ইউরোপে শরণার্থী হওয়ার পথ ‘কঠিন’ হলো বাংলাদেশিদের
বাংলাদেশসহ বিশ্বের সাতটি দেশটি ‘নিরাপদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব এনেছে ইউরোপের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
বুধবার এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে করে এসব দেশ থেকে ইইউর সদস্য দেশগুলোতে আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হতে পারে।
এর মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন আরও দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে বলেও জানিয়েছে জোটটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে ভারত, কসোভো, কলম্বিয়া, মিশর, তিউনিশিয়া ও মরক্কো।
তালিকা পুরোপুরি কার্যকর করার পর এসব দেশের নাগরিকেরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশে আশ্রয় চাইলে তাদের আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।
ইইউতে গত বছর অভিবাসন ও আশ্রয় সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
কিন্তু ইইউ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুনের আগে এটি কার্যকর না হওয়ায় তারা প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত করার জন্য দুটি মূল নিয়ম পাস করতে চায়।
অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন দ্রুত করার পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য গত বছর ইইউ কমিশনকে আহ্বান জানায় সদস্য দেশগুলো।
কারণ ইইউর পরিসংখ্যান অনুসারে, ওই সময় দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া ২ শতাংশের কম লোককে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
নতুন এই পরিকল্পনার অধীনে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লোকদের দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হবে কর্তৃপক্ষ। নতুন এই প্রস্তাব এখন ইউরোপীয় সংসদ এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্র দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে।
তবে কিছু মানবাধিকার গোষ্ঠী এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ইউরোমেড রাইটস বলছে, সাতটি দেশকে নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করা বিভ্রান্তিকর ও বিপজ্জনক।
কারণ তাদের মধ্যে এমন দেশ অন্তর্ভুক্ত, যেখানে অধিকার লঙ্ঘন করা হয় এবং সুরক্ষা কম।
তবে শরণার্থী বিষয়ক ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেছেন, ‘অসংখ্য আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে গেছে। এগুলো নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াকে আমরা এখন সমর্থন করতে পারি।’
অবৈধ অভিবাসন বন্ধ এবং অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ইইউর ওপর গত কয়েক বছর ধরেই চাপ বাড়ছে।
সেখানকার মানুষের মতে, অভিবাসনের কারণে তাদের দেশে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি প্রসারিত হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানায়, তাদের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করা দেশগুলোও নীতিগতভাবে ‘নিরাপদ’ দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশসহ যেসব দেশকে নিরাপদ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেটি সময়ে সময়ে পর্যবেক্ষণ এবং বাড়ানো যাবে।
এই দেশগুলোর বাইরে ইইউর সদস্য রাষ্ট্রগুলো অন্য আরও দেশকেও নিরাপদ হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে।
এর আগে ২০১৫ সালেও এমন তালিকা প্রকাশ করেছিল ইইউ। ওই সময় এই তালিকা কার্যকর করা যায়নি। তখন তুরস্ক নিয়ে বিভেদ দেখা দেয়। এবার তালিকা আরও বড় কিংবা ছোট করা হতে পারে বলে আগেই ঘোষণা দিয়ে রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপে রাজনৈতিকভাবে ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা দেখিয়ে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য বড় ধরনের বিপদ সংকেত।
অরেক বাংলাদেশি এসব কারণ দেখিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিয়ে আছেন। যেখানে বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলে তাদের সেই আশ্রয় পাওয়ার পথ জটিল ও সংকুচিত হয়ে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন