খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

কাঠুরিয়াকে ধরে নেয়ার ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা

নাইক্ষ্যংছড়ি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ
কাঠুরিয়াকে ধরে নেয়ার ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা
শেয়ার করুন

বাংলাদেশী কাঠুরিয়াকে সীমান্ত চৌকি নিয়ন্ত্রন নেয়া মিয়ানমার বিদ্রোহী আরকান আর্মি কতৃর্ক ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সীসান্তের লোকজন দফায় দফায় মিটিং করে ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বিজিবি নানা তৎপরতা চালাচ্ছে তাকে ফেরত আনতে।

পক্ষান্তরে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায় নি বলে জানিয়েছেন বিজিবি।

১১বিজিবি অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল কপিল উদ্দিন কায়েস বলেছেন,ঘটনাটি জানার পর থেকে নিজ অবস্থান থেকে তাকে ফেরৎ আনতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে বিজিবি।

যেহেতু দু’দেশের বিষয় সুতারাং সহজেই এটি শেষ হচ্ছে না।

স্খানীয় ওয়ার্ড মেম্বার শামশুল আলম বলেন,গত ১০ এপ্রিল সোমবার সকালে বাগান পাহারাদার ও কাঠুরিয়া মুফিজুর রহমান (২৭) কে মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্টি আরকান আর্মি (এএ) ধরে নিয়ে গেছে।

একদল কাঠুরিয়ার সামনেই তাকে ধরে নিয়ে যায় তারা। বর্তমানে তার পরিবারের মাঝে চরম অশান্তি বিরাজ করছে।

মুফিজুর রহমানের স্ত্রী কান্না জড়িত অবস্থায় জানান,ঘটনার দিন সকালে লবন দিয়ে ভাত খেয়ে তার স্বামী কাঠ কাটতে যায়। আজ ৭ দিন তার স্বামী এখনও ফেরৎ আসেনি।

তিনি আরো বলেন তার ২টি সন্তান। ১ টি ৩ বছরের আরেকটি গর্ভে। পৃথিবীতে তার আর কেউ নেই। স্বামী কে সে ফেরৎ চায়। দেশের প্রধান উপদেষ্টার কাছে তার মিনতি তার স্বামীকে ফিরিয়ে আনা হউক।

বারবার মুর্ছা ৬০ বয়সী মা নুরজাহান বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন,তার ৫ মেয়ে ১ ছেলে। সে শ্রমিকের কাজ করে তাদের ভরণপোষণ জোগায়।

ঘটনার দিন তাকে সালাম করে দোয়া চেয়ে বাড়ি থেকে তার ছেলে মুফিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে পিতার করা বাগান পাহারা ও কাঠ আনতে যায়। এ পর্যন্ত সে ফিরে আসেনি।

সে না আসলে মা হিসেবে তার বেঁচে থাকার দরকার নেই। তিনি সরকার বাহাদুরের কাছে তার সন্তানকে ফেরৎ আনার ব্যবস্থা চায়।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম আবু তাহের ও জসিম উদ্দিন বলেন,মুফিজ এলাকার সবচাইতে ভাল ছেলে। সে চোর-ডাকাত-সন্ত্রাসী নয়। তার চৌদ্দ গোষ্টি বাংলাদেশী। সেও বাংলাদেশী।
বার্মার বিদ্রোহীরা কেন তাকে ধরে নিযে গেছে তা তারা বুঝে উঠতে পারছে না।

গত ১০ এপিল থেকে সে আরকান আর্মির হাতে বন্দি রয়েছে।

তারা এ-ও বলেন, মুফিজকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা এ সীমান্তের বৃহত্তর ৩ গ্রামের কযেক হাজার মানুষ ফুঁসে উঠেছে।

গত সোমবার এ সীমান্তের ফুলতলী স্কুল মাঠে সভা করে সীমান্তে কোন ধরণের যোগাযোগে সহায়তা না করার ঘোষণা দেন। মাইকিং করে দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ ও মুফিজুর রহমানকে ফেরৎ চেয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন,বিষয় তিনি জানলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তার বলা ঠিক হবে না। তবে এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ করতে ভূক্তভেগীকে পরামর্শ দেন তিনি।

