খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তেলবাহী ট্রাক ঢুকে পড়লো দোকানে, নিহত ২

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তেলবাহী ট্রাক ঢুকে পড়লো দোকানে, নিহত ২
শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কবিরহাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি তেলবাহী ট্রাক দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ট্রান্সমিটার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কবিরহাট থানা–র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া।

 

 

পুলিশ জানায়, নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে কবিরহাট যাওয়ার পথে ট্রান্সমিটার এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন এবং আরও তিনজন আহত হন।

 

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীতে জঙ্গি সন্দেহে চারজন গ্রেপ্তার, অস্ত্র-ড্রোন-জিহাদি বই উদ্ধার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে জঙ্গি সন্দেহে চারজন গ্রেপ্তার, অস্ত্র-ড্রোন-জিহাদি বই উদ্ধার
শেয়ার করুন

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, জিহাদি বই, ড্রোনসহ বিস্ফোরক দ্রব্য ও সামরিক পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

পুলিশের দাবি, তারা বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার পরিকল্পনা করছিলেন।

 

 

গ্রেপ্তার চারজন হলেন মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)। ইমরান ও মোস্তাকিম আপন ভাই এবং তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায়। রিপনের বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় এবং আবু বক্করের বাড়ি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের রূপনগর এলাকায়।

 

গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের তারা মসজিদ-সংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকার একটি বাসা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে মোস্তাকিমকে এবং সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর শিকসন ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকা থেকে রিপন ও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা মিয়ানমারকেন্দ্রিক রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা রাজধানীতে সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও গুপ্ত হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ লক্ষ্যে অস্ত্র, গুলি, ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন তারা। উদ্ধার করা সামরিক পোশাকগুলো আরসার বলে পুলিশের ধারণা। তবে ডিবির আরেকটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

বিকেলে ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’ উগ্রবাদীরা হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাথাচাড়া দিচ্ছে এমনটি বলব না, আমি শুধু বলব যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে যারা জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মানুষের আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
মানুষের আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে
শেয়ার করুন

বাংলাদেশে মানুষের তৈরি করা আইনের ‘কবর[’ রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান।

 

 

বুধবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

 

তিনি বলেছেন, আমাদের ফখরুল ইসলাম সাহেব (বিএনপি মহাসচিব) বলেছিলেন, ‘আমরা শরিয়তের আইন বিশ্বাস করি না’। পরে অবশ্য আত্মসমর্পণ করে নির্বাচনের আগে বলেছেন শরিয়তের বিরুদ্ধে আমরা কোনো আইন পাস করবো না। ধন্যবাদ উনাকে, অন্তত তওবা করে ফিরে এসেছেন।

 

তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর আইন চাই। আপনারা (বিএনপি) আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবেন না বলেছেন। অতএব আসুন, বাংলাদেশে মানুষের আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করি।

 

দেশে ইসলামী আইন চালু করার জন্য একটি ইসলামী বোর্ড গঠন করারও আহ্বান জানান জামায়াতের এ সংসদ সদস্য। এ জন্য তিনি মাদ্রাসা থেকে পাস করা সংসদ সদস্য এবং সংসদের বাইরে যত মাযহাবের আলেম আছেন, তাঁদের নিয়ে এ বোর্ড গঠন করার পরামর্শ দেন। তার মতে এ বোর্ড ইসলামী আইন চালু করার পরামর্শ দেবে এবং দেশে সেই আইন কার্যকর হবে।

 

তিনি বলেন, সংসদ ভবনে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ঈমান’ লেখা আছে। তাই আইনের উৎস হওয়া উচিত আল কোরআন। তার ভাষায়, ‘কোরআনের বিধান বাংলাদেশে চালু হওয়া উচিত ছিল।’

 

মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের ‘অধিকাংশ মানুষ’ কোরআনে বিশ্বাস করে এবং কোরআনের বিধান প্রতিষ্ঠা করা ‘তাদের দাবি’উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, পবিত্র কোরআনের ৬ হাজার ৬৬৬টি আয়াতের মধ্যে ১ হাজার আয়াত আছে ‘হ্যাঁ–বোধক’ আইন। ১ হাজার আয়াত আছে না বোধক। এগুলো বাংলাদেশে কায়েম করতে হবে।

 

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, সূরা হজের ৪১ নম্বর আয়াতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

 

