিধান বাংলাদেশে চালু হওয়া উচিত ছিল।’
মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের ‘অধিকাংশ মানুষ’ কোরআনে বিশ্বাস করে এবং কোরআনের বিধান প্রতিষ্ঠা করা ‘তাদের দাবি’উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, পবিত্র কোরআনের ৬ হাজার ৬৬৬টি আয়াতের মধ্যে ১ হাজার আয়াত আছে ‘হ্যাঁ–বোধক’ আইন। ১ হাজার আয়াত আছে না বোধক। এগুলো বাংলাদেশে কায়েম করতে হবে।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, সূরা হজের ৪১ নম্বর আয়াতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
কোরআনের আয়াতের অনুবাদ করে তিনি বলেন, যারা রাষ্ট্রক্ষমতা পাবে তারা দেশে নামাজ চালু করে মানুষের চরিত্র ভালো করে দেবে এবং যাকাত চালু করে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব দেশ থেকে বিতাড়িত করবে। ভালো কাজ করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে, খারাপ কাজ বন্ধ করে অশান্তির আগুন থেকে মানুষকে রক্ষা করবে।
মুজিবুর রহমান বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য আওয়ামী লীগ এসেছে ছয়বার, বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি দুইবার- এতগুলা সরকার এলেও জাতীয় সংসদে কোরআনের একটি আইনও চালু করে নাই। আমরা এদেশে কোরআনের আইন চালু করে মানুষকে মুক্তি দেবো। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, আপনাকেও জিজ্ঞাসা করা হবে আমাকেও করা হবে, বাংলাদেশে কেন নামাজ চালু করা হলো না? কেন যাকাত চালু করে ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্ব দেশ থেকে দূর করা হলো না? কেন ভালো কাজ চালু করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হলো না? কেন খারাপ কাজগুলো বন্ধ করে অশান্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করা হলো না?
মুজিবুর রহমান বলেন, ‘টিকিট বিক্রির একটা কথা হয়েছে। কোরআনের একটি আয়াতকে কেন্দ্র করে ভুল–বোঝাবুঝি হচ্ছে। আল্লাহ–তাআলা সূরা তওবার ১১১ নম্বর আয়াতে বলেছেন, আল্লাহ–তাআলা জানমালকে কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। এটা আল্লাহর কথা, আপনি জানমাল দেবেন, জান্নাতে যেতে পারবেন। জানমাল আল্লাহর পথে দেবেন না, আপনার কপালে জান্নাত হবে না।’
জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম, জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতা বলেছে, আমার কাছে জান্নাতের টিকিট আছে, বিক্রি করছি? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে, কেন তিনি এটা বলছেন।’

আপনার মতামত লিখুন