খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩

জমি দখল ও ভাড়ার টাকা আত্মসাতে থানায় অভিযোগ

উখিয়ায় কনস্টেবল ছেলের প্রভাবেই নুরুল হকের বেপরোয়া সাম্রাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় কনস্টেবল ছেলের প্রভাবেই নুরুল হকের বেপরোয়া সাম্রাজ্য
শেয়ার করুন

 

কক্সবাজারের উখিয়ায় আওয়ামীলীগ সমর্থিত এক প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জমি জবরদখল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভাড়া আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বালুখালী মরা গাছতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বালুখালী শিয়ালিয়া পাড়ার নুরুল হক (৫৫) এবং তার ছেলে পুলিশ কনস্টেবল সালাহ উদ্দিন (২৮)সহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক অন্যের জমি দখল, ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ ও নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। এসব অভিযোগ তুলে একই এলাকার শামসুল আলম নামে এক ভুক্তভোগী উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমিদারপাড়া এলাকার শামসুল আলম, নজু মিয়া ও কবির আহমেদ এই তিনজন ২০০৩ সালে ৫ একর বনজ জমি চাষাবাদ ও বনের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করে জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে দখলীয় প্লট নেন।

পরবর্তীতে জমিটির প্রায় ৪ একর রোহিঙ্গা শিবিরের আওতাভুক্ত হয়ে যায়। অবশিষ্ট ১ একর জমির প্রকৃত ভোগদখলীয় মালিক হিসেবে তিনজনেরই অধিকার থাকা সত্ত্বেও বাহির থেকে এসে নুরুল হক ও তার ছেলে সালাউদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে পুরো জমিটি জবরদখল করে নেন। যেহেতু এটি বনের জমি এবং কারো নামে বৈধ কাগজপত্র নেই, তাই ‘জোর যার মুলুক তার’—এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই পুরো ঘটনাটি ঘটায় তারা।

জমি দখলে নেওয়ার পর নুরুল হক ও তার ছেলে সেখানে প্রায় ১৮০টি দোকানঘর নির্মাণ করে অবৈধভাবে ভাড়া আদায় করছেন। মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া তুললেও প্রকৃত মালিকদের কোনো অংশ প্রদান না করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বঞ্চিত করে আসছেন। এভাবেই বর্ণনা ছিল লিখিত অভিযোগে।

 

 

অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার এস আই রিপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলছে, উভয়পক্ষকে থানায় ডাকানো হয়েছে। বিষয়টা সামাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগেই নুরুল হক সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর ছত্রছায়ায় থেকে সংশ্লিষ্ট জমিটি এককভাবে দখল করে নেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে ডাকাতি, হামলা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সহায়তায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নাশকতা বিরোধী একটি মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়েছে, যার মামলা নং,জি আর উখিয়া (১৮/১১)২৫। এ পরিস্থিতিতে নুরুল হকের পুনরায় জমি দখলের প্রচেষ্টা ও তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো নিয়ে এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধান ও তথ্যসূত্র বলছে, অভিযুক্ত নুরুল হক ও তার ছেলে সালাহ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নুরুল হক মূল দলে সক্রিয় থাকলেও সেই সময়ে সালাহ উদ্দিন ছিলেন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। রাজনৈতিক পরিচিতি ও স্থানীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সালাহ উদ্দিন পরে আব্দুর রহমান বদির সুপারিশপত্র ব্যবহার করে পুলিশ কনস্টেবলে চাকরি নেন—যা এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

চাকরিতে প্রবেশের পর থেকে তাদের প্রভাব আরও বেড়ে যায়। সেই সুযোগে এলাকায় মাদক কারবার, ভূমি জবরদখল, ভয়ভীতি দেখানোসহ একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন তারা। এমনকি নুরুল হকের স্ত্রীও এক মামলায় কারাভোগ করেছেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, নুরুল হকের ছেলে সালাহ উদ্দিন পুলিশের চাকরির সুবাদে নিয়মিত বাড়িতে আসা–যাওয়া করেন। পুলিশের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এই আসা–যাওয়ার সুযোগকে ব্যবহার করে তিনি নাকি ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বহন করেন—এমন কথাও এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কেউ কেউ আরও অভিযোগ করে বলেছেন, সালাহ উদ্দিনের প্রভাব ও পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নুরুল হক পরিবারটি এলাকায় একটি অঘোষিত আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

জমিদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা জমির উদ্দিন বলেন, নুরুল হকের পৈতৃকভাবে কোনো সম্পদই ছিল না। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সে কীভাবে কোটি টাকার মালিক হলো,এটাই এখন মানুষের মুখে বড় প্রশ্ন ঘুরপাকে আছে।

তিনি আরো বলেছেন, নুরুল হক তার ছেলে পুলিশ কনস্টেবল সালাহ উদ্দিনকে ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। সালাহ উদ্দিনের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত নিয়েও সন্দেহ আছে। এই যাতায়াতের আড়ালেই মাদক পাচারের রুট পরিচালিত হয় এমন মন্তব্যেও করেন তিনি। নুরুল হকের পরিবারের একাধিক সদস্য অতীতে ইয়াবাসহ মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় জেল খেটেছে। এখনও বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা চলমান। সালাহ উদ্দিনের চলাফেরা, যাতায়াত এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মহলের গতিবিধি যাচাই করলে নুরুল হকের অবৈধ সম্পদ ও মাদক ব্যবসার সম্পূর্ণ চিত্র বেরিয়ে আসবে।

একই এলাকার বাসিন্দা নজু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, নুরুল হকের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং এলাকায় অনেকেই তাকে ‘নুরুল হক ডাকাত’ নামে চেনেন।

নুরুল হকের ছেলে সালাহ উদ্দিন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলেই পুলিশের চাকরি পেতে সুবিধা পেয়েছেন। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন।
সালাহ উদ্দিনের চাকরির নথিপত্র খুঁজলে তার ছাত্রলীগের প্যাড ব্যবহার করার প্রমাণ মিলবে।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল সালাহ উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাদকের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, বনের জমি আমার নামে দিয়েছিল ঠিক এসব আমি পুলিশ হওয়ার আগে। এখন নই। আমার পরিবারের বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি ছাত্রলীগ ছিলাম না। বাবা আওয়ামীলীগ করেনি। তাহলে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলায় আপনার বাবা আসামি কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন এসব ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।

সালাহ উদ্দিনের বাবা অভিযুক্ত নুরুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলায় আসামি হওয়ার স্বীকার করে বলেন, আমি কারো জমি জবরদখল করিনি। বনের প্লট দিয়েছিল আমার ছেলেকে। এটাতে আমি দোকান নির্মাণ করেছি।

সমকামিতার দায়ে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল, কারাদণ্ড

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
সমকামিতার দায়ে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল, কারাদণ্ড
শেয়ার করুন

রাজধানীর সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে সমকামিতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগে চার শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে। এক বহিরাগতসহ পাঁচজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়। ইতিমধ্যে সেই মেয়াদও শেষ হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন কলেজ শাখা ছাত্রদলের পদধারী নেতা।

 

 

শাস্তিপ্রাপ্ত চার শিক্ষার্থী হলেন বিএএএমএস (আয়ুর্বেদিক) ৩৩ ব্যাচের আহসানুল ইসলাম চৌধুরী, ৩৪ ব্যাচের মহিবুর রহমান নয়ন ও রাব্বি হোসেন ওরফে আরিয়ান শাহ রাব্বি এবং বিইউএমএস (ইউনানী) ৩৫ ব্যাচের শাহরিয়ার পলক। এদের মধ্যে আরিয়ান শাহ রাব্বি ও মহিবুর রহমান নয়ন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

 

গত ২২ এপ্রিল রাতে কলেজের মসজিদের গলি থেকে শাহরিয়ার পলককে এক বহিরাগতের সঙ্গে উলঙ্গ অবস্থায় আটক করা হয়। জেরায় তিনি ক্যাম্পাসের আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন, যাদের মধ্যে আরিয়ান রাব্বি, নয়ন ও আহসানও ছিলেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কাফরুল থানায় হস্তান্তর করে।

 

