খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ, ১৪৩৩

পাঁচ মাসে দেড় শ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৫, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ মাসে দেড় শ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে জেলেদের নতুন আতঙ্কের নাম আরাকান আর্মি। গত পাঁচ মাসে মাছ ধরতে যাওয়া দেড় শ জেলেকে অপহরণ করেছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন টেকনাফের তিন হাজার জেলে।

গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে মাছ ধরায় সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। তবে তার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই টেকনাফের জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এতে জেলে পরিবারগুলো সীমাহীন অর্থকষ্ট ও ভোগান্তিতে পড়েছে।

বাংলাদেশ–মিয়ানমারের ২৭১ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে নাফ নদীর জলসীমা পড়েছে ৮৪ কিলোমিটার। কিন্তু তিন মাস ধরে নাফ নদীর জলসীমায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) টহল তৎপরতা বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে নাফ নদী থেকে জেলেদের ট্রলারসহ অপহরণের ঘটনাও বেড়েছে। জেলেরা এসব ঘটনার জন্য আরাকান আর্মিকে দায়ী করেছেন।

সর্বশেষ ৮ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অদূরে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমার মৌলভীরশীল নামের এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে চারটি ফিশিং বোটসহ ২৩ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এ ঘটনায় আতঙ্কিত টেকনাফের অন্তত ৪০০ ট্রলারের তিন হাজার জেলে পাঁচ দিন ধরে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, গত ৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্য মংডু টাউন দখলের পর নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আরাকান আর্মির (এএ) তৎপরতা বেড়েছে। এ সময় এই বাহিনীর সদস্যরা ১৫১ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে বিজিবির একক প্রচেষ্টায় ১৩৪ জনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অন্য জেলেদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আরও বলেন, ট্রলারসহ ২৩ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। আজকালের মধ্যে ভালো একটি সংবাদ পাওয়া যেতে পারে। এর আগেও আরাকান আর্মির সঙ্গে বিজিবি যোগাযোগ করে কয়েক দফায় দেড় শতাধিক অপহৃত বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে।

ট্রলারমালিকদের দাবি, আরাকান আর্মির সদস্যরা দ্রুতগতির স্পিডবোট নিয়ে নাফ নদীর বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ছেন। তাঁরা অস্ত্রের মুখে টেকনাফের জেলেসহ মাছ ধরার ট্রলার ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। বিজিবির তৎপরতায় সম্প্রতি কিছু জেলেকে ফেরত আনা গেলেও অপহরণের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না।

সম্প্রতি বন্দিদশা থেকে ফিরে আসা টেকনাফের কয়েকজন জেলে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়া ও নিয়মিত যোগাযোগের পথ সৃষ্টি করতেই আরাকান আর্মি নাফ নদী থেকে বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণ করছে। রাখাইনে বন্দী থাকার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাঁদের কাছে এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, রাখাইন রাজ্য দখলের পর (গত ডিসেম্বর মাসে) আরাকান আর্মি নাফ নদীতে মাছ আহরণসহ নৌকা চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। এ বিষয়ে টেকনাফের জেলেদের সতর্ক করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশি জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে না পড়েন। তারপরও বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে।

৪০০ ট্রলারের মাছ ধরা বন্ধ

গত রোববার সকাল ১০টায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ নৌঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দুই শতাধিক ট্রলার ঘাটে পড়ে আছে। দুপুরে পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে জালিয়াপাড়ার ঘাটেও শতাধিক নৌকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। নৌকার জেলেরা পাশের বেড়িবাঁধে ছেঁড়া জাল সংস্কার করছেন। সেন্ট মার্টিনের শতাধিক নৌকাও সাগরে নামছে না বলে খবর পাওয়া গেছে।

ট্রলারের জেলে আবদুল আমিন, নুর আলম, মোহাম্মদ হোসেন ও রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় তিন হাজারের বেশি জেলে অর্থসংকটে পড়েছেন। সংসার চালাতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

৮ এপ্রিল সেন্ট মার্টিন উপকূল থেকে চারটি ট্রলারসহ ২৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। এর মধ্যে শাহপরীর দ্বীপের আবদুল শুক্কুরের মালিকানাধীন একটি ট্রলারে জেলে ছিলেন ৫ জন, মোহাম্মদ শাওনের একটি ট্রলারে ৬ ও আবদুল হাকিমের দুটি ট্রলারে ১২ জন।

ট্রলারমালিক আবদুল শুক্কুর ও আবদুল হাকিম বলেন, জেলেদের সন্ধান মিলছে না। আরাকান আর্মি স্পিডবোটে এসে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। সাগরে নেমে ২৩ জেলেকে অস্ত্রের মুখে রাখাইন রাজ্যের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় ধরে নিয়ে গেছে। সেখানে কী অবস্থায় আছে খবর পাওয়া যাচ্ছে না। তাতে তাঁদের পরিবার উদ্বিগ্ন। আগে রাখাইন রাজ্যে জান্তা সরকার থাকতে মুহূর্তে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদলিপি ও পতাকা বৈঠক করা যেত। এখন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না।

সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ১৫ এপ্রিল থেকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ১০ থেকে ১২ হাজার জেলের পরিবারের দুঃখ–দুর্দশা আরও বাড়তে পারে। কারণ, আড়াই মাস ধরে জেলেরা তেমন মাছ আহরণ করতে পারেননি। মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় হাটবাজারে সামুদ্রিক মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।

নির্বাচনে জিতলেন বিজয়ের গাড়িচালকের ছেলে সাবারিনাথন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
নির্বাচনে জিতলেন বিজয়ের গাড়িচালকের ছেলে সাবারিনাথন
শেয়ার করুন

তামিলনাড়ুর বিরুগামবাক্কম আসনে জিতেছেন সাবারিনাথন। ৩০ বছর বয়সী সাবারিনাথন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয় থালাপতির দীর্ঘদিনের গাড়িচালক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজেন্দ্রনের ছেলে।

সাবারিনাথনও তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ার পথে আছেন। প্রথম নির্বাচনে জয়ী হওয়া টিভিকে বিধায়কদের তালিকায় তার নামও যোগ হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিভিকে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১০০টির অনেক বেশি আসনে জয়ের পথে আছে। আর সেই আসনগুলোর একটি বিরুগামবাক্কম। এটি চেন্নাই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। এই জয় শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং আবেগঘন একটি ঘটনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

দলের ভেতরে বিজয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এ ঘটনা তারই প্রকাশ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজেন্দ্রনের ছেলে সবরিনাথন বিজয়ের প্রথম ছবি ‘নালাইয়া থিরপু’ থেকেই তার সঙ্গে আছেন। তিনি ডিএমকের প্রভাকারা রাজা ও এআইএডিএমকের বিরুগাই রভিকে পরাজিত করে ২৭ হাজার ৮৬ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।

মার্কিন জাহাজে হামলা হলে ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্প

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন জাহাজে হামলা হলে ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্প
শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন কোনো জাহাজে হামলা চালানো হলে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা’ হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে এই হুমকি প্রদান করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর পরিমাণে উন্নত মানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে।

 

 

 

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সেরা সব যুদ্ধ সরঞ্জামে পরিপূর্ণ রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে তারা এসব সামরিক সরঞ্জামের সবকিছুই ব্যবহার করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

 

 

 

কঠোর সামরিক হুমকির পাশাপাশি শান্তি আলোচনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিশ্বাস করেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইরান আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি নমনীয় হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।