কোরআনের আয়াতের অনুবাদ করে তিনি বলেন, যারা রাষ্ট্রক্ষমতা পাবে তারা দেশে নামাজ চালু করে মানুষের চরিত্র ভালো করে দেবে এবং যাকাত চালু করে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব দেশ থেকে বিতাড়িত করবে। ভালো কাজ করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে, খারাপ কাজ বন্ধ করে অশান্তির আগুন থেকে মানুষকে রক্ষা করবে।

 

মুজিবুর রহমান বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য আওয়ামী লীগ এসেছে ছয়বার, বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি দুইবার- এতগুলা সরকার এলেও জাতীয় সংসদে কোরআনের একটি আইনও চালু করে নাই। আমরা এদেশে কোরআনের আইন চালু করে মানুষকে মুক্তি দেবো। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, আপনাকেও জিজ্ঞাসা করা হবে আমাকেও করা হবে, বাংলাদেশে কেন নামাজ চালু করা হলো না? কেন যাকাত চালু করে ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্ব দেশ থেকে দূর করা হলো না? কেন ভালো কাজ চালু করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হলো না? কেন খারাপ কাজগুলো বন্ধ করে অশান্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করা হলো না?

 

মুজিবুর রহমান বলেন, ‘টিকিট বিক্রির একটা কথা হয়েছে। কোরআনের একটি আয়াতকে কেন্দ্র করে ভুল–বোঝাবুঝি হচ্ছে। আল্লাহ–তাআলা সূরা তওবার ১১১ নম্বর আয়াতে বলেছেন, আল্লাহ–তাআলা জানমালকে কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। এটা আল্লাহর কথা, আপনি জানমাল দেবেন, জান্নাতে যেতে পারবেন। জানমাল আল্লাহর পথে দেবেন না, আপনার কপালে জান্নাত হবে না।’

 

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম, জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতা বলেছে, আমার কাছে জান্নাতের টিকিট আছে, বিক্রি করছি? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে, কেন তিনি এটা বলছেন।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় পরিশোধের সময় ২৮ বছর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় পরিশোধের সময় ২৮ বছর
শেয়ার করুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সব সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে শুরুতে প্রতি ইউনিটের খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এখন দাম প্রায় ১২ টাকা পড়তে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তিতে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। প্রায় ৬০ বছর আয়ুষ্কালের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরো ৩০ বছর পর্যন্ত চালু রাখা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ অত্যন্ত কম, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক। একই সঙ্গে কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাবে এই কেন্দ্র। পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক থাকলেও আধুনিক বাস্তবতায় এটি এখন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়।

প্রথমে ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট ট্যাবলেটের মতো জ্বালানি দানা (প্যালেট) বানানো হয়। এগুলোর ব্যাস সাধারণত আট থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার। এমন অনেক জ্বালানি দানা প্রায় চার মিটার দীর্ঘ ধাতব নলের ভেতরে সাজিয়ে তৈরি হয় জ্বালানি রড। আবার নির্দিষ্ট কাঠামোয় অনেক রড একসঙ্গে যুক্ত করলে তৈরি হয় জ্বালানি বান্ডেল বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান
এরপর আসে আরো কয়েকটি চালান। বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে অক্টোবরে রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হয় জ্বালানি। এরপর এটি মজুদ করে রাখা হয় রূপপুরে। অতিরিক্ত একটিসহ মোট ১৬৪টি বান্ডেল দেশে আনা হয়। রূপপুরে ব্যবহৃত প্রতিটি বান্ডেলে ৩১২টি জ্বালানি রড আছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই জ্বালানি বান্ডেল চুল্লির কেন্দ্রে বসানো হচ্ছে। প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি বসালে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ব্যবহৃত জ্বালানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকে। তাই তা বিশেষ নিরাপত্তায় রাশিয়ায় নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে প্রতিটি জ্বালানি বান্ডেলের হিসাব থাকবে।

রি-অ্যাক্টরের ডিজাইন অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রি-অ্যাক্টর কোরে স্থাপন করতে হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করে সম্পন্ন করতে হয় এবং বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ। এ পর্যায়ে ডিজাইন অনুযায়ী নিউক্লিয়ার ফিশন রি-অ্যাকশন ঘটানো হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, যার জন্য প্রায় ৩৪ দিন সময় প্রয়োজন হবে। পরীক্ষা শেষে রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে পর্যায়ক্রমে ৩ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৪০ দিন। রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ৩ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি চলবে নিরাপত্তাবিষয়ক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।

নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। অর্থাৎ এই সময়ে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। এরপর বাংলাদেশকে জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে। তবে সেই জ্বালানি দুই বছর পর পর পরিবর্তন করলেই চলবে।