হাতির পায়ে পিষ্ট মা-মেয়ে, দৌড়ে বাঁচলেন বাবা-ছেলে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
হাতির পায়ে পিষ্ট মা-মেয়ে, দৌড়ে বাঁচলেন বাবা-ছেলে
শেয়ার করুন

ভোরে বাড়ির আশপাশে হঠাৎ বিকট শব্দ। আতঙ্কে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন মো. একরাম মিয়া ও আছমা বিবি। দেখলেন, তিনটি হাতি আশপাশে চালাচ্ছে ভাঙচুর। এরপর এগিয়ে আসতে থাকে একরাম ও আছমার দিকে। ছয় বছরের ছেলে রেহানকে নিয়ে দৌড়ে পালালেন একরাম। তবে হাতির পায়ে পিষ্ট হলেন তার স্ত্রী আছমা ও তিন বছরের মেয়ে ছেমন।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায়। আক্রান্ত দম্পতি রোহিঙ্গা। পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায় বন বিভাগের জমিতে ঘর তুলে থাকছিলেন তারা।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল নিশ্চিত করেছেন এসব তথ্য।

স্থানীয় বেলাল উদ্দিন জানালেন, ভোরের দিকে তিনটি বুনো হাতি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। সৈয়দ কলোনির কয়েকটি ঘরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলে হাতিগুলো। ঘর থেকে বের হয়েই সেগুলোর সামনে পড়ায় প্রাণ হারান আছমা ও তার শিশুকন্যা।

তার ভাষ্য, কয়েক দিন ধরেই খাবারের সন্ধানে বুনো হাতির পাল খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। ‘পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, সবাই অনিরাপদ।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল বললেন, ‘হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।’

বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় আবদুল মাজেদের।

বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিচ্ছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন।

মা-মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ। আর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর।

ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়, প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়, প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত
শেয়ার করুন

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই এখন নজর সবার বুথফেরত জরিপে। আর সেই জরিপেই সবচেয়ে বড় চমক হয়ে উঠেছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়। রাজনীতিতে প্রথমবার অংশ নিয়েই সম্ভাব্য বড় সাফল্যের আভাস দিচ্ছেন তিনি। ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়। বলা যায়, প্রথম নির্বাচনেই করলেন বাজিমাত।

 

নিজের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ নিয়ে এবারের নির্বাচনে অংশ নেন বিজয়। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন। তবে নির্বাচনের আগেই বিজয়ের জনসভায় বিপুল সমর্থক উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে।

 

বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত জরিপ বলছে, প্রথমবার ভোটে অংশ নিয়েই বিজয়ের দল পেতে পারে প্রায় ৯৮ থেকে ১২০টি আসন। তার মার্কায় রীতিমতো ভোটের বন্যা বয়ে গেছে। এই পূর্বাভাস বাস্তব হলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

তবে সব জরিপ একরকম নয়। কিছু সংস্থার মতে, ডিএমকে জোট ১২০ থেকে ১৪৫টি আসন পেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে এআইএডিএমকে জোট পেতে পারে ৬০ থেকে ৮০টি আসন। আবার কিছু জরিপে বিজয়ের দলকে তুলনামূলক কম আসনও দেওয়া হয়েছে।

 

 

এর মধ্যেই কামাখ্যা অ্যানালিটিক্সের মতো কিছু জরিপ বিজয়কে ‘কিংমেকার’ হিসেবেও দেখছে। তাদের মতে, ৬৭ থেকে ৮১টি আসন পেলেও সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তার দল।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮২ শতাংশের বেশি যা রাজ্যের রাজনৈতিক আগ্রহেরই প্রমাণ।

 

এখন দেখার বিষয়, বুথফেরত জরিপের এই আভাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং সত্যিই কি প্রথম নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে পারেন থালাপতি বিজয়।

রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু
শেয়ার করুন

রামুতে বন্য হাতির তাণ্ডবে একই পরিবারের মা ও মেয়েসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার আব্দুল করিমের কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসী জানায়, বণ্য হাতির একটি দল ভোর বেলায় আব্দুল করিম কলোনীতে হানা দেয়। এ সময় হাতি দলটির আক্রমনে মা মেয়ের মৃত্যু হয়। এখনও নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।