খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ, ১৪৩২

সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষার সব আবেদন ফি বাতিল করবে জামায়াত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষার সব আবেদন ফি বাতিল করবে জামায়াত
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে সব ধরনের আবেদন ফি নেওয়ার প্রথা বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষার সব স্তরে ভর্তি পরীক্ষার ফি নেওয়া বন্ধ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

 

ইশতেহারে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য যে ফি নেওয়ার রীতি আছে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে এ নিয়ম বাতিল করা হবে।

 

শিক্ষাব্যবস্থা অংশে ১৯ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, শিক্ষাকে সহজ ও সর্বজনীন করার লক্ষ্যে সব স্তর (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি) থেকে ভর্তি পরীক্ষা ফি বাদ দেওয়া হবে।

 

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে ‘ভিশন: সবার আগে যুবসমাজ’ অংশে। এর ১০ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ রয়েছে, যোগ্যরাই সরকারি চাকরিতে, বয়স কোনো বাধা নয়- এ নীতি অনুসরণ করা হবে।

 

অন্যদিকে, শিক্ষাব্যবস্থা অংশের ৪২ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে, অষ্টম শ্রেণির পর থেকে হায়ার সেকেন্ডারি বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে চারটি পৃথক ধারায় বিভক্ত করা হবে। সেগুলো হলো- ইসলামিক শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা।

 

ইশতেহারে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে আরও বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, দলটি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সমন্বয়ে স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। শিক্ষা বাজেট বাড়িয়ে জিডিপির ৬ শতাংশ করার কথাও তুলে ধরা হয়েছে ইশতেহারে।

 

আর্থিকভাবে অসচ্ছল কোনো শিক্ষার্থী বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলে বিনা সুদে প্রথম দুই সেমিস্টার ফি সরকার প্রদান করবে। আর দেশের ভেতর দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

 

স্নাতক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ারও ঘোষণা রয়েছে ইশতেহারে।

 

স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক নিয়োগ পদ্ধতি ও বেতন কাঠামো প্রচলন করা হবে। এছাড়া, সব শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে উচ্চ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে দলটি। ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়েছে, জামায়াত সরকার গঠন করলে ইবেতদায়ি মাদরাসাগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি করা হবে। পরিমার্জন করা হবে কওমি শিক্ষা সিলেবাসও।

 

নারীশিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। এতে বলা হয়েছে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে স্নাতক পর্যন্ত নারীরা বিনা বেতনে পড়াশোনা করতে পারবেন।

 

শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ, শিক্ষায় সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়নসহ বেশ কিছু পরিকল্পনার কথাও রয়েছে জামায়াতের ইশতেহারে।

জামায়াত সদস্যের বাড়িতে অভিযান, ক্রিকেটের ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত সদস্যের বাড়িতে অভিযান, ক্রিকেটের ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার
শেয়ার করুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে জামায়াতের এক সদস্যের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ক্রিকেট খেলার ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয় সুত্র খবর পেয়ে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সূত্রাপুর থানা পুলিশ ১০তলা বাড়িটিতে অভিযান চালায়। তিন ঘন্টারও বেশি সময় উদ্ধার অভিযানে বাড়ির নিচতলা ও ওপরের একটি কক্ষ থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় থাকা এসব স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়।

 

 

অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। এই ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে বাড়ির মালিককে। তবে কাউকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ১০তলা এই ভবনটিতেই কসমোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, এটি একটি ভোটকেন্দ্রও।

বিএনপির জন্য ভোট চাওয়া আ.লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে থানা ঘেরাও

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
বিএনপির জন্য ভোট চাওয়া আ.লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে থানা ঘেরাও
শেয়ার করুন

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের নির্বাচনি প্রচারে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসার অভিযোগ উঠেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের গ্রেফতার দাবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শিবচর থানায় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ‘শিবচরের সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়েছেন।

 

এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তারের উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আলোচিত কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোটও প্রার্থনা করেন।

 

বিষয়টি নিয়ে বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

 

 

পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসা ও আসন্ন নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তোলেন শিবচরের ‘জুলাই যোদ্ধারা’। পরে তারা একত্র হয়ে ‘সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শিবচর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ব্যানার–ফেস্টুন হাতে নিয়ে অর্ধশত ব্যক্তি থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা থানার ওসি শফিকুল ইসলামের কাছে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

 

আন্দোলনকারী ব্যক্তিদের পক্ষে বক্তব্য দেন শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করে ওসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় আমরা ওসিকে দিয়েছি। এর মধ্যে যদি প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী দোসরদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে পাঁচ হাজার লোক নিয়ে আমরা থানা ঘেরাও করবো। এটাই আমাদের কর্মসূচি। আমরা প্রশাসনের কাছে জবাব চাই। দীর্ঘ ১৭ বছর যারা স্বৈরাচর ছিলেন, তারা কীভাবে প্রকাশ্যে এসে রাজনীতি করেন? এটা কোনও ভাবেই শিবচরের জনগণ মেনে নেবে না।’

 

জানতে চাইলে শিবচর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তারা আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের যারা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হয়েছেন, তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের স্মারকলিপি আমরা গ্রহণ করে আশ্বস্ত করেছি, যারা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত বা যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ দিলেন কিশোরী তিন বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ দিলেন কিশোরী তিন বোন
শেয়ার করুন

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় একসঙ্গে তিন নাবালিকা বোনের আত্মহত্যার খবর সামনে এসেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) শহরের একটি আবাসিক সোসাইটির ৯ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে তারা প্রাণ হারায়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন বোনের নাম বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। আত্মহত্যার আগে তারা নিজেদের ঘরের দরজা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে রাখে। ভোররাতে আশপাশের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে থাকায় ঘটনাটি কেউ টের পাননি। পরে নিচে পড়ার বিকট শব্দে এলাকাবাসীর ঘুম ভেঙে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে জানতে পারেন, ততক্ষণে তিন বোন ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছে।

 

 

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন বোন দীর্ঘদিন ধরে একটি কোরিয়ান অনলাইন গেমে অতিমাত্রায় আসক্ত ছিল। এই গেমে আসক্তিই পারিবারিক অশান্তির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। করোনাকালীন সময় থেকে তারা অনলাইনে গেম খেলায় এতটাই ডুবে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দেয়। এমনকি গেমের প্রিয় চরিত্রের অনুকরণে নিজেদের জন্য কোরিয়ান নাম ব্যবহার করত বলেও জানা গেছে।

গেমে অতিরিক্ত আসক্তির প্রভাব তাদের দৈনন্দিন আচরণেও পড়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা প্রায় সব কাজ—খাওয়া, ঘুমানো, এমনকি গোসলও—একসঙ্গেই করত এবং বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ ক্রমেই কমিয়ে দিচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যেখানে কান্নার ইমোজির সঙ্গে লেখা ছিল, “দুঃখিত, বাবা।” এই সংক্ষিপ্ত বার্তাটি পরিবার ও তদন্তকারীদের আবেগাপ্লুত করে তুলেছে।

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধরা হলেও পারিবারিক পরিস্থিতি, মানসিক অবস্থা, অনলাইন গেমে আসক্তি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানী ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক চাপ, একাকিত্ব এবং অনলাইন আসক্তির বিষয়টি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগ, নিয়মিত মানসিক সহায়তা এবং অনলাইন ব্যবহারে সচেতন নজরদারি থাকলে এমন অনেক মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই ঘটনা তাই শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমাজের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।