জামায়াত নেত্রীকে কু*পি য়ে জ/খ/ম করল যুবদল
রাজধানীর কদমতলীতে নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর নারী নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবিকে (৫২) রামদা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করেছে যুবদলের নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার কদমতলীর ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের ডিপটির গলি এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মারিয়া ইসলাম বেবি জামায়াতের রুকন ও স্থানীয় মহিলা নেত্রী। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রচারণায় অংশ নিতে মারিয়া ইসলাম বেবি ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের চাচাতো ভাই ও যুবদল নেতা রমজানের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র কর্মী তাদের মিছিলে বাধা দেয়। সন্ত্রাসীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা বন্ধ করতে বলে এবং জামায়াত প্রার্থীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য শুরু করে।
একপর্যায়ে তারা সরু একটি গলির ভেতর মহিলা নেত্রীদের ঘিরে ফেলে। যুবদল নেতা রমজানের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা রামদা দিয়ে মারিয়া ইসলাম বেবির মাথায় লক্ষ্য করে কোপ দেয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা গভীর জখম হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা ও এক রিকশাচালক তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তার মাথায় চারটি সেলাই দিয়েছেন।
এ দিকে হামলার প্রতিবাদে এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘পরাজয়ের ভয়ে উন্মত্ত হয়ে যুবদলের সন্ত্রাসীরা আমাদের নারী নেত্রীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না থাকায় তারা এভাবে বিরোধী মতের ওপর সশস্ত্র চড়াও হওয়ার সাহস পাচ্ছে।’
নেতারা আরো বলেন, যারা ক্ষমতার বাইরে থাকতেই মা-বোনদের রক্ত ঝরাচ্ছে, তারা বিজয়ী হলে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা সহজেই অনুমেয়। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, যুবদল নেতা রমজানসহ চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার না করলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এর জবাব দেয়া হবে।
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, জামায়াতের একজন নারী কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার খবর তারা পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ না পেলেও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হামলার পর থেকে কদমতলী ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জামায়াত নেত্রীর ওপর এ হামলার পর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় এ ধরনের সহিংসতা সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

আপনার মতামত লিখুন