খুঁজুন
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

৬৫০ মার্কিন সেনা নিহতের দাবি, জানা গেল আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ণ
৬৫০ মার্কিন সেনা নিহতের দাবি, জানা গেল আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য
শেয়ার করুন

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ নামের প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ইরানি হামলায় ৬৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলেও জানানো হয়। এ সংবাদ জানিয়েছে তেহরানভিত্তিক আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Ali Mohammad Naeini বলেন, ইরানি বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও নৌসম্পদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

তার দাবি, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একটি হামলায় ১৬০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ ইরানি নৌ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

নাঈনির ভাষ্য, ইরানি নৌবাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত USS Abraham Lincoln-এর দিকে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার পর রণতরীটি দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের দিকে সরে যায় বলে দাবি আইআরজিসির।

তিনি বলেন, “যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র এসব হতাহতের তথ্য অস্বীকার বা গোপন করতে পারে, কিন্তু আমাদের গোয়েন্দা তথ্য ও যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিবেদন এ সংখ্যাকে নিশ্চিত করেছে।”

‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ চলমান মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানায় আইআরজিসি।

তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং হতাহতের এ সংখ্যার স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।

এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা তানভীরের বিদেশযাত্রায় বাধা নেই

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা তানভীরের বিদেশযাত্রায় বাধা নেই
শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্য সচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লকের আদেশ প্রত্যাহার করেছেন আদালত।

 

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ গত রবিবার (১ মার্চ) শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। বিষয়টি মঙ্গলবার দুদক নিশ্চিত করেছে। দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, “গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি আনব্লক চেয়ে করা আবেদন শুনানি শেষে আদালত মঞ্জুর করেছেন।”

 

 

তানভীরের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান শেষ হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক আদালতকে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লকের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়।

 

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে গঠিত দল এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতা তানভীরের ‘হঠাৎ বিলাসী জীবন’ এবং সামাজিক মাধ্যমে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনার জন্ম হয়।

 

দুর্নীতির অভিযোগের পর ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল এনসিপি তাকে যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়। ওই সময়ে জেলা প্রশাসক নিয়োগ ও এনসিটিবির বই প্রকাশ সংক্রান্ত ‘কমিশন বাণিজ্য’ ও হস্তক্ষেপের অভিযোগে তার বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

এরপর ২৭ মে দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লকের আদেশ জারি করা হয়। তবে বর্তমানে আদালতের আদেশে সেই বাধা তুলে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানল ইরানি মিসাইল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানল ইরানি মিসাইল
শেয়ার করুন

কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল। বুধবার (৪ মার্চ ) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে চারটার দিকে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। খবর আল জাজিরা

 

তারা বলেছে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান দোহার দিকে দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে। এরমধ্যে একটি প্রতিরক্ষা মিসাইল দিয়ে প্রতিহত করা হয়। অপর একটি মিসাইল আল-উদেইদ ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানে।

 

এই ঘাঁটিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এটি মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। তবে মিসাইল হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কাতারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেট ভবনে ড্রোন হামলা করেছে ইরান। এ ঘটনায় ভবিনটির কাছে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনার পর কনস্যুলেটের আশপাশ এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা যাচাই করেছে বলে জানিয়েছে, সেগুলোতেও ঘটনাস্থলের কাছ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

 

 

দুবাই মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন কনস্যুলেটের নিকটবর্তী এলাকায় একটি ড্রোন হামলার ঘটনা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনায় কোনও ব্যক্তি আহত হননি এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

 

এর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও হতাহতের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা
শেয়ার করুন

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব ও চাপে ‘এসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে এই পদে নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্দার আড়ালে থেকে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সক্রিয় থাকা মোজতবা খামেনি এখন দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় প্রধান।

 

 

১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের মাশহাদ শহরে এক ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া মোজতবা ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ছেলে। ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পরপরই তিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীতে (আইআরজিসি) যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি কোম শহরের সেমিনারিতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেন।

 

মোজতবা খামেনি মূলত ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর একজন প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। বাবার দপ্তরে কাজ করার সুবাদে তিনি সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে তোলেন। তাকে ইরানের ক্ষমতার অন্যতম কারিগর (পাওয়ার ব্রোকার) হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে তার এই ক্ষমতা আরোহণের বিষয়টি বিতর্কহীন ছিল না। ২০০৫ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বিজয়ে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

এছাড়া ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী আন্দোলন এবং ২০২২ সালে জিনা মাহসা আমিনীর মৃত্যুর পর দেশব্যাপী চলা বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে কোম সেমিনারের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি মাধ্যম তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করে। একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবে যে ধরনের উচ্চতর পাণ্ডিত্য ও গ্রহণযোগ্যতার প্রয়োজন হয়, তা না থাকা সত্ত্বেও এই উপাধি ব্যবহার তার উত্তরসূরি হওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই বিবেচিত হয়েছিল।

 

 

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন যখন ইরান গভীর ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন বাবার ছায়ায় থেকে পর্দার আড়ালে কাজ করলেও, এখন থেকে তাকে প্রকাশ্যে ইরানের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হবে।