কক্সবাজার শিক্ষাসফরে যাওয়ার পথে সাতকানিয়ায় বাস উল্টে নিহত শিক্ষকসহ ২ জন
আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর নতুন অভিজ্ঞতার প্রত্যাশা নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সবার মনে ছিল সমুদ্র দেখার স্বপ্ন, একসঙ্গে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত কাটানোর প্রত্যাশা। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই মুহূর্তের মধ্যে রূপ নিল বিষাদে।
পতিমধ্যে কক্সবাজারে শিক্ষাসফরে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস উল্টে গেছে। এতে এক মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবক আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার ভোর চারটার দিকে উপজেলার কেরানীহাট রেলক্রসিং-সংলগ্ন খুনি বটতল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সোহানা আফরোজ (৪৫) ও একই মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক নাদেরা আফরোজের স্বামী সাখাওয়াত হোসেন (৫৬)।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহতদের পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। অন্যদিকে আহতদের নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
যে শিক্ষাসফর শিক্ষার্থীদের জীবনে আনন্দময় স্মৃতি হয়ে থাকার কথা ছিল, সেই সফরই হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক স্মৃতি। কক্সবাজারের নীল সমুদ্র দেখার স্বপ্ন নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষগুলোর যাত্রাপথে এমন করুণ পরিণতি কারও কাম্য ছিল না।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় , গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মাদ্রাসা থেকে দুটি বাসে করে শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবক কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ভোর চারটার দিকে পেছনে থাকা বাসটি কেরানীহাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পশ্চিম পাশের ডোবায় পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার জানান,আমাদের ধারণা, দ্রুতগতি ও চালকের চোখে ঘুম থাকার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। দুজনের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত বাস বর্তমানে থানা হেফাজতে আছে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন