ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর গলায় ছুরি ধরে মাকে গণধর্ষণ
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী থেকে মাছ ধরার সময় পিতা-পুত্রসহ ৭ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক জেলেরা হলেন- টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ ডেইল পাড়ার বাসিন্দা আলী আহমেদ ও তার দুই ছেলে নুরুল আবসার ও আব্দুর রহিম, এবং সাবরাংয়ের লাল মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান, নুর আহমেদের ছেলে সাব্বির আহমেদ, গুরা মিয়ার ছেলে নুর আহমদ, মুকুল আলীর ছেলে গুরা মিয়া, নুরু মিয়ার ছেলে আব্দুল মোতালেব।
স্থানীয় জেলে আরাফাত রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীতে ১০-১৫টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরছিলেন। এ সময় রাখাইন সীমান্ত থেকে আসা আরাকান আর্মির সদস্যরা দুটি নৌকাসহ ৭ জন জেলেকে আটক করে নিয়ে যায়।
আটক জেলেদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন সদস্যও রয়েছেন বলে তিনি জানান।
টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, আরাকান আর্মির হাতে জেলে আটকের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
দেশে গত মঙ্গল ও বুধবার (২৮ ও ২৯ এপ্রিল) কোনো ধরনের লোডশেডিং হয়নি বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এক বার্তায় জানায়, ২৮ এপ্রিল দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ১২ হাজার ১৮৩ মেগাওয়াট এবং সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানায়, ২৯ এপ্রিল বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ১০ হাজার ৬১২ মেগাওয়াট, যা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে টানা দুই দিন দেশে কোনো লোডশেডিং হয়নি।
ভোরে বাড়ির আশপাশে হঠাৎ বিকট শব্দ। আতঙ্কে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন মো. একরাম মিয়া ও আছমা বিবি। দেখলেন, তিনটি হাতি আশপাশে চালাচ্ছে ভাঙচুর। এরপর এগিয়ে আসতে থাকে একরাম ও আছমার দিকে। ছয় বছরের ছেলে রেহানকে নিয়ে দৌড়ে পালালেন একরাম। তবে হাতির পায়ে পিষ্ট হলেন তার স্ত্রী আছমা ও তিন বছরের মেয়ে ছেমন।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায়। আক্রান্ত দম্পতি রোহিঙ্গা। পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায় বন বিভাগের জমিতে ঘর তুলে থাকছিলেন তারা।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল নিশ্চিত করেছেন এসব তথ্য।
স্থানীয় বেলাল উদ্দিন জানালেন, ভোরের দিকে তিনটি বুনো হাতি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। সৈয়দ কলোনির কয়েকটি ঘরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলে হাতিগুলো। ঘর থেকে বের হয়েই সেগুলোর সামনে পড়ায় প্রাণ হারান আছমা ও তার শিশুকন্যা।
তার ভাষ্য, কয়েক দিন ধরেই খাবারের সন্ধানে বুনো হাতির পাল খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। ‘পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, সবাই অনিরাপদ।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল বললেন, ‘হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।’
বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় আবদুল মাজেদের।
বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিচ্ছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন।
মা-মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ। আর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর।
আপনার মতামত লিখুন