একই দিন ২৩ এপ্রিল জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ছাত্রাবাস থেকে তাদের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোস্টেল সুপার ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মকছেদ আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমকামিতায় আসক্ত সন্দেহে তাদের থানায় সোপর্দ এবং আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, জেরায় অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে উদ্বেগজনক তথ্য বের হয়ে আসে। তারতা দাবি, এই চারজন প্রায় ৪০টি সমকামী গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া হোস্টেলের অন্য শিক্ষার্থীদের সমকামিতায় প্রলুব্ধ করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আরিয়ান রাব্বির ডেস্ক থেকে যৌনচর্চায় ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের অর্ধনগ্ন ছবি তুলে সমকামী গ্রুপে শেয়ার করার প্রমাণও মিলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

একই শিক্ষক আরও জানান, আটক একজন শিক্ষার্থী এইডসে আক্রান্ত এবং অনুরূপ কর্মকাণ্ডের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়ে এই ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ২৮ ও ৩৩তম ব্যাচের আরও অন্তত তিনজনের নাম উঠে এসেছে।

 

কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছিল এবং সেই মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে তাদের সিট বাতিল করা হলেও ছাত্রত্ব বহাল থাকবে বলে তিনি জানান।

ঢাকার সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
ঢাকার সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া
শেয়ার করুন

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া আগামী জুন থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাদের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত ও সংখ্যা হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি জানিয়েছে, আকাশপথের বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জেট ফুয়েলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এই পরিবর্তনের ফলে ঢাকা ছাড়াও শিকাগো, সাংহাই, সিঙ্গাপুর ও মালের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর আকাশপথে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সরাসরি প্রভাবিত হবেন। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল করে যাত্রীদের বিভ্রান্তিতে ফেলার চেয়ে আগেভাগেই এই যৌক্তিক সমন্বয় বা রেশনালাইজেশন করা হয়েছে যাতে শিডিউলের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

 

সংস্থাটির নতুন সূচি অনুযায়ী, এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে মুম্বাই-ঢাকা রুটের সরাসরি ফ্লাইট সাময়িকভাবে পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি থেকে ঢাকা, কাঠমান্ডু, কলম্বো, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা সাপ্তাহিকভবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

 

 

উত্তর আমেরিকার ক্ষেত্রে দিল্লি-শিকাগো সার্ভিসটি আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং দিল্লি থেকে টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারগামী ফ্লাইটের সংখ্যাও হ্রাস করা হয়েছে। তবে ইতিবাচক খবর হলো, মুম্বাই থেকে নেওয়ার্ক রুটে এখন থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট চলাচল করবে। ইউরোপের ক্ষেত্রে প্যারিস, রোম, জুরিখ, ভিয়েনা ও কোপেনহেগেনের মতো শহরগুলোতেও এয়ার ইন্ডিয়ার নিয়মিত ফ্লাইটের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় কম হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

এয়ার ইন্ডিয়া স্পষ্ট করেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংস্থাটি আশ্বস্ত করেছে, এই সমন্বয়ের পরেও তারা প্রতি মাসে পাঁচটি মহাদেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ১ হাজার ২০০-র বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।

 

এর মধ্যে উত্তর আমেরিকায় সপ্তাহে ৩৩টি, ইউরোপে ৪৭টি এবং যুক্তরাজ্যে ৫৭টি ফ্লাইট সচল থাকবে। এ ছাড়া দূরপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর (সার্ক) জন্য সপ্তাহে ১৫৮টি ফ্লাইট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মূলত ব্যয়বহুল দীর্ঘ রুটের ফ্লাইটগুলোর সক্ষমতা যাচাই করতেই এই সাময়িক কাটছাঁট করা হয়েছে।

 

যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তন হয়েছে, তাদের সরাসরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা চাইলে বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং, ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন অথবা টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সংস্থাটি যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা কেবল এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলের তথ্যের ওপর ভরসা রাখেন।

 

এ ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট রুটের আপডেট জানতে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নেটওয়ার্ককে আরও সুসংগঠিত করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি

হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
শেয়ার করুন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ছররা গুলিতে খাদেমুল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গভীর রাত ২টার দিকে সীমান্তের বনচৌকি বিওপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত খাদেমুল উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার ৯০৫/৬ এস-এর প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাকারবারি কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় আঘাত লাগে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।