খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

আবার রোহিঙ্গা ঢলের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
আবার রোহিঙ্গা ঢলের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং আরাকান আর্মির নির্যাতনের কারণে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গা সীমান্তে অপেক্ষায় আছে। সুযোগ পেলেই তারা যে কোনো সময় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এমন পরিস্থিতি হলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মানবিক সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকে এখনও রাখাইনের ভয়াবহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে। আরাকানের বুথিডং থেকে কোনোমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা সেলিম নামে এক যুবক জানান, আরাকান আর্মির নির্যাতনে তিনি মাসহ পরিবারের তিনজনকে হারিয়েছেন। যদিও নিজে প্রাণে বেঁচে আছেন, কিন্তু চোখের সামনে পরিবারের সদস্যদের হারানোর বেদনা তাকে আজীবন তাড়া করবে। ক্যাম্পের ভেতর গিয়ে দেখা যায়, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কারও হাত কেটে নেওয়া হয়েছে, আবার কেউ কেউ আর কখনও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন না।

শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত টানা গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী বলেন, হঠাৎ করেই ওপারের গ্রামগুলোতে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে নাফ নদে থাকা জেলেসহ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগেও দীর্ঘ সময় সীমান্তে মর্টারশেলের বিকট শব্দে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটিয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। হঠাৎ নতুন করে গোলাগুলির শব্দে বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

বিজিবি টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, কিছু লোক সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছেন। কিন্তু কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য পয়েন্টগুলোতে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সতর্কাবস্থানে আছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন।

এদিকে গত এক বছরে নতুন করে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে জানা গেছে। এখনও অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গা সীমান্তে অপেক্ষা করছে। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও অর্ধলক্ষ রোহিঙ্গা প্রবেশের শঙ্কা রয়েছে। কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, সীমান্তে এখন বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্ডার দিয়ে প্রতিনিয়ত মাদক, অস্ত্রসহ নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম বাড়ছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ সর্বদা তৎপর থাকলেও চ্যালেঞ্জ ক্রমেই বাড়ছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, সামরিক জান্তা বা নির্বাচিত সরকার যেই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, মিয়ানমারের নীতির পরিবর্তন না হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, আফগানিস্তান, প্যালেস্টাইন বা ইউক্রেনের শরণার্থীরা তৃতীয় দেশে আশ্রয় পেলেও রোহিঙ্গারা সে সুযোগ পায়নি। ফলে বাংলাদেশে তাদের চাপ বেড়ে যাচ্ছে। সীমান্তে অস্থিরতার মধ্যে বিজিবি সম্প্রতি আরাকান আর্মির এক সদস্যকেও আটক করেছে, যিনি অস্ত্রসহ পালিয়ে এসেছিলেন। নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন মিয়ানমারের নাগরিক।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইনদের নির্যাতনে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। নাফ নদের ওপারে মংডু এলাকা থেকে শুরু হওয়া সেই ঢল অব্যাহত রয়েছে। এবারও একই ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর না হলে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল নামা কেবল সময়ের ব্যাপার।

হাতির পায়ে পিষ্ট মা-মেয়ে, দৌড়ে বাঁচলেন বাবা-ছেলে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
হাতির পায়ে পিষ্ট মা-মেয়ে, দৌড়ে বাঁচলেন বাবা-ছেলে
শেয়ার করুন

ভোরে বাড়ির আশপাশে হঠাৎ বিকট শব্দ। আতঙ্কে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন মো. একরাম মিয়া ও আছমা বিবি। দেখলেন, তিনটি হাতি আশপাশে চালাচ্ছে ভাঙচুর। এরপর এগিয়ে আসতে থাকে একরাম ও আছমার দিকে। ছয় বছরের ছেলে রেহানকে নিয়ে দৌড়ে পালালেন একরাম। তবে হাতির পায়ে পিষ্ট হলেন তার স্ত্রী আছমা ও তিন বছরের মেয়ে ছেমন।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায়। আক্রান্ত দম্পতি রোহিঙ্গা। পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকায় বন বিভাগের জমিতে ঘর তুলে থাকছিলেন তারা।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল নিশ্চিত করেছেন এসব তথ্য।

স্থানীয় বেলাল উদ্দিন জানালেন, ভোরের দিকে তিনটি বুনো হাতি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। সৈয়দ কলোনির কয়েকটি ঘরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলে হাতিগুলো। ঘর থেকে বের হয়েই সেগুলোর সামনে পড়ায় প্রাণ হারান আছমা ও তার শিশুকন্যা।

তার ভাষ্য, কয়েক দিন ধরেই খাবারের সন্ধানে বুনো হাতির পাল খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। ‘পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, সবাই অনিরাপদ।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল বললেন, ‘হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।’

বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় আবদুল মাজেদের।

বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিচ্ছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন।

মা-মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ। আর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর।

ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়, প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়, প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত
শেয়ার করুন

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই এখন নজর সবার বুথফেরত জরিপে। আর সেই জরিপেই সবচেয়ে বড় চমক হয়ে উঠেছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়। রাজনীতিতে প্রথমবার অংশ নিয়েই সম্ভাব্য বড় সাফল্যের আভাস দিচ্ছেন তিনি। ভোটের বন্যায় ভাসলেন থালাপতি বিজয়। বলা যায়, প্রথম নির্বাচনেই করলেন বাজিমাত।

 

নিজের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ নিয়ে এবারের নির্বাচনে অংশ নেন বিজয়। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন। তবে নির্বাচনের আগেই বিজয়ের জনসভায় বিপুল সমর্থক উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে।

 

বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত জরিপ বলছে, প্রথমবার ভোটে অংশ নিয়েই বিজয়ের দল পেতে পারে প্রায় ৯৮ থেকে ১২০টি আসন। তার মার্কায় রীতিমতো ভোটের বন্যা বয়ে গেছে। এই পূর্বাভাস বাস্তব হলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

তবে সব জরিপ একরকম নয়। কিছু সংস্থার মতে, ডিএমকে জোট ১২০ থেকে ১৪৫টি আসন পেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে এআইএডিএমকে জোট পেতে পারে ৬০ থেকে ৮০টি আসন। আবার কিছু জরিপে বিজয়ের দলকে তুলনামূলক কম আসনও দেওয়া হয়েছে।

 

 

এর মধ্যেই কামাখ্যা অ্যানালিটিক্সের মতো কিছু জরিপ বিজয়কে ‘কিংমেকার’ হিসেবেও দেখছে। তাদের মতে, ৬৭ থেকে ৮১টি আসন পেলেও সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তার দল।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮২ শতাংশের বেশি যা রাজ্যের রাজনৈতিক আগ্রহেরই প্রমাণ।

 

এখন দেখার বিষয়, বুথফেরত জরিপের এই আভাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং সত্যিই কি প্রথম নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে পারেন থালাপতি বিজয়।

রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু
শেয়ার করুন

রামুতে বন্য হাতির তাণ্ডবে একই পরিবারের মা ও মেয়েসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার আব্দুল করিমের কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

এলাকাবাসী জানায়, বণ্য হাতির একটি দল ভোর বেলায় আব্দুল করিম কলোনীতে হানা দেয়। এ সময় হাতি দলটির আক্রমনে মা মেয়ের মৃত্যু হয়। এখনও নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।