খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

টোল আদায় নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫, ২:৩২ অপরাহ্ণ
টোল আদায় নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ
শেয়ার করুন

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি হাটের টোল আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খান ও কেন্দ্রীয় এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধই এদিন রূপ নেয় সংঘর্ষে।চিকনিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান লিমনের অভিযোগ, শিপলু খানের অনুসারী যুবদল নেতা মুকুল প্যাদা অবৈধভাবে হাটের টোল আদায়ের একটি ইজারা নিয়েছিলেন। উপজেলা প্রশাসন তা বাতিল করলেও তিনি সাদা কাগজে চুক্তি দেখিয়ে জোরপূর্বক আদায় শুরু করেন। আমরা বাধা দিলে আমাদের ওপর হামলা হয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

শিপলুপন্থি যুবদল নেতা মুকুল প্যাদা দাবি করেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই আমরা টোল আদায় শুরু করি। কিন্তু লিমন নেতৃত্বাধীন একটি দল এসে বাধা দেয় এবং আমাদের সঙ্গে থাকা তহশিলদার আলতাফ হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।’স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের পরপরই গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাসিম রেজা এবং ওসি আশাদুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় তারা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘হাটটির কোনো ইজারা হয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তহশিলদার খাস আদায় করছেন। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে এই দায়িত্ব দিলে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধ দেখা দেবে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন নেতাদের অবহিত করেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাসিম রেজা ঢাকা পোস্টকে বলেন, চিকনিকান্দি হাটের টোল খাস আদায়ের আওতায় রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় বর্তমানে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আছে। স্থানীয়রা অনেকেই অভিযোগ করেছে এখানে ককটেল ফাটানো হয়েছিল। বিষয়টি ওসি সাহেব তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ককটেল বিস্ফোরণ বিষয়ে জানতে চাইলে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলেই ছিলাম আমরা উভয়পক্ষকে নিভৃত করার চেষ্টা করেছি তবে স্থানীয়রা যেটিকে ককটেল বলছে সেটি ককটেল ছিল না। কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি পটকা ফাটিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় তৎপর রয়েছে।

হাতির পায়ে পিষ্ট মা-মেয়ে, দৌড়ে বাঁচলেন বাবা-ছেলে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
হাতির পায়ে পিষ্ট মা-মেয়ে, দৌড়ে বাঁচলেন বাবা-ছেলে
শেয়ার করুন

ভোরে বাড়ির আশপাশে হঠাৎ বিকট শব্দ। আতঙ্কে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন মো. একরাম মিয়া ও আছমা বিবি। দেখলেন, তিনটি হাতি আশপাশে চালাচ্ছে ভাঙচুর। এরপর এগিয়ে আসতে থাকে একরাম ও আছমার দিকে। ছয় বছরের ছেলে রেহানকে নিয়ে দৌড়ে পালালেন একরাম। তবে হাতির পায়ে পিষ্ট হলেন তার স্ত্রী আছমা ও তিন বছরের মেয়ে ছেমন।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায়। আক্রান্ত দম্পতি রোহিঙ্গা। পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায় বন বিভাগের জমিতে ঘর তুলে থাকছিলেন তারা।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল নিশ্চিত করেছেন এসব তথ্য।

স্থানীয় বেলাল উদ্দিন জানালেন, ভোরের দিকে তিনটি বুনো হাতি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। সৈয়দ কলোনির কয়েকটি ঘরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলে হাতিগুলো। ঘর থেকে বের হয়েই সেগুলোর সামনে পড়ায় প্রাণ হারান আছমা ও তার শিশুকন্যা।

তার ভাষ্য, কয়েক দিন ধরেই খাবারের সন্ধানে বুনো হাতির পাল খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। ‘পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, সবাই অনিরাপদ।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল বললেন, ‘হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।’

বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় আবদুল মাজেদের।

বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিচ্ছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন।

মা-মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ। আর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর।

ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়, প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়, প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত
শেয়ার করুন

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই এখন নজর সবার বুথফেরত জরিপে। আর সেই জরিপেই সবচেয়ে বড় চমক হয়ে উঠেছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়। রাজনীতিতে প্রথমবার অংশ নিয়েই সম্ভাব্য বড় সাফল্যের আভাস দিচ্ছেন তিনি। ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়। বলা যায়, প্রথম নির্বাচনেই করলেন বাজিমাত।

 

নিজের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ নিয়ে এবারের নির্বাচনে অংশ নেন বিজয়। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন। তবে নির্বাচনের আগেই বিজয়ের জনসভায় বিপুল সমর্থক উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে।

 

বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত জরিপ বলছে, প্রথমবার ভোটে অংশ নিয়েই বিজয়ের দল পেতে পারে প্রায় ৯৮ থেকে ১২০টি আসন। তার মার্কায় রীতিমতো ভোটের বন্যা বয়ে গেছে। এই পূর্বাভাস বাস্তব হলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

তবে সব জরিপ একরকম নয়। কিছু সংস্থার মতে, ডিএমকে জোট ১২০ থেকে ১৪৫টি আসন পেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে এআইএডিএমকে জোট পেতে পারে ৬০ থেকে ৮০টি আসন। আবার কিছু জরিপে বিজয়ের দলকে তুলনামূলক কম আসনও দেওয়া হয়েছে।

 

 

এর মধ্যেই কামাখ্যা অ্যানালিটিক্সের মতো কিছু জরিপ বিজয়কে ‘কিংমেকার’ হিসেবেও দেখছে। তাদের মতে, ৬৭ থেকে ৮১টি আসন পেলেও সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তার দল।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮২ শতাংশের বেশি যা রাজ্যের রাজনৈতিক আগ্রহেরই প্রমাণ।

 

এখন দেখার বিষয়, বুথফেরত জরিপের এই আভাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং সত্যিই কি প্রথম নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে পারেন থালাপতি বিজয়।

রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু
শেয়ার করুন

রামুতে বন্য হাতির তাণ্ডবে একই পরিবারের মা ও মেয়েসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার আব্দুল করিমের কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসী জানায়, বণ্য হাতির একটি দল ভোর বেলায় আব্দুল করিম কলোনীতে হানা দেয়। এ সময় হাতি দলটির আক্রমনে মা মেয়ের মৃত্যু হয়। এখনও নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।