“সিসি ক্যামেরার ফুটেজগুলোও সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।”
এসএসসি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার উপপরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী।
তিনি বলেন, সব কেন্দ্রসচিব ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
রোববার ফারুকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় একগুচ্ছ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
“এসএসসির সবগুলো কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজগুলোও সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে ওই নির্দেশনা।”
এ বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে। বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে পরীক্ষা শুরু হবে, যা (তত্ত্বীয়) শেষ হবে ২০ মে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে।
এ পরীক্ষা আয়োজনে সবগুলো পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য শনিবার ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, যা রোববার প্রকাশ করা হয়েছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে সরকার শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণে নির্বাচিত প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রসহ কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপণ নিশ্চিত করতে হবে।
যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল বা অকেজো অবস্থায় রয়েছে, সেসব পরীক্ষা কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা শুরুর আগেই সচল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক তা সরবরাহ করতে হবে।
নির্দেশনায় প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে ‘কাটাওয়ালা’ ঘড়ি টানানোর ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের সাথে পরামর্শ করে পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা করতে কেন্দ্রসচিব ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বলেছে অধিদপ্তর।
একইসঙ্গে কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষার হলে কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষার্থী যেন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।
কোনো পরীক্ষার্থী যেন কোনোভাবেই এ পরীক্ষায় নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রসচিব ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। মেয়ে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করবেন মহিলা শিক্ষক।
নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা টানিয়ে দিতে হবে এবং প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নসহ পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া বোর্ডগুলো ও অধিদপ্তর থেকে দেওয়া নির্দেশনা ‘যথাযথভাবে’ পালন করতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তর বলেছে, “নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালনে কোন প্রকার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
গত ২৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তুলে ধরেছে অধিদপ্তর।

আপনার মতামত লিখুন